গাপ্তিলের ম্যাজিক্যাল থ্রোয়ে স্বপ্নভঙ্গ! নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় টিম ইন্ডিয়ার

রূপসী বাংলা স্পোর্টস ডেস্ক : ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরতে পারত ২ এপ্রিল, ২০১১’র স্মৃতি। সেবার ম্যাচ জিতিয়ে দেশকে এনে বিশ্বকাপ দিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, বুধের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নিন্দুকদের চুপ করিয়ে দেশকে তুলতে পারতেন বিশ্বকাপের ফাইনালে। কিন্তু ব্যাট হাতে গোটা টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হলেও দলের হয়ে বিশ্বকাপের সবচেয়ে মূল্যবান কাজটা ফিল্ডিংয়ে পুষিয়ে দিলেন মার্টিন গাপ্তিল।

১০ বলে ম্যাচ জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ২৪ রান। এমতাবস্থায় ম্যাজিক্যাল থ্রোয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে রান আউট করে ভারতকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিলেন কিউয়ি ওপেনার। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেমিফাইনালে ২৪০ রান তাড়া করতে নেমে ৯২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে একসময় ম্যাচ থেকে হারিয়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। সেখান থেকে ধোনি-জাদেজার মহাকাব্যিক ১১৬ রানের পার্টনারশিপে ভর করে লর্ডসে ফাইনালের দিকে অনেকটাই পা বাড়িয়ে দিয়েছিল ‘মেন ইন ব্লু’।

৫৯ বলে দুর্ধর্ষ ৭৭ রানের ইনিংস খেলে জাদেজা আউট হলেও ধোনির উইলোয় স্বপ্নের জাল বুঁনছিল আসমুদ্র-হিমাচল। কিন্তু গাপ্তিলের থ্রোয়ে ধোনি ফিরতেই স্বপ্নভঙ্গ ১৩০ কোটির। ৩ বল বাকি থাকতেই ২২১ রানে যবনিকা পতন ভারতীয় ইনিংসের। ১৮ রানে ম্যাচ জিতে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ড।

বুধবার দিনের শুরুতে বাকি ৩.৫ ওভারে ৩ উইকেট খুঁইয়ে স্কোরবোর্ডে ২৮ রান যোগ করেন কিউয়ি ব্যাটসম্যানরা। অর্থাৎ লর্ডসে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে কোহলিদের ২৪০ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু স্বল্পরানের পুঁজি হলে কী হবে, ম্যাট হেনরি-ট্রেন্ট বোল্টের আগুনে স্পেলে ৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে পিছু হটতে শুরু করে টিম ইন্ডিয়া।

দুই ওপেনার রোহিত-রাহুল ও অধিনায়ক বিরাটের সংগ্রহ মাত্র ১ রান। এরপর দলীয় ২৪ রানে ফেরেন কার্তিকও। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে জিমি নিশমের অনবদ্য ক্যাচে ব্যক্তিগত ৬ রানে প্যাভিলিয়নমুখো হন কার্তিক। এরপর কিছুটা হাল ধরেন পন্ত-পান্ডিয়া। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে সে সময় সেসময় টিম ইন্ডিয়ার প্রয়োজন ছিল লম্বা পার্টনারশিপ। সেই চাহিদা পূরণ করতে পারেনি পন্ত-পান্ডিয়া জুটি।

৫৬ বলে ৩২ রানে সাজঘরে ফেরেন পন্ত। এরপর বেশিক্ষন স্থায়ী হয়নি পান্ডিয়ার ব্যাটিংও। ৩১ তম ওভারে যখন উইলিয়ামসনের হাতে লোপ্পা ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরলেন হার্দিক পান্ডিয়া, ৯২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন লর্ডসের দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের ট্রফি জয়ের স্বপ্ন থেকে বহু যোজন দূরে টিম ইন্ডিয়া। তবু ক্রিজে ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট অনুরাগীদের প্রাণভোমরা মহেন্দ্র সিং ধোনি। ফিনিশারের ব্যাটে তখন অসম্ভবকে সম্ভব করার তাল ঠুকছে টিম ইন্ডিয়া।

পান্ডিয়া আউট হতে ক্রিজে এলেন চলতি টুর্নামেন্টে মাত্র দু’টি ম্যাচ খেলে ফিল্ডিংয়ে চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান বাঁচানো রবীন্দ্র জাদেজা। অন্তঃরাষ্ট্রীয় ক্রিকেটে ব্যাট হাতে সৌরাষ্ট্রের হয়ে তাঁর ঝুরি ঝুরি রানের কথা অনুরাগীদের অজানা নয়। কিন্তু ম্যাঞ্চেস্টারে ধোনিকে ছাপিয়ে নিজেকে উচ্চতার শিখরে নিয়ে যান রবীন্দ্র জাদেজা। একদিকে যখন পিচ কামড়ে পড়েছিলেন ধোনি, অন্যদিকে সংকটের মুহূর্তে তখন কিউয়ি বোলারদের প্রতি-আক্রমণের পথ বেছে নেন জাদেজা।

বিগ সেমিফাইনালে ২৪০ রান তাড়া করতে নেমে ১০০ রানের মধ্যে প্রথম সারির ৬ উইকেট হারিয়েও ধোনি-জাদেজার মহাকাব্যিক ইনিংসে একটু-একটু করে লর্ডসে ফাইনালের স্বপ্ন দেখতেশুরু করে ‘মেন ইন ব্লু’। দুই ব্যাটসম্যানের জুটিতে একসময় ফাইনালের দোরগোড়াতেও পৌঁছে যায় তাঁরা। কিন্তু সেখান থেকি ফের চিত্রনাট্যে মোড় ঘোরে উত্তেজক সেমিফাইনালের।

জুটিতে ১১৬ রানের অবদান রেখে ব্যক্তিগত ৫৯ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে যখন আউট হন জাদেজা, ভারতের তখন প্রয়োজন ১৩ বলে ৩২। ভারতীয় শিবিরে আশা-ভরসা সমস্তকিছু তখন ধোনি-কেন্দ্রিক। ৪৮ তম ওভারের প্রথম বলে ফার্গুসনের ডেলিভারি গ্যালারিতে পাঠালেও তৃতীয় বলে ২ রান নিতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন মাহি। গাপ্তিলের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিরতে হয় ধোনিকে। ভারতের তখন প্রয়োজন ৯ বলে ২৩। ধোনি ক্রিজে থাকলে কী হত, সেটা এই মুহূর্তে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এরপর স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩ রান যোগ করে বাকি ৩ উইকেট খুঁইয়ে বসে ভারত। ১৮ রানে ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে কিউয়িরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *