নিউ ইয়র্কপ্রবাস

এনওয়াইপিডি ট্রাফিক বিভাগেও প্রশংসিত বাংলাদেশিরা

নিউ ইয়র্ক সিটির সিভিল সার্ভিস কমিশন ট্রাফিক সুপারভাইজার পদে ঘোষিত ফলাফলে চারশ’ বাংলাদেশি উত্তীর্ণ হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক পুলিশে ক্যাপ্টেন, লেফটেন্যান্ট, ডিটেকটিভ, পুলিশ অফিসারসহ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন বিপুল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা। নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি এখন ট্রাফিক বিভাগে বিপুল সাফল্য এসেছে।

সম্প্রতি ট্রাফিক এজেন্ট থেকে সুপাইভাইজার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন চারশ’রও বেশি বাংলাদেশি। আর এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।

বাপা’র মিডিয়া লিয়াজো ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার জনি জানান, ১৯৯৬ সালে নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয় ট্রাফিক বিভাগ। ২০০০ সালের পর থেকে ট্রাফিক বিভাগে বাংলাদেশিদের যোগদান বাড়তে থাকে।

তিনি জানান, বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটি ট্রাফিক বিভাগে প্রায় নয়শ’ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান কর্মরত আছেন। এই দীর্ঘ ২১ বছরে নিউ ইয়র্ক পুলিশে সুপারভাইজার পদে কর্মরত ছিলেন আনুমানিক প্রায় মাত্র ১০৫ জন বাংলাদেশি। অন্যদিকে বহু বাংলাদেশি ট্রাফিক এজেন্ট হিসাবে যোগ দিলেও সুপারভাইজার হিসাবে পদোন্নতি পাচ্ছিলেন না । যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ প্রশিক্ষণ বা পরামর্শ পাচ্ছিলেন না তারা। এ ব্যাপারে সহযোগিতায় বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ আসোসিয়েশন এগিয়ে আসে। ২০০০ সালের মার্চ মাসে একসঙ্গে তারা প্রায় চারশ’ বাংলাদেশি ট্রাফিক এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেন তারা। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আসে শতভাগ পদোন্নতি পরীক্ষায় সাফল্য আসে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮৫২ জনের মধ্যে চারশ’ জনই বাংলাদেশি। এমনকী মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ প্রথম একশ’ জনের তালিকায় ৫০ জনই বাংলাদেশি।

বাপার সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট সার্জেন্ট এরশাদ সিদ্দিকী জানান, ট্রাফিক এজেন্টদের জন্য সুপারভাইজার পরীক্ষার আগে অনলাইন চ্যাটরুম তৈরি, ক্লাস পরিচালনা, অনলাইন পাঠ সংযোজন, অনলাইন মডেল পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি ও অন্যান্য সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাপার সাবেক ট্রাস্টি সার্জেন্ট আব্দুল লতিফ ও বাপার সাবেক বোর্ড মেম্বার আব্দুল জলিলকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। তারা সফলতাও পেয়েছেন। পরবর্তীতেও তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবার ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান তিনি।

পরীক্ষার বিষয় ভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করেন ডিপার্টমেন্ট সুপারভাইজার ২ মোহাম্মদ ইসলাম, ট্রাফিক ম্যানেজার মোহাম্মদ নুসরাত আলী, বাপার প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন কারাম চৌধুরী, বাপার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সর্জেন্ট এরশাদ সিদ্দিকী বাপার প্রাক্তন সভাপতি লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল হক, বাপার সাবেক বোর্ড মেম্বার সার্জেন্ট ফুয়াদ হোসাইন, বাপার প্রতিষ্ঠাতা প্রাক্তন সভাপতি লেফটেন্যান্ট সৈয়দ সুমন (অব.) এছাড়া প্রস্তুতি ক্লাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাপার সেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট একেএম আলম (প্রিন্স), বাপা বোর্ড মেম্বার অফিসার রাসেক মালিক, অফিসার মাহাবুব জুয়েল, অফিসার মামুন সরদার, অফিসার মেহেদী মামুন, অফিসার জসিম মিয়া, নিউ ইয়র্ক পুলিশের অক্সিলারি লেফটেন্যান্ট সৈয়দ এনায়েত আলী, ট্রাফিক সুপারভাইজার আলী চৌধুরী, মো. মহিউদ্দিনসহ বাপার অন্যান্য সদস্যরাও টিউটোরিয়াল ক্লাসে সবাইকে সহযোগিতা করেন।

উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগে চারশ’রও বেশি নিয়মিত অফিসার রয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ ক’জন নারী কর্মকর্তাও রয়েছেন।

বাংলাদেশি সহকর্মীদের পেশাগত উন্নয়ন ছাড়াও বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে বাপা যা ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বাপার প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন কারাম চৌধুরী ও সেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট একেএম আলম (প্রিন্স) ট্রাফিক বিভাগে সুপারভাইজার হিসাবে উত্তীর্ণ হওয়া বাংলাদেশি এজেন্টদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension