আঞ্চলিকবাংলাদেশ

খুলনার কয়রায় বাঁধ ভেঙ্গে দেড় লক্ষাধিক মানুষ এখনও পানিবন্দি

সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবে খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় কয়রা উপজেলার ৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গত এক সপ্তাহ ধরে চারটি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

তবে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, ইতোমধ্যে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আনুমানিক ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

পাউবো সূত্র জানায়, কয়রা উপজেলায় রয়েছে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ। এরমধ্যে ১৪/১ নম্বর পোল্ডারে ২৭.৩৭ কিলোমিটার ও ১৩/১৪/২ নম্বর পোল্ডারে ৯১.৯৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে।

২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্পানের তাণ্ডবে ৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে।

এরমধ্যে ১৪/১ নম্বর ও ১৩/১৪/২ পোল্ডারের ২৫টি স্থান ভেঙ্গে ৫.২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১২.৭ কিলোমিটার বাঁধ ধসে গেছে।

অপরদিকে, ৬৩টি স্থানে আংশিকভাবে ভেঙ্গে ২১.১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়রা উপজেলার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে কয়রা সদর ইউনিয়ন, উত্তর বেদকাশি, দক্ষিণ বেদকাশি ও মহারাজপুর ইউনিয়নের বসতভিটা ও জায়গা-জমি লবণ পানিতে সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে।

সেখানে দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এছাড়া বাকি তিনটি ইউনিয়নও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু সাঈদ খান বলেন, আইলায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মানুষ বাঁধের ওপর আশ্রয় নিতে পেরেছিলেন।

কিন্তু আম্ফানে ঘর বাড়ি, বাঁধ সবই গেছে। তাই মানুষের ন্যূনতম আশ্রয় নেওয়ার অবস্থাও নেই।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension