আন্তর্জাতিকএশিয়াবাংলাদেশসাক্ষাৎকার

উর্দু বই বাংলায় অনুবাদ করবে পাকিস্তান সরকার!

বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ‘আরো গভীরভাবে’ বিকশিত করার জন্য নিজেদের দেশের কিছু বই বাংলায় অনুবাদের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাই কমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর একটি ‘এক্সক্লুসিভ’ সাক্ষাৎকার থেকে শুক্রবার এ তথ্য জানা গেছে।

পাকিস্তানের পুরস্কারপ্রাপ্ত সংবাদ সংস্থা ডিএনডিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধারণ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে আরও গভীরভাবে বিকশিত করার জন্য সাংস্কৃতিক বিষয়ের বইগুলোকে বাংলায় অনুবাদ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’

দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারের আরও কিছু অংশ পাঠকদের জন্য অনুবাদ করেছেন অমৃত মলঙ্গী


ডিএনডি: আপনি কখন ঢাকায় আসেন? ওই সময় এই দেশ সম্পর্কে আপনার ধারণা কেমন ছিল?

ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী: আমি এ বছরের প্রথম দিকে ঢাকায় এসেছি। ঢাকা সকল পাকিস্তানির জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এটি এমন একটা শহর যেখানে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সংগঠনটি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষে সংগ্রাম করেছিল।

দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ঢাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন।

এটি প্রকৃতপক্ষে আমাদের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায় এবং আমরা এটাকে খুব মূল্যায়ন করি। বাংলাদেশ অনেক গুণের দেশ। এই সুন্দর সমৃদ্ধ দেশ বিশেষ করে তরুণ বাংলাদেশিরা পাকিস্তান এবং পাকিস্তানিদেরে প্রতি মঙ্গল কামনাকারী। অতিথি পরায়ণ।

ঐতিহ্যগতভাবে সর্বস্তরের বাংলাদেশি মানুষ পাকিস্তানকে যে ভালোবাসা দিয়েছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। পাকিস্তানও একইভাবে বাংলাদেশকে সর্বস্তরে শ্রদ্ধা এবং সম্মান করে।

আমরা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করি। আশা করি আগামীতে এই দেশ আরও বেশী প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

ডিএনডি: পাকিস্তানের হাই কমিশনার হিসেবে আপনি কোন্‌ ক্ষেত্রগুলোকে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন?

সিদ্দিকী: পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান। এই সম্পর্কটা দৃশ্যমান হয় তখন, যখন বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানিরা কোথাও সাক্ষাৎ করেন। কেবল এই সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্যই নয়; আমাদের নতুন সম্পর্ক তৈরিরও দরকার রয়েছে। সুতরাং জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগের সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি উভয় সরকারকেই এই সম্পর্ক জোরালো করার জন্য মনোযোগ দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি নেতৃত্বকে সম্মানজনকভাবে দেখেন। পাকিস্তানি ভিসাতে বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্টভাবে কোনও বাধা নেই। বাংলাদেশে শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা পাকিস্তানে তাদের সমমনা মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়। একইভাবে পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানগুলোও সহযোগিতার দরজা উন্মুক্ত করতে চায়।

সরকার এবং কূটনৈতিক মিশনকে এ জাতীয় সম্পর্কগুলোকে সহজ করতে হবে। আমাদের দিক থেকে আমরা এটি বাস্তবায়নের জন্য পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডিএনডি: পাকিস্তান-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবস্থা কী?

সিদ্দিকী: পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করে। আমি যেখানেই যাই, আমার বাংলাদেশি ভাই এবং বোনেরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমাদের একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যা কোনও অস্থায়ী রাজনৈতিক বাধায় ভাঙতে পারে না, এবং এটিকে আমি স্মরণে রাখি। ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বাংলাদেশের এই অনুভূতিগুলো পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোনে কথা বলেছেন। তারা পারস্পরিকভাবে উদ্বেগজনক বিষয়গুলো নিয়ে একে অপরের সাথে আলোচনা করেন এবং এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন।

ডিএনডি: বাংলাদেশ সামনের বছর সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবে। পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আপনি এ বিষয়ে কী বলবেন?

সিদ্দিকী: পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও তার জনগণের জন্য মঙ্গল কামনা করা ছাড়া অন্য কিছু না।

কয়েক দশকে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আমরা খুশি। আমরা প্রার্থনা এবং আশা করি, বাংলাদেশ সর্বস্তরে নতুন আত্মবিশ্বাস ও শক্তি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি পাকিস্তানের জন্য শক্তির উৎস। সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা তাদের প্রতি শুভকামনা জানাই। আমি নিশ্চিত যে এই উপলক্ষটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুনর্মিলন এবং ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরিতে নতুন যুগের সূচনা করবে।❐

দৈনিক দেশ রূপান্তরের সৌজন্যে

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension