অনুবাদপ্রধান খবরযুক্তরাষ্ট্রসম্পাদকীয়

ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল সম্পাদকীয়: ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ দিনগুলো

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও একটি ইমপিচমেন্ট লড়াই থেকে রক্ষা করতে এখন ট্রাম্পের পদত্যাগ করা উচিত।

ইংরেজিতে মূল রচনাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এডিটোরিয়াল বোর্ড


মার্কিন সংবিধানকে সামনে রেখে এই কলাম লেখা হয়েছে। এই নথিটি হলো সেই শক্ত ভিত যা স্বাধীনতাকে রক্ষা করে। আর এ সপ্তাহে সেটা আবারও সবাই এর পবিত্রতা দেখতে পেলো। বিক্ষিপ্ত জনতার আক্রমণে সাময়িক লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও কংগ্রেস একই দিনেই আবারও ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট এবং জো বাইডেনের নির্বাচনের অনুমোদনের জন্য ফিরে এসেছিল। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন, আসছে ২০ জানুয়ারি দুপুরে সংবিধানের শর্ত অনুসারে যাকে অভিষেক প্রদান করা হবে।
***
বুধবারের অমর্যাদাকর ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদের বাকি ১৩ দিনে আর কি করবেন। ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার আর ন্যান্সি পেলোসি মি. ট্রাম্পকে অবিলম্বে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবী তুলেছেন— নয়ত  মন্ত্রিসভার মাধ্যমে ২৫ নম্বর সংশোধনী কার্যকর করবেন, অন্যথায় ইমপিচমেন্ট করবেন। এখানে পক্ষপাতমূলক বিদ্বেষ থাকা সত্ত্বেও, গত বুধবারে ট্রাম্পের পদক্ষেপ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে  যা আকস্মিকভাবে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না।

সংক্ষেপে, বুধবার কার্যনির্বাহী শাখার প্রধান ব্যক্তিটি জনতাকে মিছিল করে আইনসভায় যেতে প্ররোচিত করেছিলেন। লক্ষ্যটি ছিল কংগ্রেস ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স যেন রাজ্যেগুলোর ইলেকটোরাল ভোট প্রত্যাখ্যান করে মি. বাইডেনের বিজয়কে অস্বীকার করেন। জনতা হিংস্র হয়ে উঠে ক্যাপিটল দখল করে নিলে প্রেসিডেন্ট তাদের থামাতে অনেকটা সময় অস্বীকার করেন। অবশেষে যখন জনতাকে ফিরে বললেন তখন নির্বাচন নিয়ে নিজের অভিযোগটিও জানালেন।

এটা ছিল সরাসরি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর আক্রমণ। নির্বাচনের পরে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর আক্রমণ। এটা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন বহাল রাখার শপথ নেওয়া একজন নির্বাহীর আইনসভার ওপর আক্রমণ। এটা পরাজয় মেনে নেওয়া বা না নেওয়াকে ছাড়িয়ে অনেক দূরে চলে গেছে। এটা সাংবিধানিক সীমারেখাকে অতিক্রম করে গেছে। আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সাংবিধানিক সীমারেখাকে অতিক্রম করেছে যা মি. ট্রাম্প এর আগে করেন নি। এটি রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ।

এ ঘটনায় মি. ট্রাম্প বিরোধী অনেকেই তাদের ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক প্রমাণিত হয়েছে বলে সন্তুষ্ট হয়েছেন যে, তিনি কখনওই রাষ্ট্রপতি হওয়ার উপযুক্ত ছিলেন না এবং অনেক আগেই তাকে অভিশংসিত করা উচিত ছিল। তবে মি. ট্রাম্পের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে পড়েছিল যখন তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন।

২০১৬ সালে মি. ট্রাম্পকে নির্বাচিত করতে ৬ কোটি ৩০ লক্ষ আমেরিকান ভোট দিয়েছে। সাংবিধানিক এই প্রক্রিয়াটিকে একজন ডেমোক্র্যাট হিসাবে এত সহজে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়, ট্রাম্পের অফিসের প্রায় প্রথম দিন থেকেই প্রেস এই দাবী করছিল। আপনি আগাম অপরাধের জন্যে অভিযুক্ত করবেন না, বা তাদের ক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলবেন না। এই সপ্তাহের কর্মকাণ্ডগুলো ২০১৯-এর সালে ইউক্রেন হস্তক্ষেপের চেয়েও দায়িত্বজ্ঞানহীন।

এ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও প্রশ্নটি হলো, ২৫ তম সংশোধনীর অধীনে অভিশংসন কিংবা চাপ প্রয়োগে অপসারণ দেশের সেরা স্বার্থে প্রয়োজনীয় কিনা। এটা অবিবেচকের মতো হতো যদি না মি. ট্রাম্প বেপরোয়াভাবে অসাংবিধানিক কাজের হুমকি দিত। বুধবারের পরে তিনি ক্ষমতার ‘সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেবিনেট তাকে বহিষ্কার করলে অভ্যুত্থানের সহজ পথ তৈরি হবে এবং মি. ট্রাম্পকে রাজনৈতিক শিকার সাজবার কারণ তুলে দেবে।

ইমপিচমেন্টের স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিকভাবে দায়বদ্ধ হওয়ার উৎকর্ষতা রয়েছে। সিনেটে দোষী সাব্যস্ত করার মতো পর্যাপ্ত ভোট থাকে, এটা তুলনামূলকভাবে কম পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হয়। অভিশংসনের সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো মি. ট্রাম্পকে কোন শাস্তি না দেওয়া। এটা ভবিষ্যত প্রেসিডেন্টদের জন্য একটি মেসেজ হয়ে থাকবে যে, কংগ্রেস সকল মতাদর্শের মানুষ অথবা হুমকি থেকে নিজেকে ও আইনসভা বা তার সদস্যদেরকে রক্ষা করতে সক্ষম।

কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী অভিশংসন সহজ বা বিদ্বেষবিহীন ভাবে হবে না। এটি মি. ট্রাম্পের সমর্থকদের বরং আরও উত্তেজিত করবে যা মি. বাইডেনকে সরকার পরিচালনায় সহযোগিতা করবে না, কমবেশি পক্ষপাতমূলক বিভাজন বাড়িয়ে তুলবে। এবং বুধবারের নিভে যাওয়া আগুনে রাজনৈতিক ঘি ঢালবে।

ডেমোক্র্যাটরা সম্ভবত দায়িত্বশীলতা বা সংযম নিয়ে আচরণ করে না বলেই আরও বেশি কিছু ঘটে। তারা ইতোমধ্যে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে তৈরি হওয়া ট্রাম্পবিরোধী ইমপিচমেন্ট আর্টিকেলগুলো নিয়ে বিদুৎগতিতে বিরক্তিকর বক্তৃতা দিতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার মিসেস পেলোসি আলটিমেটামে মি. পেন্সকে ২৫ তম সংশোধনীতে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন অথবা তিনি নিজেই সরাসরি ইমপিচ করবেন যা রক্ষণশীল জিওপি ভোটে প্রভাবিত হবে না।

ডেমোক্র্যাটরা যদি ২০১৯ সালে এই প্রক্রিয়াটির অপব্যবহার না করত তবে এখন তদের ইমপিচমেন্টে আরও  অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা থাকত। ইমপিচারদের প্যারেডে রাশিয়ান-যৌথ প্রবর্তকদের অন্তর্ভুক্ত করে রিপোর্টের মতো অ্যাডাম শিফ আর জেরল্ড ন্যাডলার আমেরিকানদেরকে বোঝানোর চেয়ে পটাতে চাইবেন। উদ্দেশ্যটি তখন সাংবিধানিক প্রয়োগ নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মতো দেখাবে— এবং মি. ট্রাম্পকে তার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এটাকে লড়তে হবে। এ অবস্থায় মি. বাইডেন ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে সরে আসতে ইমপিচারদের থামিয়ে দিলে অনেক বেশী সুনাম অর্জন করতে পারেন।

***

ট্রাম্প যদি এ পর্যায়ে দ্বিতীয় ইমপিচমেন্ট এড়াতে চান, তবে তার সেরা পথটি হলো ব্যক্তিগতভভাবে সকল দায়িত্ব নিয়ে নেওয়া এবং পদত্যাগ করা। এটি স্বচ্ছ সমাধান হতে পারে যেহেতু এটি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব তাৎক্ষণিক মি. পেন্সের কাছে চলে যাবে। এবং এর ফলে মি. ট্রাম্প এজেন্সি তার নিজের ভাগ্যকেই একজন ‘লা রিচার্ড নিক্সন’ দিয়ে ফেলতে পারে।

এতে হোয়াইট হাউস ও কেবিনেটের পদত্যাগের বন্যায় বাধ দিতে পারে যা নীতিগত ও বোধগম্য হলেও সরকার ভয়াবহভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েনের পদে বহাল থাকা উচিত।

আমরা জানি, অধিকার হিসাবে দাবি করা যায় এমন কোনও কাজ মি. ট্রাম্পের সম্ভবত নেই। যে কোনও ক্ষেত্রে থেকেই এই সপ্তাহটি একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে তাকে একেবারেই শেষ করে দিয়েছে। তিনি রিপাবলিকান হাউস, হোয়াইট হাউস, এবং এখন সিনেট এসবের মূল্য দিয়েছেন।

সবচেয়ে বাজে বিষয় হলো, তিনি নির্বাচন ও কংগ্রেসের সক্ষমতা এবং মি. পেন্স সম্পর্কে মিথ্যা বলে তার অনুগত সমর্থকদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে উল্টে দিতে চেয়েছেন। তিনি গণতন্ত্রের মূল দর কষাকষি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন, যেটি হলো জয় বা পরাজয়, ফলাফলকে মেনে নিতে।

তাই সকলের জন্য মঙ্গলজনক হলো, ট্রাম্পের জন্যেও, যদি তিনি চুপচাপ চলে যান।❐

অনুবাদ: জাহান আরা দোলন


 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension