তারেকের নেতৃত্বের কারণেই পদত্যাগ?

রূপসী বাংলা নিউজ ডেস্ক: দলের ভিতরে বিভক্তি ও বিদেশে বসে তারেক রহমানের নেতৃত্বের কারণে দল থেকে সিনিয়র অনেক নেতা পদত্যাগ করছেন বলে মনে করছেন বিএনপির একটি অংশ। তাদের ভাষ্য, ২০১৬ সালে ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল পরে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের সময় দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে নেতাকে ভাইস চেয়ারম্যান পদ দিয়েছেন, তারেক রহমান (বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তা পরিবর্তন করে তাকে উপদেষ্টা পদ দেন। এ বিষয়টি নিয়ে অনেক নেতা তারেক রহমানের ওপর মনক্ষুন্ন। আবার জামায়াতের সঙ্গে জোটগত রাজনীতি করার কারণেও দল ছাড়ছেন অনেকে। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও মোসাদ্দেক আলীর বিএনপির ত্যাগের কারণও তারেক রহমানের সঙ্গে মতভেদ বলে জানা গেছে।

এদিকে বিএনপি থেকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান মোর্দেশ খানের পদত্যাগের পর দলটির ভিতরে আলোচনা উঠেছে যে আরো কয়েক শীর্ষ নেতা দল থেকে বের হয়ে যাবেন। গত ৬ নভেম্বর মাহবুবুর রহমান ও ৫ নভেম্বর মোর্শেদ খানের পদত্যাগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলের হাইকামন্ডের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, তারেক রহমান তার মায়ের (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) মুক্তির বিষয়েও জোরালো কোনো আন্দোলন গড়ে তুলবেন না। দলীয় প্রধানের কারামুক্তিও তাই সুদূরপরাহত বিষয়। আর খালেদা জিয়া বিহীন এসব নেতার বিএনপির রাজনীতি করার ইচ্ছা নেই।

পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতারা পদত্যাগ করছেন, সেটা আমরা আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে জানতে পারছি। আমি এখনো জানি না।

এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি একটি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম। একটি বটগাছ। ক্লান্ত শরীর নিয়ে মানুষ এখানে আসবে বিশ্রাম নিবে। আর পিপাসা মেটানোর পরে আবার চলে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং এদেরকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার দরকার নেই এবং বিচলিত হওয়ারও কিছু নেই।

জানতে চাইলে দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, উনি তো (মাহবুবুর রহমান) পদত্যাগ করেননি। উনি অব্যাহতি চেয়েছেন। কারণ উনি বয়স্ক এবং উনার অনেক বয়স হয়েছে।

তবে পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি বিএনপির রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেছি। মাস দুয়েক আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছি। দলের মহাসচিবকেই চিঠি দিয়েছি।

অপরদিকে মাহবুবুর রহমান ও মোর্শেদ খানের দেখানো পথ ধরে আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা শিগগিরিই বিএনপি ছাড়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম ও এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিএনপি ছাড়ার ঘোষণা দিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *