বিনোদন

ঢাকার ভানুর কলকাতা জয়

পবিত্র সরকার


বাংলা সাহিত্যের সব গবেষণা যেমন একসময় বেদ থেকে শুরু হতো, যেমন ‘বাংলা সাহিত্যে বিধবা নারী’ বিষয় হলে বেদে বিধবাদের সম্বন্ধে কী বলা হয়েছে তা না বললে পরীক্ষক রেগে যেতেন, তেমনি নাটক, অভিনয় ইত্যাদি সম্বন্ধে কিছু বলতে হলে আমাদের দেশের বাইরে গিয়ে আ্যারিস্টট্ল নামে এক মহামুনির দোহাই পাড়তে হতো-‘হ্যাঁ, অ্যারিস্টটল এই বলেছেন, অ্যারিস্টটল সেই বলেছেন’ বলে। তিনি বলেছিলেন গ্রিক ভাষায়, আমরা বেশিরভাগ ইংরেজি অনুবাদ থেকে জেনে নিয়েছি। তা তিনি নাকি বলেছিলেন, মানুষ তিন শ্রেণির। এক. আমাদেরই মতো মাঝামাঝি দরের, দুই. আমাদের চেয়ে উঁচু দরের, আর তিন. আমাদের চেয়ে নিচু দরের। উঁচু দরের মানুষদের আমরা ভক্তি-শ্রদ্ধা করি, তাদের নিয়ে রচিত হয় ট্র্যাজেডি, আর নিচু দরের মানুষদের নিয়ে আমরা হাসিঠাট্টা করতে পারি, তাদের নিয়ে রচিত হয় কমেডি। তবে আমাদের মনে হয় অ্যারিস্টটলের কথাটায় একটা গণ্ডগোলও আছে। উঁচু দরের মানুষদের নিয়েও কি হাসিঠাট্টা হয় না? আমাদের গুরু সুকুমার রায়ই তো রামচন্দ্রকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করে গেছেন ‘লক্ষ্মণের শক্তিশেল’-এ। আরেক গুরু পরশুরামও কি কম করেছেন? আসলে হাসিঠাট্টার লক্ষ্য নিয়েই রচিত হয় কমেডি, আর গভীর দুঃখ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে রচিত হয় ট্র্যাজেডি। রবীন্দ্রনাথের ‘নেড়ি কুকুরের ট্র্যাজেডি’ লেখা সম্ভব বা একেবারে অসম্ভব কিনা জানি না, স্রষ্টার সমবেদনা তুচ্ছকেও গভীর বেদনার বিষয় করে তুলতে পারে, যেমন তারই ‘ছুটি’ গল্পে আমরা দেখি।

তাই যারা কমেডিয়ান, তারা এমন একটা জীবন বা জীবিকা বেছে নেন, যাকে চির-উপহাস্যতার জীবন বলা চলে। তারা যেন নিজেকে ওই জীবনে ংবষভ-পড়হফবসহ করেন। তারা ধরেই নেন যে, ‘পাবলিক’ নামক বিশাল প্রাণীটি শুধু তার অভিনয় দেখে হাসবে না, অভিনয়ের বাইরেও তাকে দেখে হাসবে, ‘তুই’ সম্বোধন করবে, নানাভাবে খ্যাপানোর চেষ্টা করবে, যেন কমেডিয়ানরা তাদের ইয়ারবকশি ধরনের। মঞ্চ বা পর্দার বাইরে তিনি যে একজন শিক্ষিত ভদ্রলোক, গুণবতী স্ত্রীর স্বামী, পুত্রকন্যার পিতা, সম্ভ্রান্ত সামাজিক মানুষ-তা এই ‘পাবলিক’ স্বীকারই করবে না। কমেডিয়ান যেন কিছুটা অবমানব, তাদের অসামান্য প্রতিভায় আমাদের জীবনে তারা প্রচুর আনন্দরস সঞ্চার করেও যেন তারা আমাদের সম্মানের যোগ্য হয়ে ওঠেন না, অন্তত ওই ‘পাবলিকে’র কাছে। যাকে ইংরেজিতে ‘ডিগনিটি’ বলে, তা ওই পাবলিকের হাতে প্রায়ই বিপর্যস্ত হয়। একে কি কমেডিয়ানের ট্র্যাজেডি বলব?

এর শিক্ষা আমরা পেয়েছিলাম সেকালের পৃথিবী বিখ্যাত মাইম শিল্পী মার্সেল মার্সোর একটি পালা থেকে, যার নাম সম্ভবত ছিল ‘দ্য মাস্ক ম্যান’ বা মুখোশ বিক্রেতা। এ গল্প আমি নানা জায়গায় বলেছি, আবার এখানে বলার লোভ সামলাতে পারছি না। এক মুখোশ বিক্রেতা নানা ধরনের মুখোশ সাজিয়ে বসেছে, নানা মুখোশ পরে সে দর্শকদের আমোদিত করছে। শেষদিকে হাতে তুলে নিল একটি কমেডির হাসিমুখের, আর একটি ট্র্যাজেডির দুঃখী মুখের মুখোশ। সে একবার একটা মুখে পরছে, সেটা খুলে আবার অন্যটা। এখানে বলে রাখি, মার্সোর হাতে কোনো মুখোশ নেই, সবটাই সাদা রং মাখা, ঠোঁট আর চোখকে কালো রেখায় চিহ্নিত করা-ওই মূক সাদা মুখেই মুখোশের ছবি ফুটিয়ে তুলছিলেন। কমেডির মুখোশ পরলেন, মুখটা হাসিতে ফেটে পড়ল; ট্র্যাজেডির মুখোশ পরলেন, মুখটা শব্দহীন কান্নায় ভেঙেচুরে গেল।

ক্রমে এ বদলটা খুব দ্রুত হতে লাগল। হাসির মুখোশ, কান্নার মুখোশ, সেকেন্ডে সেকেন্ডে বদলাচ্ছে। আমরা শ্বাস ফেলার অবকাশ পাচ্ছি না। চলতে চলতে হঠাৎ হাসির মুখোশটা মুখে আটকে গেল। আর খোলে না। এদিক দিয়ে টানছে, ওদিক দিয়ে টানছে, মাথা ঝাঁকাচ্ছে, কোমর বেঁকিয়ে চিত হয়ে টানছে, উপুড় হয়ে টানছে, লাফাত লাফাতে টানছে, কিছুতেই মুখোশ খুলছে না। তার চোখে মৃত্যভয় ঠিকরে বেরোচ্ছে, কিন্তু মুখে সেই অটল হাসি। মনে হয় এই বুঝি তার নিশ্বাস ফুরিয়ে যাবে, তার মৃতদেহটা পড়ে যাবে মাটিতে। এমন সময় হঠাৎ তার মুখোশটা খুলে গেল। তখন তার মুখে যে বিপুল স্বস্তির হাসি, সেটা হাসি না কান্না, তাই বুঝতে আমার সারা জীবন গেল। ওই যেন আমার কাছে সব কৌতুকশিল্পীর রূপক হয়ে আছে।

নইলে যার পিতৃদত্ত নাম ছিল সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯২০-১৯৮৩), যিনি মায়ের সূত্রে সরোজিনী নাইডুর আত্মীয়, ঢাকার জগন্নাথ কলেজে বিএ পড়া শেষ করবেন এবং সাক্ষাৎ ছাত্র না হওয়া সত্ত্বেও বিজ্ঞানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু আর অধ্যাপক মোহিতলাল মজুমদারের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠবেন, অনুশীলন সমিতির সদস্য হিসাবে যৌবনে রাজনীতি করবেন, তার এ পরিচয়গুলোর সঙ্গে কমেডিয়ানের জীবনের যেন একটা আড়াআড়ি সম্পর্ক দাঁড়িয়ে যায়। অবশ্য এটাও ঠিক, ওই দিকে তার যে প্রবণতা আর প্রতিভা ছিল সেটাও তিনি তার প্রথম যৌবনেই আবিষ্কার করেছিলেন। উইকিপিডিয়া বলছে, ১৯৪৩-এ তার প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ডে কৌতুক নকশা বের হয় ‘ঢাকার গাড়োয়ান’ নামে। সেটি আমাদের শৈশব-কৈশোরে প্রচুর জনপ্রিয় ছিল বলে মনে পড়ছে। দেখলাম সতেরোটির মতো এ রকম হাসির রেকর্ড তার প্রকাশিত হয়েছে সব মিলিয়ে। এরও আগে, ছাত্রজীবনেই তিনি নানা জলসায় কৌতুকশিল্পী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জনপ্রিয়তার এটা নিশ্চয়ই অন্যতম কারণ ছিল। কাজেই বংশমর্যাদা, শিক্ষাদীক্ষা (তখনকার দিনে বিএ পাশ তুচ্ছ করার বিষয় ছিল না), অনুশীলন সমিতি, পরে আরএসপি দলের সংস্কৃতি সংগঠন ক্রান্তি শিল্পী সংঘে নাটকে অভিনয় ইত্যাদি সত্ত্বেও তার আত্মপ্রকাশের পথ খুঁজে নিয়েছিলেন কমেডিতে। তা-ই হয়ে উঠেছিল তার নিয়তি। জলসার কমেডিয়ান থেকে রেকর্ডে অশরীরী কণ্ঠদান যেমন একটা ধাপ, তেমনি নাটক আর ফিল্মে অভিনয় তার অনিবার্য ও স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ মাত্র। পথ খুলে যায়, উপরের ওঠার সিঁড়ি তৈরি হতে থাকে। ওই পাবলিকের পরিহাস আর ইয়ার্কি-ফাজলামিও সেই নিয়তি হিসাবেই মেনে নিতে হয়। ফলে তার আসল সত্তাটা একসময় সবার অগোচরে চলে যায়। জানি না, এ বাহির-ভেতরের তফাৎ তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ঠিক কতটা সমস্যা তৈরি করে। চ্যাপলিন এ নিয়ে ভেবেছেন, তা সবাই জানে।

কেন সাম্যময় বাংলার চলচ্চিত্র-সংস্কৃতিতে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় হিসাবে জন্মান্তর গ্রহণ করলেন, তাও সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়। যে ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘটি-বাঙাল উভয় পক্ষের মন জয় করবেন, বাঙালির কাছে দৃশ্য-শ্রাব্য হাস্যরসের এক নতুন প্রস্রবণ খুলে দেবেন, সেই চরিত্রগুলোর সঙ্গে সাম্যময় নামটা একেবারেই খাপ খায় না। তবে আমাদের বয়সের লোকেরা অনেকেই হয়তো জানে যে, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি প্রথম ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় নন। তারও আগে একজন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন (১৮৮৮-১৯৬৬), যিনি বেশ সৌম্য ও অভিজাতদর্শন, নায়কের বন্ধুর ভূমিকায় যাকে প্রায়ই দেখা যেত। কিন্তু তিনি ইংরেজিতে যাকে বলে ‘স্ট্রেইট’ অভিনেতা, তাই কখনোই ‘টাইপ’ হয়ে ওঠেননি, কমিক রোলেও তাকে খুব-একটা দেখেছি বলে মনে পড়ে না। সেই ভানুকে আড়াল করে দিয়ে আরেক যে ভানুর আবির্ভাব হলো, তার জীবনের প্রাগিতিহাস আমরা আগে বলেছি।

২.
দেশভাগের ফলে সাম্যময় তখনকার পাকিস্তানগ্রস্ত পূর্ববঙ্গ ছেড়ে ভারতে, পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন। এ ঘটনা ভানুর জীবনের যেমন মোড় ঘুরিয়ে দেবে এবং তার কীর্তি ও খ্যাতির বিশাল অবকাশ রচনা করবে, তেমনি, আমরা যেমন অন্যত্র বলেছি, বিভাগ-পরবর্তী পশ্চিম বাংলার সামাজিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে কলকাতার ছবিতে ভানুবাবুর হাজিরা। না, শুধু একজন বিনোদন-বিতরণকারী হিসাবে নয়। আমরা পরে সে কথায় আসব।

তার অভিনয়-জীবনের ইতিহাস রচনা আমাদের লক্ষ্য নয়। দেখলাম তিনি প্রায় ৩০০টির মতো বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ১৯৪৭ থেকে ১৯৮৪-র মধ্যে। সব দেখিনি, না দেখাই স্বাভাবিক বলে। তবে সুখের কথা যে, আমাদের প্রজন্মের সুযোগ হয়েছিল তার প্রথম দিককার ছবি থেকে ছবি দেখা শুরু করার। মনে হয়, ইংরেজিতে যাকে ‘স্টিরিয়োটাইপ’ বলা হয়, প্রথমে তিনি তা হতে চাননি, নইলে ১৯৫২-তে ‘বসু পরিবার’ করে ১৯৫৩-তেই আবার কেন তিনি ‘নতুন ইহুদি’ করবেন? এই দ্বিতীয় ছবিটিতে তিনি কমেডিয়ান ছিলেন না, ছিলেন এক উদ্বাস্তু পরিবারের বখে যাওয়া ছেলে। অবৈধ পথে বোনের বিয়ের টাকা নিয়ে ফিরছেন, পুলিশ বা কেউ তাড়া করেছে, দৌড়াতে গিয়ে ট্রামের তলায় পড়ে গেল সে। বুক পকেটে নোটের তাড়া নিয়ে তার সংলাপ-‘দিমু না, পরীর বিয়ার টাকা আমি দিমু না।’ আমার এখনো মনে আছে। মনে আছে ‘বসু পরিবার’-এ তার পাল পদবিটি নিয়ে একটু সংকোচ, তাকে ঢাকার জন্য বিখ্যাত সংলাপ-‘ব্যাবসাইত পাল না, হেই জে বিক্রমপুরের রাজা মহীপাল? হেই!’ বলে তিনি এমনভাবে চোখ মটকাতেন যে শ্রোতার সব অবিশ্বাস দূর হয়ে যেত তার রাজবংশের কুলজি সম্বন্ধে।

আবার ‘নতুন ইহুদি’র বছরেই বেরোল সেই প্রলয়ংকর ‘সাড়ে চুয়াত্তর’, যে ছবিতে উত্তম-সুচিত্রার যুগ-সৃষ্টিকারী জুটির হয়তো প্রথম সূত্রপাত। তার ‘মাসিমা, মালপুয়া খামু’ সংলাপ সেদিন সিনেমা হলের ছাদ ধসিয়ে দিয়েছিল বলা যায়।

তার অভিনয়ের জাদুটি কোথায় ছিল? শুধু কি মজার ঢাকাই সংলাপে? তা কেন হবে? বিপুল মজা ছড়িয়ে ছিল তার ওই চিরকিশোরের মতো গোঁফ-দাড়িহীন, কিছুটা মঙ্গোলয়েড, নিষ্পাপ ও সরল ‘ভাজা মাছটি উলটে খেতে জানে না’ চিহ্নিত মুখে, তার মস্ত দুটি উজ্জ্বল ও পলকে পলকে বাঙ্ময় হয়ে ওঠা চোখে, তার চাঁছাছোলা কণ্ঠস্বরে, তার বেপরোয়া আÍবিশ্বাসময় ভঙ্গিতে, যা কিছুটা ঢাকাই কুট্টিদের চিনিয়ে দেয়। তারা সবসময় সবকিছুতে ঁঢ়ঢ়বৎ যধহফ নিতে চায়। ঢাকার লোকেরা ‘স’-এর জায়গায় ‘হ’ বলে কেন, জিজ্ঞেস করাতে তারা তেরিয়া হয়ে বলে, ‘কোন্ হালায় কইসে?’ যখন বলা হয়, এই তো আপনি বললেন, তখন সে গম্ভীর মুখে উত্তর দেয়, ‘অইটা আপনের হুনতে বুল অইসে!’ ভানুবাবু কুট্টি ছিলেন না, কিন্তু ঢাকার লোকের যে প্রসিদ্ধ ও অবিচল আÍবিশ্বাস কোনো বিরোধিতাকেই আমল দিতে চায় না, সেটি তার অভিনীত চরিত্রগুলোরও ছিল।

৩.
না, আমি তার অভিনয়ের ধারাবাহিক পর্যালোচনায় যাব না, সে কাজে যোগ্যতর মানুষেরা আছেন। আমি বলব আরেকটা কথা, পশ্চিম বাংলার সমাজ-সংস্কৃতির ইতিহাসে ভানুবাবুর বিশেষ অবদানের কথা। এবার বলি যে, পূর্ববঙ্গের মানুষেরা দেশভাগের আগে পশ্চিম বাংলায় অপরিচিত না হলেও (প্রচুর ছাত্র পড়তে আসত কলকাতায়) তারা খানিকটা আজকালকার ভাষায় যাকে ‘অপর’ বলে তা-ই তো ছিল, কিছুটা যেন বহিরাগত। ঊনবিংশ শতাব্দীর নানা নাটকে (‘সধবার একাদশী’, ‘বেল্লিক বাজার’) ঢাকার বাঙালদের নিয়ে এই ‘অপর’ ভেবেই প্রচুর রঙ্গব্যঙ্গ করা হয়েছে, যেন রজনীকান্ত সেনের প্যারডিতে তার প্রতিফলন পাই- ‘বাঙাল বলিয়া করিয়ো না হেলা, ঢাকার বাঙাল নহি গো!’ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সেই সময়’-এও এর পুনরাবৃত্তি আছে। সে ছিল একরকম। কিন্তু দেশভাগের পর যখন দলে দলে লোক ‘আইসি, খাইসি’ করে এসে পড়ল, হাজার দুর্গতির মধ্যেও বাঁচার জন্য আক্রমণাত্মকভাগে এখানকার মাটি-বায়ু-জল-জীবিকা দখল করতে লেগে গেল, তখন কিছুটা বৈরিতা, অন্তত ব্যঙ্গময়তা যে তৈরি হয়েছিল তাতে সন্দেহ নেই। ‘বাঙাল, পুঁটি মাছের কাঙাল’, কিংবা ‘বাঙাল মনুষ্য নয়, উড়ে এক জন্তু, লাফ দিয়ে গাছে চড়ে, ল্যাজ নাই কিন্তু’-এই সব লোকবচনের মধ্যে যা প্রকাশ পায়। যদিও ফিল্মে, ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ বা ‘ওরা থাকে ওধারে’ ইত্যাদিতে ঘটি বাঙালের প্রেম ও বিয়ে দেখানো শুরু হয়ে গেছে, তবু ‘বাঙাল’ নামক ‘অপর’দের সহনীয়, গ্রহণযোগ্য ও প্রিয় করে তুলেছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মানুষেরা, অভিনয়ে ঘটি-বাঙাল সবাইকে মাতিয়ে দিয়ে। আমরা বলি, এ তার এক বিশাল সামাজিক অবদান, বিনোদনের মধ্য দিয়ে, কিন্তু বিনোদনের চেয়ে অনেক গভীর।

কাজেই তাকে শুধু ‘এন্টারটেইনার’ বলে যিনি থামবেন, তিনি ভুল করবেন। তিনি পশ্চিম বাংলার সমাজে একটা বিপ্লবও ঘটিয়ে দিয়ে গেছেন। তিনি কি সেটা জানতেন?


লেখক: ভারতের খ্যাতনামা লেখক; সাবেক উপাচার্য. রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension