আন্তর্জাতিকপ্রধান খবর

চীনের কমিউনিস্ট নেতা মৃত্যুর ১৪ বছর পর সমাহিত

রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৮৯ সালের ছাত্র আন্দোলনে বলপ্রয়োগের বিরোধিতা করেছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ঝাও জিয়াং। ঘটনার পর তাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল দল থেকে। ২০০৫ সালে মারা যান ঝাও। মৃত্যুর পর তাকে রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কবরস্থানে সমাহিত করতে দেয়নি চীনা শাসকেরা। ১৪ বছরের ব্যবধানে শুক্রবার রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতির পর বেইজিংয়ের চাওপিং এলাকার তিয়ানসৌ গার্ডেন কবরস্থানে তার দেহভস্ম সমাহিত করা হয়েছে। একই সময় সমাহিত করা হয় তার স্ত্রীর দেহভস্মও।

শুক্রবার ঝাও-এর দেহভস্ম সমাহিত করার অনুষ্ঠানে কেবলমাত্র পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়। শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। ঝাওয়ের মেয়ে ওয়াং ইয়ানান বলেন, আজ পারিবারিক শেষকৃত্যের পাশাপাশি বাবা-মাকে সমাহিত করছি। পারিবারিক আবহে ছোট একটি অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। এই শেষকৃত্যের কথা আগেভাগে ঘোষণা না করায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চিত ছিলেন তারা।

১৯৮৯ সালের মে মাসে শিক্ষার্থীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ঝাও ঝিয়াং ১৯৮৯ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দেশ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকর্তাদের অনুমোদনক্রমে ছাত্র বিক্ষোভে বলপ্রয়োগের ঘটনায় শত শত শিক্ষার্থী নিহত হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, চীনের ইতিহাস থেকেও এই বিক্ষোভ মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। ছাত্রবিক্ষোভে বলপ্রয়োগের বিরোধিতার পর ঝাও জিয়াংকে পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তখন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গৃহবন্দি ছিলেন তিনি।

সাধারণত ব্যাপক আড়ম্বরে চীনের রাষ্ট্রীয় নেতাদের শেষকৃত্য হয়ে থাকে। ২০০৫ সালে ঝাও জিয়াং মারা যাওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকেও শেষকৃত্যও রাষ্ট্রীয় নেতা, সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের মতো করেই আড়ম্বরে করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে কর্মকর্তারা তার দেহভস্ম সমাহিত করতে দেওয়ার অনুমতি দেয়নি। বাধ্য হয়ে তার দেহভস্ম বাড়ি নিয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা। তবে অনেক বছর ধৈর্য্য ধারণের পর অবশেষে তার সন্তানেরা বাবা-মাকে একসঙ্গে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension