নিউ ইয়র্কমনের প্রতিধ্বনি

ডনোভান রিচার্ডসের আগমনে কুইন্স বরো হলে বর্ণ বৈষম্যের পরাজয়

শাহ্‌ শহীদুল হক সাঈদ


মার্কিন লুথার কিং পৃথিবী থেকে দাসপ্রথা, সাদা আর কালো বর্ণবৈষম্যের সংগ্রাম করতে গিয়ে জীবন দিয়েছিলেন। পৃথিবীর প্রাচীনতম দাসব্যবসায়ীদের রেখে যাওয়া শেকড় আজও রয়ে গেছে। ১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি জর্জিয়ার আটলান্টা‌য় জন্ম নিয়েছিলেন এই জ্যোতির্ময় সিংহপুরুষ, বিশ্বখ্যাত আফ্রিকান-আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী ড. মার্টিন লুথার কিং। যার হৃদয়ে ছিল ভালোবাসা, সাম্য, সমতা, একতা ও মানবতা। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন আকাশের উদারতা ও দীপ্তিময়তার এক পৃথিবী। তার গান ছিল, এস বর্ণ বৈষম্যের হিংস্রতাকে বাদ দিয়ে শান্তির পথে এস।

‘কালো আর ধলো বাহিরে কেবল ভিতরে সবারই সমান রাঙা।’ তিনি চেয়েছেন, আগামীর পৃথিবীর সকল শিশুর মধ্যে থাকবে সমান অধিকার, জর্জিয়া থেকে নিউ ইয়র্ক, তথা সমস্তপৃথিবী। গৃহযুদ্ধে বিজয় লাভের পর আব্রাহাম লিঙ্কন ১৮৬৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকায় দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করেন এবং দাসদের মুক্তির ঘোষণা দেন।

কিন্তু আমরা আজও বর্ণবৈষম্য ও দাসপ্রথার স্বীকার। সাম্প্রতিক আমেরিকান গণতন্ত্র ও ক্যাপিট্যালহিলের ন্যাক্কারজনক ঘটনা তার নিকৃষ্ট উদাহারণ।

এবার মূল কথায় আসা যাক। কুইন্স বরো হলের মধ্যে কোনও এশিয়ান আমেরিকান আমলা আছে বলে আমার জানা নেই। আর যদিও থেকেও থাকে, এখন আমলাতন্ত্রের শেকড়ে বাঁধা। যখনই ভোটের সময় হয় তখন দেখা যায় ফান্ড রাইজিং ডিনার এবং ফটোসেশন। ক্ষমতায় থেকে আজ পর্যন্ত কোনও বাঙালিকে বরো চাকুরী দেয়া হয় নি। এমনকি কমিউনিটি বোর্ডের মেম্বারশিপেও দেখা গেছে বর্ণবৈষম্য।

মি. ডনোভ্যান রিচার্ড জুনিয়র এই প্রথম বর্ণবৈষম্য দূর করে অনলাইন মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ করে দিলেন। মনে হয় আরেক মার্টিন লুথার কিংয়ের উদয় হলো। ধন্যবাদ মি. ডনোভান রিচার্ডস জুনিয়রের কর্মের দীপ্তি নতুন পাথেয় হয়ে থাকুক।

আমরা চাই সকল জাতীয় সংমিশ্রনে কুইন্স বরো হল আলোকিত হোক। দূর হয়ে যাক আমলাতন্ত্র এবং বণ্যবৈষম্য। মূল্যায়িত হোক সকল প্রতিভা এবং মানবাধিকার।❐

লেখক: সভাপতি, ওয়ার্ল্ড হিউম্যানরাইট্স ডেভলপমেন্ট, ইউএসএ

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension