বাংলাদেশরাজনীতি

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে পরিবার ও চিকিৎসক দলের ভিন্ন অভিমত

করোনাভাইরাসের সেকেন্ড ওয়েভসহ বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনই বিদেশে যেতে চান না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়ে খালেদা জিয়ার মেজো বোন বেগম সেলিমা ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা পরিবারের সদস্যরাও তাকে বাসা থেকে বের করার রিস্ক নিতে চাই না। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে এলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চান খালেদা জিয়া। সে পর্যন্ত চিকিৎসার যাবতীয় দেখভাল করবেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে যেহেতু উন্নত চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে সেহেতু একমাত্র আল্লাহই ভরসা। আমরা প্রার্থনা করছি তার সুস্থতার জন্য। দেশবাসীরও দোয়া চাই পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে।

তবে দলটির নেতারা খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে চান। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমতি না দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখছেন। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার মেজো বোন বলেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তখন বিদেশে নিতে অনুমোদন লাগবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় দলের গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা যেমন ছিল এখনো তেমনই আছে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দেশের হাসপাতালগুলোতেও নিতে না পারায় বোর্ড সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন অবনতি ঠেকাতে। চেয়ারপারসনের অ্যাডভান্স চিকিৎসার জন্য অ্যাডভান্স সেন্টার দরকার। সেটা দেশেও হতে পারে, বিদেশেও হতে পারে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। আর তার হাঁটুর চিকিৎসাটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সেই চিকিৎসা দেশে সম্ভব না হলে তিনি দেশের বাইরে যেতে চান। তিনি দেশেই চিকিৎসা করাতে চান। কিন্তু যেহেতু তার হাঁটুর চিকিৎসা আগে দেশের বাইরে হয়েছে তাই এক সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে যেতে পারেন। করোনার কারণে তার চিকিৎসা শুরু সম্ভব হচ্ছে না।

বেগম সেলিমা ইসলাম বলেন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলেও খালেদা জিয়ার মানসিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আমরা পরিবারের সদস্যরা মাঝেমধ্যে গিয়ে তার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। মাঝেমধ্যে লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ জোবায়দা রহমান, নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী, দুই মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন। বাসার খাবার খাচ্ছেন। তাকে খাইয়ে দিতে হচ্ছে। অন্যের সহযোগিতায় চলাফেরা করতে হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক চিকিৎসক বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে হাসপাতালগুলোতে চেয়ারপারসনের চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ব্লাড সুগার, রক্তচাপ মাপা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার হাত ও পায়ের সমস্যা আগের মতোই আছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা মাঝেমধ্যে গুলশানের বাসভবনে গিয়ে তাকে দেখে আসছেন। তাকে বিএসএমএমইউর চিকিৎসকরা যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন, তা শুরু করা সম্ভব হয় নি।

সরকারের নির্বাহী আদেশে ২৫ মাসের বেশি সময় কারাভোগের পর চলতি বছর ২৫ মার্চ বিএসএমএমইউ থেকে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। হাসপাতাল থেকে সরাসরি তিনি তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ওঠেন। তার জন্য গঠন করা হয়েছিল মেডিকেল বোর্ড। লন্ডন থেকে তার চিকিৎসার সার্বিক বিষয় তদারকি করেন তার পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান। বোর্ডের চিকিৎসকরা তার সঙ্গে সমন্বয় করেই চিকিৎসা দিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় দফায় তার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাসের জন্য বাড়ায় সরকার।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension