চমকের বাজেট ঘোষণা আজ

রূপসী বাংলা নিউজ ডেস্ক: দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট উপস্থাপন করা হবে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জুন)। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১১তম বাজেট এটি। যদিও গত এক দশক ধরে প্রতি বছর বাজেটের আকার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে বাজেটে। পাশাপাশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে কর্মসংস্থান তৈরিতে।

“সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের”— প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় সংসদে জীবনের প্রথম এই জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা বলেছেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে ঘিরে স্মার্ট বাজেট উপস্থাপন করবেন তিনি। আর তাতে থাকবে নতুন নতুন চমক।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারকার বাজেটে থাকছে, নতুন ভ্যাট আইন চালু, প্রবাসী বিমা পলিসি চালু, সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো, লস অফ প্রফিট ইন্স্যুরেন্স চালু, শস্য বিমা পলিসি প্রচলণ, নতুন কর্মসংস্থান তৈরিসহ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে উপস্থাপন করা হবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট।

জাতীয় সংসদ থেকে একযোগে জাতীয় বাজেট অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে সংসদ টিভি, বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড এবং এ সব চ্যানেলের লিংক নিয়ে দেশের সবগুলো স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল। বাংলাদেশ বেতার ও এফএম রেডিও স্টেশনগুলোও জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচার করবে।

এটি দেশের ৪৮তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট।

এবারকার বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে আগামী বাজেট ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ ও সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বড়।

সংসদে দীর্ঘ আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন (রোববার) বাজেট পাস হবে।

গত বছর সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিলেন। তিনি টানা ১০ বার জাতীয় বাজেট পেশ করে স্বাধীন বাংলাদেশে রেকর্ড গড়েন।

১৬ কোটি মানুষকে সন্তুষ্ট করার বাজেট

এবারকার বাজেটে চেষ্টা থাকছে ১৬ কোটি মানুষকে সন্তুষ্ট করে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। সীমিত সম্পদ সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সবাইকে খুশি করার নামই
বাজেট’।

১৬ কোটি মানুষের জন্য জীবনে প্রথমবার সে চেষ্টাই করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা। পূর্বসূরীদের পাওয়া অর্থনৈতিক সামর্থ্য আর গতিশীল প্রবৃদ্ধি সহজ করে দিয়েছে সেই কাজ। কিন্তু হিমশিম খেতে হচ্ছে নিত্য-নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়। থাকছে আয়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। যা মোট দেশজ উৎপাদনের ১৮ শতাংশ। এই টাকা খরচ করে সরকার প্রবৃদ্ধি নিয়ে যেতে চায় ৮ শতাংশের ওপরে। আর এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাড়ে পাঁচ। এরইমধ্যে উন্নয়ন ব্যয় চূড়ান্ত করা হয়েছে দুই লাখ কোটির উপরে। বাকিটা চলে যাবে সুদ পরিশোধ, বেতন ভাতা, ভর্তুকি প্রণোদনাসহ অনুন্নয়ন খাতে। ব্যয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আয় বাড়াতেও থাকছে নতুন উদ্যোগ। এক রকম পুরনো আইনের আদলে চালু হচ্ছে নতুন ভ্যাট আইন। যার ওপর ভর করে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য পৌনে চার লাখ কোটি নির্ধারণ করা হয়েছে। যার সিংহভাগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআরকেই আদায় করতে হবে।

নতুন বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি। যা মেটাতে নির্ভরতা বাড়ছে বিদেশি উৎস এবং দেশীয় ব্যাংকের ওপর। বিপরীতে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্য কমানো হচ্ছে চলতি বাজেটের সংশোধিত অঙ্কের চেয়ে। প্রবাসী আয় এবং রফতানি খাতের ওপর প্রণোদনার জন্যও বরাদ্দ বাড়ছে নতুন বাজেটে।

ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন

বহুল আলোচিত ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে বাজেটে। এই কারণে নতুন করে বাড়তি ভ্যাট ও শুল্ক কর আদায়ের আশা করছেন অর্থমন্ত্রী। যদিও এই ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে পণ্যমূল্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে দেশের সব বন্দরে স্ক্যানার মেশিন বসানো হবে। এতে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আদায় বাড়ার পাশাপাশি আমদানি-রফতানির আড়ালে অর্থপাচার রোধ হবে।

রাজস্ব আয় নির্ধারণ

মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি ও সংশোধিত বাজেটে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬১২ কোটি টাকা।

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এনবিআরের ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর ব্যবস্থা থেকে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সেবার ফি, হাসপাতালের টিকিট মূল্য, সেতুর টোলসহ বিভিন্ন খাত থেকে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা আদায় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

অভ্যন্তরীণ আয়ের বাইরে আগামী অর্থবছর বিদেশ থেকে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার আশা করছে সরকার। অনুদান যেহেতু ফেরত দিতে হয় না- তাই এ পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেলে মোট আয় দাঁড়াবে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছর ৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা অনুদানের আশা করলেও বাজেট সংশোধনকালে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৭৮৭ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়।

ব্যয়ের খাত নির্ধারণ

৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার মধ্যে নতুন অর্থবছরের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা, যা আগে অনুন্নয়ন ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করা হতো। এর মধ্য থেকে সরকারের আবর্তক ব্যয় ২ কোটি ৭৭ লাখ ৯৩৪ কোটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ৫২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ৪ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

সরকারের মূলধন খাতে ৩২ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। আর নতুন অর্থবছরে উন্নয়নখাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। সেখান থেকে এরইমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ ২ লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল (এনইসি)।

এডিপিবহির্ভূত বিশেষ প্রকল্প, স্কিম ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে বাকি অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী। সাধারণত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সরকার। এ খাতে নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা।

বাজেট ঘাটতির অর্থায়ন সংগ্রহ

বিদেশি অনুদান না পেলে নতুন বাজেটের ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, কোনও দেশের বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছিল, যা ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। রাজস্ব আয় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্জন না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি বাড়িয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা ধরা হয়, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। তবে বিদেশি অনুদান পাওয়া গেলে নতুন অর্থবছর ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এই ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে ৭৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সেখান থেকে বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হবে ১১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন অর্থবছর নিট বৈদেশিক ঋণ নেয়া হবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। বাকি ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা দেশের ভেতর থেকে ঋণ নেয়া হবে, যার মধ্যে তারল্য সঙ্কটে থাকা ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছর ব্যাংক খাত থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে নিট ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া হবে, যার মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি ও অন্যান্য খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য থাকলেও উচ্চ সুদহারের কারণে মানুষ এ খাতে বেশি বিনিয়োগ করেছে। ফলে সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।

বাজেটে জিডিপির আকার

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে জিডিপির আকার প্রাক্কলন করা হয়েছিল ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই অর্থবছরজুড়ে দেশে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হবে তার আর্থিক মূল্য হবে এটি। সংশোধিত বাজেটে জিডিপির আকার কমিয়ে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ কোটিতে নামানো হয়। নতুন অর্থবছরের জন্য আকার প্রাক্কলন করা হচ্ছে ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা।

অগ্রাধিকার পাবে যেসব খাত

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সামাজিক ক্ষমতায়নের আওতায় বাজেটে ধরনের ভাতা, সম্মানী ও অনুদান বাড়ছে। বাড়ছে কয়েকটি কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যাও। পাশাপাশি বাড়ছে প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকাও।

বর্তমানে ১৬টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এসব কর্মসূচির জন্য চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয় ৩২ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এ বরাদ্দ পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মধ্যে সাধারণত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, দরিদ্র নারীদের মাতৃত্বকালীন ভাতা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদি দেয়া হয়। সম্মানী দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধাদের। এবারের বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বাজেটের আকার

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জুন (১৯৭২-৭৩ অর্থবছর) প্রথম বাজেট ঘোষণা করা হয় ৭৮৬ কোটি টাকার। এরপর ১৯৮১ সালের ৬ জুন দশম বাজেটের আকার ছিল ৪ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। ১৯৯১ সালের ১২ জুন ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে ২০তম বাজেট ছিল ১৫ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। ২০০০ সালের ৮ জুন ২০০০-০১ অর্থবছরে ৩০তম বাজেট ছিল ৩৮ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। ২০১০ সালের ১০ জুন, ২০১০-১১ অর্থবছরের ৪০তম বাজেট ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য আগামী ১৩ জুন ঘোষিত বাজেটের আকার হচ্ছে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা।

শেয়ারনিউজ; ১৩ জুন ২০১৯

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *