প্রধান খবরবাংলাদেশ

দ্বিতীয় ধাপে পৌর নির্বাচন: আ.লীগ ৬০ ও বিএনপির ১৮ শতাংশ ভোট

দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ভোটের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এ ধাপে ৪৫টিতে দলটির প্রার্থীরা মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

এর মধ্যে ৪১ জন ভোটের মাধ্যমে ও বাকি চারজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান। অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা পেয়েছেন ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট।

দলটির মাত্র চারজন মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ২২ দশমিক ০৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দ্বিতীয় ধাপের ৫৫টি পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার দ্বিতীয় ধাপে ৬০টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ফল স্থগিত রয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, এর আগে প্রথম ধাপের ২৪ পৌরসভায় সরকারি দলের প্রার্থীরা ৬৪ দশমিক ০৬ শতাংশ ভোট ও ১৯টিতে মেয়র পদে জয় পেয়েছিলেন। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থীরা পেয়েছিলেন ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ ভোট এবং মেয়র পদে দুটিতে জয় পেয়েছিলেন। এ হিসাবে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বেশী সংখ্যক পৌরসভায় মেয়র পদে জয় পেয়েছেন।

তবে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের হার বিবেচনায় ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ পিছিয়ে পড়েছে দলটি। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছেন। সরকারি দলে থাকারও পর দলটির একজন মেয়র প্রার্থী তার জামানত তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। পক্ষান্তরে বিএনপির ২৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ভোট হওয়া ৫৫টি পৌরসভায় ১২ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৬ জন ভোট দিয়েছেন। এসব পৌরসভায় মোট ভোটার ছিলেন ২০ লাখ ৯১ হাজার ৬৮১ জন। ভোট পড়ার হার ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি হারে ৮৫ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পড়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভায়।

কাগজের ব্যালটে ভোট হওয়া এ পৌরসভায় ১১ হাজার ৮৬৭ জন ভোটের মধ্যে ১০ হাজার ৯২টি ভোট পড়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ-আল পাঠান ৮ হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. জাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৭৫ ভোট। অপরদিকে সবচেয়ে কম ৩৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ঢাকার সভার পৌরসভায়।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হওয়া এ পৌরসভায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ৬৩ হাজার ১৭৯টি। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের হাজী মো. আব্দুল গণি ৫৬ হাজার ৮০৪ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপির আলহাজ মো. রেফাত উল্লাহ পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৩০ ভোট। এ ধাপে সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত মেয়র প্রার্থী মোট প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ৮ লাখ ৩০ হাজার ১৬২টি।

ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬১২টি; যা প্রদত্ত ভোটের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা পেয়েছেন ২ লাখ ৩১ হাজার ৯৮২টি, যা প্রদত্ত ভোটের ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।

বড় দুই দলের বাইরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুর রশিদ রেজা সরকার ২ হাজার ৭০৪ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের মো. আব্দুল্লা আল মামুনকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের মো. আনোয়ারুল কবির ৮ হাজার ৩০ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের মো. শামিমুল ইসলাম সানাকে হারিয়ে মেয়র হয়েছেন।

সরকারি দলের প্রার্থী হয়েও হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শ্রীধাম দাশ গুপ্ত জামানত হারিয়েছেন। এ পৌরসভায় ১৫ হাজার ৯৮৭টি ভোটের মধ্যে পড়েছে ১৩ হাজার ১০৫ ভোট। এতে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান ৫ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে ২৯টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জামানত তুলতে পারেন নি।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension