অধিনায়কোচিত শতরানে নিউজিল্যান্ডকে জেতালেন উইলিয়ামসন

রূপসী বাংলা স্পোর্টস ডেস্ক : দুরন্ত শতরান কেন উইলিয়ামসনের৷ উত্তেজক ম্যাচে ঠাণ্ডা মাথার খুনে ইনিংসেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দলকে জয় এনে দিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক৷ এক্ষেত্রে দলনায়ককে যথাযথ সঙ্গত করেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম৷

বৃষ্টির জন্য ৪৯ ওভারে কমে দাঁড়ানো ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা৷ হাসিম আমলা ও ভ্যান ডার দাসেনের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে প্রোটিয়ারা ৬ উইকেটে ২৪১ রান তোলে৷ জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড৷ ৪৮.৩ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ২৪৫ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায় কিউয়িরা৷

বৃষ্টিভেজা এজবাস্টনে সঙ্গত কারণেই প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন৷ দলনায়কের সিদ্ধান্তকে যথাযথ প্রমাণিত করে নিউজিল্যান্ডকে প্রাথমিক সাফল্যও এনে দেন ট্রেন্ট বোল্ট৷ শুরুতেই তিনি ক্লিন বোল্ড করে সাজঘরে ফেরত পাঠান ওপেনার কুইন্টন ডি’কককে৷ মাত্র ৫ রান করে ক্রিজ ছাড়েন ডি’কক৷

অপর ওপেনার হাসিম আমলা চলতি বিশ্বকাপে পরিচিত ফর্মে না থাকলেও এই ম্যাচে চোয়াল চাপা লড়াই চালান৷ অধিনায়ক ডু’প্লেসি ও মার্করামকে সঙ্গে নিয়ে ৫০ ও ৫২ রানের দু’টি কার্যকরী পার্টনারশিপ গড়েন৷ ডু’প্লেসি ৩৫ বলে ২৩ রান করে ফার্গুসনের বলে বোল্ড হন৷ টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে আমলা ফেরেন স্যান্টনারের বলে বোল্ড হয়ে৷ ফিরে যাওয়ার আগে ৪টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৮৩ বলে ৫৫ রান করেন আমলা৷

মার্করাম ৫৫ বলে ৩৮ রান করে গ্র্যান্ডহোমের বলে মুনরোর হাতে ধরা পড়েন৷ সংক্ষিপ্ত ইনিংসে তিনি ৪টি বাউন্ডারির মারেন৷ ডেভিড মিলার ২টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৩৭ বলে ৩৬ রান করে ফার্গুসনের দ্বিতীয় শিকার হন৷ খাতা খোলার আগেই ফার্গুসন ফিরিয়ে অলরাউন্ডার ফেলুকাওয়োকে৷ ভ্যান ডার দাসেন অপরাজিত থাকেন ৬৪ বলে ৬৭ রান করে৷ তিনি ২টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন৷ ক্রিস মরিস নট-আউট থাকেন ৭ বলে ৬ রান করে৷

লকি ফার্গুসন ৫৯ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নেন৷ চলতি বিশ্বকাপে এই নিয়ে ১১টি উইকেট পকেটে পোরেন কিউয়ি পেসার৷ এছাড়া ১টি করে উইকেট নিয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও মিচেল স্যান্টনার৷ কোনও উইকেট না পেলেও অত্যন্ত কৃপণ বোলিং করেন ম্যাট হেনরি৷ তিনি ১০ ওভার বল করে ২টি মেডেনসহ মাত্র ৩৪ রান খরচ করেন৷

পালটা ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড শুরুতেই কলিন মুনরোর (৯) উইকেট হারিয়ে বসে৷ মার্ডিন গুপ্তিলকে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয় রোধ করেন উইলিয়ামসন৷ দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে ৬০ রান যোগ করেন দু’জনে৷ শেষে গুপ্তিল দূর্ভাগ্যজনকভাবে হিট উইকেট হয়ে ক্রিজ ছাড়েন৷ রস টেলর (১) ও টম লাথামকে (১) পর পর ফিরিয়ে দেন মরিস৷ নিশাম ও গ্র্যান্ডহোমকে সঙ্গী করে নিউজিল্যান্ডকে ধীরে ধীরে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যান উইলিয়ামসন৷

নিশাম ৩৪ বলে ২৩ ও গ্র্যান্ডহোম ৪৭ বলে ৬০ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটা লাগান৷ শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৮ রান দরকার ছিল কিউয়িদের৷ স্যান্টনারকে (২) সঙ্গে নিয়ে যথাযথ ফিনিশিং টাচ দেন কিউয়ি দলনায়ক৷ একটি ছক্কা ও একটি চারের সাহায্যে ব্যক্তিগত শতরান পূর্ণ করার পাশাপাশি দলকে জয় এনে দেন উইলিয়ামসন৷ শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ১০৬ রান করে৷ ১৩৮ বলের ধীর স্থির ইনিংসে ৯টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন উইলিয়ামসন৷ ম্যাচের সেরাও হন তিনি৷

প্রোটিয়াদের হয়ে ৪৯ রানে ৩টি উইকেট নেন মরিস৷ ১টি করে উইকেট দখল করেন কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদি ও ফেলুকাওয়ো৷ এই ম্যাচে জয়ের সুবাদে ৫ ম্যাচে ৪টি জয়সহ ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়াকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চলে আসে কিউয়িরা৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *