এক সৌদি প্রবাসীর চাপা কষ্টের কথা

রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। আর এ স্বপ্নের তাগিদেই মানুষ জীবন যুদ্ধে অগ্রসর হয়। পৃথিবীতে স্বপ্ন বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি ধরা হয় টাকাকে। অন্যদিকে সবাই চায় নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে। এ দুটোর সমন্বয় ঘটানোর জন্য একজন মানুষ পাড়ি দেয় দূর প্রবাসে। থাকে করে নিয়ে যায় অনেক স্বপ্ন, অনেক ভবিষ্যৎ গল্প। এর কতটুকুই বা বাস্তবে বাস্তবায়ন হয়? সেটাই জানিয়েছেন আলামীন হোসেন (ছদ্মনাম) নামে এক সৌদি প্রবাসী।

তার বলা হৃদয় বিদারক রূপসী বাংলা-এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো…

‌‘আসলে ব্যাপারটা এমনই ছিল আজ থেকে ১০ বছর আগে। কিন্তু এখন আর আগের সেই সৌদি নাই। ২০১৭ যখন সৌদি ভিসা খুলে দেয়া হয় তখন আমার মাথার উপর আমার পরিবারের চাপ। ভাবলাম দেশে যেহেতু কিছু করতে পারছি না সৌদি আরব চলে যায়, আর এই চিন্তাটা আমি নিজেই ভাবছিলাম তারপর পরিবারে জানাই। পরিবার বললো তুই যা ভাল মনে করিস কর আমাদের সাপোর্ট আছে, তার পর আমার প্রিয় মানুষের কাছে প্রকাশ করি ব্যাপারটা। সেও রাজি হল। আরো পরামর্শ দিল, যাও আমাদের জন্য ভাল হবে। তারপর মনে হল আর কারো সাথে বুঝার দরকার নাই ভিসার কাজ শুরু করে দিলাম। আলহামদুলিল্লাহ সবকিছু ঠিকঠাক মতোই হল। ২০১৭ সালের মার্চের ১২ তারিখ আমার ফ্লাইট হল আর আমি চলে আসলাম সৌদি আরব।’

‘আসার পর ভালই চলছিল কিন্তু কিছুদিন যাবার পর হঠাৎ সৌদি আরব নতুন কিছু আইন পাস করলো। আর সেটা হলো, বাহির থেকে আসা প্রবাসীদের উপর। সেই আইন আমার জীবনেও নিয়ে আসলো কাল। এখানে থাকতে হলে আকামা লাগবে আর আকামা বানাতে যে পরিমাণ টাকা দরকার তা বর্তমান সৌদিতে এক বছরে অনেকের পক্ষে আয়ও করা সম্ভব না। টাকার জন্য দেশ থেকে বিদেশ আসলাম কিন্তু টাকা আর দেখলাম না পাশাপাশি প্রিয় মানুষ গুলো থেকে অনেক দূরে চলে গেলাম।’

‘অনেক আদরের একটা ভাগ্নি ছিলো দেশে যখন ছিলাম বাহিরে থেকে কখন বাড়ি যাব কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করুক বা না করুক আমার ভাগ্নি করত। কারণ তার একটা স্বার্থ ছিল মামা বাহির থেকে আসলে চকলেট নিয়া আসবে। আর আমিও যতবার বাড়িতে যেতাম দিনে ততবার ভাগ্নির জন্য চকলেট নিতে ভুলতাম না। কারণ চকলেট পাওয়ার পর ভাগ্নি যে আনন্দ পেতো তা দেখে যে কারো কাছে পৃথিবীর সব চেয়ে বেশি সুখ মনে হবে।’

‘আমার ভাগ্নির হাসিটা ছিল অনেক মায়াবী। বিকালবেলা ঘুমাতে গেলে সে আমার বুকে ঘুমাতো। এতো ভালো লাগত যে, একদিনও খারাপ লাগে নাই। এতো মায়া এতো ভালবাসা আর কোথাও পাওয়া যায় কিনা আমার জানা নেই। ৩ বছর হয়ে গেছে আমি সৌদি। ভাগ্নিও এখন বড় হয়ে গেছে। চাইলেই সে আর আগের মত আসবে না আমার কাছে…।’

‘আর প্রিয়জনের কথা কি আর বলবো, সাড়ে চার বছরের প্রেম এখন আর নেই। কারণ ওরাও জেনে গেছে সৌদিতে এখন আর টাকা নাই সৌদিতে যারা আছে তাদের অবস্থা ভালো না। সৌদি প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে হলে লস বৈ লাভ হবে না।’

‘যে মানুষটা (প্রিয়তমা) আমাকে সাপোর্ট দিয়েছিলো সে এখন বলে ‌‘মা বাবা সৌদি প্রবাসী ছেলের কাছে আমায় বিয়ে দিবে না আমি কি করবো বল? তুমি অনেক ভালো থাকবা দেইখো, তুমি অনেক ভালো থাকবা আমাকে ছাড়া’। এই বলে সেও আজ আমার কাছ থেকে অনেক দূরে। সবকিছুর পর এখন আর স্বপ্ন দেখতে ভাল লাগে না। কেমন জানি অন্য রকম মনে হই নিজেকে…।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *