আন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র

জর্জ ফ্লয়েড হত্যা: যুক্তরাষ্ট্রে আরও বড় ধরণের বিক্ষোভের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা আরও বড় বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দেশটির সব অঙ্গরাজ্য থেকে প্রতিবাদকারীরা ওয়াশিংটনে জড়ো হবেন। শুক্রবার আটলান্টা, লস এঞ্জেলস, মিনেপোলিস, মায়ামি, নিউ ইয়র্ক ও ডেনভারে বিক্ষোভ হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেই হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে।

প্রতিবাদের মুখে মিনেপোলিসে পুলিশের হাঁটু দিয়ে গলা চেপে ধরা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

ফ্লয়েডের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট করা একটি ভিডিও ডিজেবল করে দিয়েছে টুইটার, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম।

হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে বিক্ষোভে সংহতি জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। করোনাভাইরাসের মহামারীকালে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে যোগ না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফ্লয়েডের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে ভারতে।

ওয়াশিংটনে বিক্ষোভকারীরা বড় ধরনের সমাবেশ করতে যাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের প্রত্যাশা আগামী শনিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন। ধারণা করা হচ্ছে দেশটির সব অঙ্গরাজ্য থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেবেন।

ওয়াশিংটনের পুলিশ প্রধান বলছেন, যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশ প্রধান পিটার নিউশাম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আসন্ন শনিবার এ শহরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা ওইদিন ভোরেই সিটি সেন্টারে প্রবেশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেব। শুক্রবার আটলান্টা, লস এঞ্জেলস, মিনেপোলিস, মিয়ামি, নিউইয়র্ক ও ডেনভারে বিক্ষোভ হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেই হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে।

এদিকে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে এবং সংখ্যালঘু হত্যার ন্যায়বিচারের দাবিতে অস্ট্রেলিয়ায় সব বড় শহরে বিক্ষোভ। সিডনির সমাবেশে ১০ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন। ফ্রান্সেও বিক্ষোভ হয়েছে।

মিনেপোলিসে নিষিদ্ধ হচ্ছে পুলিশের হাঁটু দিয়ে গলা চেপে ধরা : পুলিশ বিভাগে বেশ কিছু তাৎক্ষণিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে মিনেপোলিস সিটি কাউন্সিল। এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে- হাঁটু দিয়ে কারও গলা চেপে ধরার কৌশলটি।

ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে যখন-তখন হস্তক্ষেপের বিষয়টিও নিষিদ্ধ করা হবে। শুক্রবার এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্তগুলো পাস হয়। তবে এগুলো কার্যকর হতে একজন বিচারকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেছেন। দেহরক্ষী দ্বারা বেষ্টিত এবং কালো মাস্ক ব্যবহার করে রাজধানী অটোয়ায় পার্লামেন্টের সামনে শুক্রবার ‘নো জাস্টিস’, ‘নো পিস’ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের তাক লাগিয়ে দেন তিনি।

কানাডায় পূর্বাঞ্চলে একজন আদিবাসী নারীকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করার একদিন পর তিনি ওই বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বলে স্লোগানের সময় ট্রুডো হাত তালি দিয়ে সমর্থন জানান। টরেন্টোসহ অন্য শহরগুলোতেও একই রকম বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেন, ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি নিজেও হতবাক হয়েছেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের হুমকি এখনও রয়ে গেছে। তাই বর্ণবাদবিরোধী যে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে; লোকজন যেন তাতে অংশ না নেয়।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনাদের প্রতি আমার কিছু কথা আছে। জনগণের গভীরভাবে মর্মাহত হওয়ার কারণ আমি অনুধাবন করতে পারছি। কিন্তু এখনও আমরা একটি স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি।

জাতিগত সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিচ্ছেন কিংবদন্তি বাস্কেটবল তারকা মাইকেল জর্ডান।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এ অনুদানের কথা নিশ্চিত করেছেন এ তারকা। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তিনি ও তার প্রতিষ্ঠিত জর্ডান ব্র্যান্ড ১০ কোটি ডলার অনুদান দেবেন এবং এ অর্থ জাতিগত সমতার জন্য ১০ বছর ধরে খরচ করা হবে। মূলত জাতিগত বৈষম্য নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এ অর্থ দেওয়া হবে।

ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ (কৃষ্ণাঙ্গরাও মানুষ) নামের একটি ক্যাম্পেইন চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের কাছের একটি রাস্তায় এ ক্যাম্পেইনের সমর্থনে একটি লোগো লেখা রয়েছে।

এটি মহাকাশ (স্পেস) থেকে দেখা যায়। লোগোটি সিক্সটিনথ স্ট্রিটের দু’টি ব্লকে লেখা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মিউরিয়েল বোভাসারের আদেশে লোগোটি তৈরি করা হয়।

ফ্লয়েডের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট করা একটি ভিডিও ডিজেবল করে দিয়েছে টুইটার, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। কপিরাইটের অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠানগুলো এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ক্লিপে ফ্লয়েডের হত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সহিংসতার কিছু খণ্ড খণ্ড ছবি ও ভিডিও দেখা গেছে। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে কথা বলছেন ট্রাম্প। কোন্‌ ছবি বা ভিডিও কপিরাইট আইন ভঙ্গ করেছে তা স্পষ্ট নয়।

তবে ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী স্যাম কুলাক পলিটিকোকে জানান, তার ফার্ম টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের কাছে কপিরাইট সংক্রান্ত অভিযোগ করেছে।

ভিডিও অপসারণের পর ট্রাম্প এক প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ‘তারা প্রগতিবাদী বামপন্থী ডেমোক্রেটদের হয়ে কঠিন লড়াই করছে, একপেশে লড়াই। অবৈধ।’

টুইটারের প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডরসে পাল্টা জবাবে লিখেছেন, ‘যা বলছেন সত্যি নয়, আর এটা অবৈধ নয়। এটা সরানো হয়েছে কারণ কপিরাইট ভঙ্গের অভিযোগ এসেছে।’

এদিকে হাঁটু দিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের গলা চেপে ধরে হত্যার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভ হচ্ছে। কিন্তু এরই মধ্যে ভারতে এমনই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। তবে ভারতের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয় নি।

বৃহস্পতিবার রাজস্থানের যোধপুরে টহলে বেরিয়েছিল পুলিশ। সোমকরণ নামের এক ব্যক্তি মাস্ক না পরে রাস্তার ধারে বসেছিলেন। দুই পুলিশ সদস্য তার কাছে জানতে চান, কেন মাস্ক পরেন নি। তা নিয়েই পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

সে সময় এক পুলিশ সদস্য সোমকরণকে মাটিতে শুইয়ে তার গলায় হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেন। পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় মানুষজন এগিয়ে আসেন। তাদের হস্তক্ষেপে পুলিশ সোমকরণকে ছেড়ে দিয়ে গ্রেফতার করে। ⛘

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension