আন্তর্জাতিকজাতিসংঘপ্রধান খবরবাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মিয়ানমার যেন এড়িয়ে যেতে না পারে: জাতিসংঘের বিশেষ দূত

মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায় মিয়ানমার যেন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ না পায়।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
 
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিশেষ দূত লি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা লজ্জাজনক। তাদের ভূমিকার কারণেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
 
ইয়াং হি লি সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ সফর করে রোহিঙ্গা সংকট পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
 
বাংলাদেশ সফরে এসে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন।
 
আগামী মার্চ মাসে তিনি জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেবেন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে এটিই ছিল বাংলাদেশে তার শেষ সফর।
 
ইয়াং হি লি জানান, তিনি যে মুহূর্তে সংবাদ সম্মেলনে আছেন, তখন পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় সম্পর্কে কিছু জানেন না। তবে আন্তর্জাতিক আদালত যে রায়ই দিন না কেন, তা যেন মিয়ানমার এড়িয়ে যেতে না পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকতে হবে।
 
মিয়ানমমারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তবে তিনি আশা করেন, আদালতের সিদ্ধান্ত মিয়ানমার সরকার মেনে চলবে।
 
ইয়াং হি লি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ চীন ও রাশিয়ার লজ্জাজনক ভূমিকা।
 
তিনি বলেন, চীন বিশ্বের অন্যতম নেতা হওয়ার প্রচেষ্টায় রয়েছে। কিন্তু মানবাধিকারকে সম্মান করা ছাড়া চীনের পক্ষে কখনই বিশ্ব নেতা হওয়া সম্ভব নয়। তাই চীনকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিচার ও জবাবদিহিতা চাইতে হবে।
 
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াং হি লি বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তুলতে না পারার ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে।
 
এ ইস্যুটি আইসিসিতে না নেওয়ার কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এটিকে আর তাদের বাধ্যবাধকতা এবং দায়িত্ব হিসেবে মনে করছে না।
 
তাই নিরাপত্তা পরিষদের ওপর ক্রমাগত চাপ বজায় রাখতে হবে। এ কারণে তিনি শুধু মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল করার জন্য চাপ দিয়ে চলেছেন।
 
জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেন, আগামী মার্চে তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে যে প্রতিবেদন দেবেন, সেখানে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুপারিশ করবেন।
 
রুয়ান্ডা, সিয়েরালিওন ও বসনিয়া হারজেগোভিনায় গণহত্যার বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের মতো একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুপারিশ করবেন তিনি।
 
মিয়ানমার সফর না করেই জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে প্রতিবেদন জমা দেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ইয়াং হি লি বলেন, প্রতিবেদনটি নিয়ে তিনি শতভাগ সন্তুষ্ট। এটি গ্রহণযোগ্য সত্যের ভিত্তিতে তৈরি করা।
 
একই সঙ্গে প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের আচরণবিধি অনুযায়ী পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষ। তবে তার একটিই অনুতাপ রয়েছে, তা হলো- মিয়ানমারে তাকে সফর করতে না দেওয়া। সফর করতে না পারার কারণে তিনি দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।
 
তবে তিনি মনে করেন, সেখানে তাকে সফরের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি মিয়ানমারের বিপক্ষে গেছে।
 
ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত বলেন, এর আগেরবার সফরে এসে তিনি এ বিষয়টির মূল্যায়ন করেছিলেন। এরপর পরিস্থিতি বর্তমানে কোন্‌ পর্যায়ে রয়েছে, তা নিয়ে তার কাছে কোনও তথ্য নেই।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension