জাতিসংঘ

অভিবাসীদের সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে হবে:

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেছেন, অভিবাসী ও তাদের পরিবারবর্গকে বিশ্বব্যাপী ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত করোনাকালে অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক ভার্চুয়াল ইভেন্টে প্রদত্ত উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আন্তর্জাতিক ফেডারেশন (আইএফআরসি), আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত পর্তুগাল ও মরক্কো মিশন এবং ফ্রেন্ডস অব মাইগ্রেশন গ্রুপ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বর্তমানে ফ্রেন্ডস অব মাইগ্রেশন গ্রুপের কো-চেয়ার।

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা পরিধির প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে বিবেচনায় নিয়ে কোভিড-১৯ এর টিকায় সবার সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩১তম বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহ্বান জানানোর কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা নাজুক পরিস্থিতিতে পতিত অভিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ীমূল্যের টিকা, ওষুধ ও সরঞ্জামাদির সহজলভ্যতা নিশ্চিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি পুনরায় এ আহ্বান জানান।

এছাড়াও বিশ্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা পরিধির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নাজুক পরিস্থিতির শিকার অভিবাসীদের সেবাপ্রদান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

করোনাজনিত কারণে লাখ লাখ অভিবাসী ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে মর্মে উল্লেখ করে রাবাব ফাতিমা বলেন, গত জুন মাসে গৃহীত ‘অভিবাসীদের ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ শীর্ষক যৌথ বিবৃতিতে সহ-নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ। ১০৩টি দেশ এই নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন ব্যাক্ত করে। বিবৃতিটিতে সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে জাতীয় ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা নীতি এবং পরিকল্পনায় অভিবাসীদের স্বাস্থ্য চাহিদার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

করোনা মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তাতে অভিবাসী এবং বিদেশ প্রত্যাগত অভিবাসীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অভিবাসনের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবান অভিবাসীই কর্মক্ষম অভিবাসী’। তিনি আইওএম, আইএফআরসি ও ডব্লিউএইচওকে এ বিষয়ক উত্তম অনুশীলন ও নীতিসমূহ পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করার আহ্বান জানান।

এছাড়াও সর্বত্র অভিবাসীদের অধিকার, কল্যাণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে তাদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ, জাতিগত বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা মোকাবিলার জন্য সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার আহ্বানও জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আইএফআরসির সভাপতি ও আইওএম মহাপরিচালক বক্তব্য রাখেন।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension