বাংলাদেশ

ঢাবির সামিয়া-মার্জানের চৌর্যবৃত্তির শাস্তি নির্ধারণে দুই ট্রাইব্যুনাল গঠন

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি প্রমাণিত হওয়ায় সামিয়া রহমানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষকের শাস্তি নির্ধারণে দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের নিয়মিত এক সভায় তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিন শিক্ষকের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান এবং অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানে যৌথভাবে লেখা ৬টি একাডেমিক গবেষণা-নিবন্ধে ৬০-৮০ শতাংশ করে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ড. মুহাম্মাদ ওমর ফারুকের পিএইচডি থিসিসে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রোভিসি (শিক্ষা) এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, সামিয়া রহমান ও সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অধ্যাপক রহমতুল্লাহকে প্রধান করে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাবির সিন্ডিকেট সভায় গবেষণা ও নিবন্ধে লেখা চুরির অভিযোগে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগের মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর গত বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে তদন্ত কমিটি এ অভিযোগের সত্যতা পায়। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আজকের সিন্ডিকেটে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। সামিয়া রহমান শিক্ষকতার পাশাপাশি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের হেড অব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পদে কর্মরত রয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বিদেশি একটি জার্নালের পক্ষ থেকে তাদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ এসেছিল। সাঈদ একাডেমি অব প্যালেস্টাইন থেকে করা ওই অভিযোগে বলা হয়, ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক মাহফুজুল হক মারজানের লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: এ কেস স্ট্যাডি অব দ্যা কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ আর্টিকেলের ৮৯, ৯০ ও ৯১ পৃষ্ঠায় এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ এর ৫, ৬, ৬৬, ৬৭, ৬৮ এবং ১১৯ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে কপি করা হয়েছে।

সামিয়া ও মারজানের আর্টিকেল ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: এ কেস স্ট্যাডি অব দ্যা কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ঢাবির সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়।

এর আগে অভিযোগ ওঠে, ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি আর্টিকেল থেকে সামিয়া রহমান ও মারজান লেখা চুরি করেছেন। ১৯৮২ সালের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’র ৪ নম্বর ভলিউমের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ফুকোর এই আর্টিকেলটি প্রকাশিত হয়েছিল।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension