কানাডায় সরকার গড়ায় শিখেরাই ‘কিংমেকার’

রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শুনতে অবাক লাগলেও এমনই ঘটনা এবার কানাডায় নতুন সরকার গড়ার ক্ষেত্রে ‘কিং মেকার’ হল সেখানকার শিখেরা৷ ভারতের লোকসভায় যেখানে শিখ সাংসদের সংখ্যা ১৩, সেখানে কানাডার হাউস অফ কমন্সে শিখ সাংসদের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৮৷ কারণ সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর কানাডার নিম্নকক্ষের গঠনটা এমনটাই হয়েছে।

নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি এমনই যে ‘নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’র (এনডিপি)শিখ নেতা জগমিত সিংয়ের সমর্থন নিয়েই দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরতে হচ্ছে ট্রুডোকে।ফলে ২৪ জন সাংসদ নিয়ে জগমিতই হয়েছেন এবারে কানাডার ‘কিংমেকার’।বা অন্য ভাবে বললে ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিখেরা নেপথ্যে থেকে কানাডার সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে৷

পাঞ্জাবের তিকরিওয়ালা গ্রামের ছেলে এই জগমিত হলেন ফৌজদারি মামলার আইনজীবী।তিনি ২০১৭সালে এনডিপি প্রধান হন। তার পরে ২০১৯ সালে দেখা গেল একেবারে কিংমেকারের ভূমিকায়। ইংরেজি, ফরাসির পাশাপাশি পাঞ্জাবি ভাষাতেও সাবলীল এই জগমিত মঙ্গলবার ভোটের ফলের পর কানাডাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তবে জগমিতের সহায়তায় যিনি সরকার গড়ছেন, সেই জাস্টিন ট্রুডোর সামনে আপাতত চ্যালেঞ্জ কিছু কম নয়। কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জোনাথন রোজের মতে, এর আগে ট্রুডো সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার চালিয়েছেন৷ফলে তখন কোনও বিল পাশ করানো যতটা সহজ ছিল এবার অন্য দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গড়ায় সেই কাজটা ততটাই কঠিন হয়ে উঠবে। ট্রুডোকে অন্যের মতের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে৷

ট্রুডো এবার কানাডার পশ্চিমে আলবের্তা এবং সাস্কাচেয়ান থেকে কোনও আসন পাননি৷এর একটা বড় কারণ হল ট্রুডোর পাইপলাইন তৈরির আশ্বাস মাঝপথে থমকে যাওয়া। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ওই পাইপলাইন গড়তে গেলে পরিবেশবিদদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে।এখন চাপের মুখে প্রজেক্টটি বন্ধ রেখেছেন তিনি। এদিকে তাতেই বেজায় চটেছেন আলবের্তা এবং সাস্কাচেয়ানের বাসিন্দারা। এখানেই রয়েছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেলের ভাণ্ডার। আর পরিবেশবিদদের চাপে ট্রুডো কার্বন ট্যাক্স বসানোয় ক্ষুব্ধ হন এখানকার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *