ভারত

গণধর্ষণের দু সপ্তাহ পর দলিত তরুণীর মৃত্যু, বিক্ষোভে ফুঁসছে ভারত

গণধর্ষণের শিকার হয়ে দুই সপ্তাহ আগে দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৯ বছরের তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে পুরো ভারত।

গত ১৪ সেপ্টেম্ববর উত্তর প্রদেশে ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। দিল্লিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে পুলিশ চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের ওই নারীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ন্যায়বিচারের দাবীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। হাসপাতালের বাইরেও বিক্ষোভ করেছে বহু মানুষ। অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে ২০১২ সালে দিল্লিতে মেডিকেল শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনার তুলনা করছেন।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যে তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে তিনি দলিল সম্প্রদায়ের। আর অভিযুক্তরা হলেন, উচ্চবর্ণের।

জেএনএমসি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে ওই তরুণীর ওপর। প্রচণ্ড মারধরের পাশাপাশি শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে দুষ্কৃতরা।

তার মুখমণ্ডলসহ একাধিক জায়গা ও জিভে কামড়ের গভীর ক্ষত রয়েছে। শিরদাঁড়া ও ঘাড় মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দুই পা ও একটি হাত অচল ছিল। আইসিইউতে রেখে সবরকম চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লির হাসাপাতালে পাঠানো হয়।

নির্যাতিতার ভাই বলেছেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাথরস এলাকায় বাড়ির কাছেই একটি জমিতে মা ও আমার সঙ্গে জমিতে ঘাস কাটতে যান দিদি। বিকালের দিকে আমি বাড়িতে চলে আসি। মায়ের থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন দিদি। সেই সময় পেছন থেকে দিদিকে আক্রমণ করে কয়েক জন দুষ্কৃতকারী। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টানতে টানতে একটি বাজরা ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে নৃশংস অত্যাচার চালায় ও গণধর্ষণ করে। পরে মা খুঁজতে খুঁজতে দিদিকে উদ্ধার করেন অচেতন অবস্থায়।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে নির্যাতিতার ভাই বলেন, পুলিশ প্রথমে আমাদের কোনও কথাই শুনতে চায় নি। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি। ঘটনার চার-পাঁচ দিন পর তদন্ত শুরু করেছে।

ভারতের সবচেয়ে নিপীড়িত নাগরিক দলিত সম্প্রদায়ের মানুষেরা। হিন্দু ধর্মের বর্ণপ্রথা অনুযায়ী সবচেয়ে নিচু বর্ণের আওতায় পড়া এসব মানুষদের সুরক্ষায় ভারতে আইন রয়েছে। তারপরও বৈষম্যের শিকার হওয়ার তাদের নিত্য বাস্তবতা। যদিও ভারত জুড়ে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension