করোনানিউ ইয়র্কযুক্তরাষ্ট্র

নিউ ইয়র্ক কিভাবে স্থবির ভ্যাকসিন বিতরণে গতি আনবে?

জাহান আরা দোলন: গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো সমালোচনা করে বলেছেন, নিউ ইয়র্কের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিতরণ কর্মসূচির মারাত্মকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। সোমবার পর্যন্ত রাজ্যব্যাপী হাসপাতালগুলোর প্রায় অর্ধেকের বেশী ডোজ এখনও অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে নিউ ইয়র্কের সকল অধিবাসীদের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছুতে চার বছরেরও বেশী সময় লেগে যাবে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মাত্র ১ লক্ষ ১৮ হাজার মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। যা মোট সংখ্যার এক চতুর্থাংশ।

রাজ্যব্যাপী হাসপাতালে ভর্তি এবং সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ার মতো জরুরী অবস্থাই এই টিকাদান কর্মসূচির পিছিয়ে পড়ার কারণ। তাছাড়া এ সময়ে নিউ ইয়র্কে করোনারর নতুন এবং আরও সংক্রামক রূপ শনাক্ত করা হয়।

প্রত্যাশার তুলনায় কর্মসূচির ধীরগতি শহর ও রাজ্য পর্যায়ে প্রচুর সমস্যা তৈরি করেছে। প্রাথমিক ডোজ গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ও হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার অভাব এর জন্যে দায়ী। এই হাসপাতালগুলোর অধিকাংশই ইতোমধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীতে পূর্ণ। কুমো দাবী করেন, কর্মসূচির এই ধীরগতির কারণ সরবরাহের ঘাটতি। এখন পর্যন্ত ফেডারেল সরকার থেকে নিউ ইয়র্কে মাত্র ৯ লক্ষ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। এই সংখ্যার অর্ধেক পরিমাণই দেওয়া হবে রাজ্যের ২১ লক্ষ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের এবং ব্যক্তিগত হাসপাতালগুলোতে।

সোমবারে এক সংবাদ সম্মেলনে কুমো বলেন, ১শ’ ৯৪ টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে অল্প কয়েকটি তাদের বরাদ্দকৃত ডোজ সরবরাহ করেছে। বাকিরা ১৫ শতাংশেরও কম পরিমাণে ডোজ বিতরণ করেছে। তিনি হাসপাতালগুলোকে টিকাদানের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, তারা যদি এক সপ্তাহের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রদান করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে  দশ লক্ষ ডলার জরিমানা গুণতে হতে পারে এবং পরবর্তী ভ্যাকসিন চালান থেকে তাদের বাদ দেওয়া হতে পারে।

দ্য টাইমস্‌ এক প্রতিবেদনে জানায়, কুমো হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে কর্মকর্তাদের ‘ব্যক্তিগত দায়িত্ব’ নিতে বলায়, মেয়র বিল ডি ব্লেসিও ‘রাজ্য’র নিয়ম বদলে শহর ও কর্মীদের জন্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে ৭৫ বছর বা তদূর্ধ্বদের ভ্যাকসিন দেওয়ার অনুমতি দিতে আহ্বান জানান।

গেল সোমবার কুমো প্যারামেডিকস এবং ডেন্টিস্টসহ স্বাস্থ্যসেবা এবং ফ্রন্টলাইন কর্মীদের বেশ বড় একটা দলের ভ্যাকসিন গ্রহণের অনুমতি দিয়েছিল। একই দিনে, ডি ব্লেসিও মাস শেষে ভ্যাকসিন প্রদান কেন্দ্রের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন। পরদিন মঙ্গলবার দুটো কেন্দ্র খোলা হয়। এদিন ডি ব্লেসিও বলেন, আগামী সপ্তাহে ১ লক্ষ ভ্যাকসিন প্রদানের লক্ষ্যে শহরে আরও ৫টি কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা রয়েছে যেগুলো সপ্তাহের প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই সেবা দেবে।

দ্য টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমেই শহরের ব্যস্ততম বিভিন্ন ক্লিনিক ও ফ্রন্টলাইন সেবাকর্মীদের অনুমোদনের ফলে এই ভ্যাকসিন প্রদান প্রক্রিয়ায় বেশকিছু ভবিষ্যত জটিলতা মোকাবেলায় সাহায্য করবে। তবে এখন দশ লক্ষ মানুষের অ্যাপয়েন্টমেন্ট তৈরি করাটাই নতুন প্রতিবন্ধকতা।

এ সপ্তাহে, ইস্ট হার্লেম ও লোয়ার ম্যানহাটনের নতুন কেন্দ্রগুলো মঙ্গলবার থেকে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৭টার পর্যন্ত ভ্যাকসিন প্রদান করছে। ভ্যাকসিন প্রদানের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট সোমবার উদ্বোধনের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পূরণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য ভ্যাকসিন পেতে কোথায় যেতে হবে সেটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সোমবার এক চিকিৎসক দ্য টাইমসকে বলেন তার অফিসে, ‘চিকিৎসক ও তাদের কর্মীদের ভ্যাকসিন নিতে কোথায় যেতে হবে জানতে চেয়ে কয়েকশ’ ইমেইল ও টেলিফোন কল এসেছে।’❐

নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension