নাসা বিজ্ঞানীর নামও বাদ এনআরসিতে

রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: শনিবার প্রকাশিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি তালিকায় নাসার বিজ্ঞানী ডা. জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামীর নাম বাদ পড়েছে। আসামের  গুয়াহাটিতে সাংবাদিক ও অসমীয়া বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এ বিষয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী ভারতের প্রথম চন্দ্র অভিযান ‘চন্দ্রযান-১’ এর প্রধান বিজ্ঞানী। এই অভিযানের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, ‘চন্দ্রযান-২’ এর সঙ্গেও তিনি জড়িত রয়েছেন। বর্তমানে ভৌতিক গবেষণাগার এর সঞ্চালক।

ডা. জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী আসাম বিধানসভার স্পীকার হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামীর বড় ভাই। হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী।

এনআরসি তালিকা সম্পর্কে জিতেন্দ্রনাথ বলেন,‘দীর্ঘ বিশ বছর ধরে তিনি আহমেদাবাদে কর্মরত রয়েছেন। এ কারণে এনআরসির প্রয়োজনে কিছু কাগজপত্র তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু যোরহাটে তাদের পৈত্রিক বাড়ি-ঘর রয়েছে।’

আসামের বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্ন হল কিভাবে বা কোন সমীকরণে এনআরসি তালিকা থেকে অসমীয় সম্প্রদায়ভুক্ত দত্ত, দাস, মোহন্ত, গোস্বামী, চৌধুরী, ভট্টাচার্য, চক্রবর্তী, তালুকদার, বরা, বরদলৈ ও হাজারিকা পদবীর জনগণের বিশাল শ্রেণীর নাম বাদ পরেছে।

অনেকেরই মতে, এইসব পদবীর অসমীয়া নাগরিকদের নাম নাগরিক পঞ্জি তে না থাকা অবশ্যই সন্দেহের উপরে নয়। এই নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ওঠেছে গুয়াহাটি জুড়ে।

অসমীয়া সম্প্রদায়ের একটি বিরাট অংশ এনআরসি তালিকা মানতে রাজি নন। কারণ ১৯ লাখের মধ্যে ১২ লাখ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর নাম বাদ পরেছে।

এনআরসি তালিকা থেকে বিশাল সংখ্যক অসমীয়াদেরও নাম বাদ পড়েছে তা একপ্রকার পাকাপোক্তভাবে ধরা পড়ছে।

এদিকে এনআরসি তালিকা থেকে ১২ লাখ হিন্দু বাদ পড়ার কারণে বিজেপি বিধায়ক সংসদদের পদত্যাগ দাবি করেছে বরাকের হিন্দু সংগঠন।

আসাম বাঙালি হিন্দু অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাসুদেব শর্মা বলেন,‘২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১৬ আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির একমাত্র প্রতিশ্রুতি ছিল হিন্দুদের সুরক্ষা দেওয়া। আমরা বারবার তাদের কথায় কান দিয়েছি এবং আজ মনে হচ্ছে আমরা এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। গত বছর এনআরসির খসড়া প্রকাশের পর থেকেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম হিন্দুদের বাদ দেওয়ার এক বিশাল যড়যন্ত্র চলছে। অথচ এনআরসি তৈরি করার মূল উদ্দেশ্যে ছিল বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে পরা মুসলমানদের চিহ্নিত করা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *