নিউ ইয়র্কযুক্তরাষ্ট্র

নিউ ইয়র্ক নগরে বাঁধ ভেঙে নেমেছে বসন্তের ঢেউ

হাজারও মৃত্যুর শোক কাটিয়ে নিউ ইয়র্ক আবার গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ নগরের আকাশে শনিবার সকালে ছিল ঝলমলে রোদ। একদিন আগেই ছিল থেমে থেমে বৃষ্টি। ঝলমলে রোদেলা দিনটিকে উদযাপন করতে লকডাউনের নিয়ম ভেঙে নিউ ইয়র্কের মানুষ নেমে এসেছিল পথে।

পোস্ট অফিস, সুপার মার্কেট, গ্রোসারি শপ ও রেস্টুরেন্টসহ সবখানেই ছিল মানুষের লম্বা লাইন। মূলত দীর্ঘ লকডাউনের একঘেয়েমি কাটাতেই বাইরে এসেছিল নিউইয়র্কের মানুষ। বহুদিন স্থবির হয়ে থাকা শহরের পার্কগুলোতে ফিরেছে প্রাণ।

ছিল উপচে পড়া ভিড়, যেন নগরে বাঁধ ভেঙে নেমেছে বসন্তের ঢেউ। 

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে নিউইয়র্কে প্রতিদিন কারও না কারও মৃত্যু হচ্ছে। তারপরও একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন নাগরিকরা। জেগে উঠছেন, নতুন করে জীবনের অঙ্ক কষছেন তারা। ঝকঝকে রোদের দিনে মানুষ শুধু আশপাশে নয়, পার্কেও ঘুরতে গিয়েছিল।

পার্কচেস্টারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওভাল পার্ক। এদিনে বাঙালিদের অনেকেই ছুটে গিয়েছিলেন করোনাভীতি উপেক্ষা করে মানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কসহ নগরীর অন্যান্য পার্কে অনেকটা মুক্তির আনন্দ নিয়েই।

করোনা তাদের অনেক স্বজনকে নিয়ে গেলেও শোককে শক্তিতে পরিণত করে তারা আবার ক্রমেই জেগে উঠছেন। তবে নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও বলেন, ‘সুন্দর আবহাওয়া আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।’

নিউইয়র্কে ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে বসন্ত। পুরো দেড় মাস বসন্তের রঙে রঙিন হতে পারেননি নাগরিকরা। করোনার ভয়ে ছিলেন ঘরবন্দি। রাজ্য সরকার কিছুটা শিথিলতা আনার পরিকল্পনা করতেই বসন্তের ঢেউ খেলে গেছে নাগরিকের মনে। রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন তারা।

অনেকে জমে থাকা শরীরে শক্তি জোগাতে ব্যায়াম করছেন। পার্ক-রাস্তায় দৌড়াচ্ছেন কেউ কেউ। পার্কগুলোতে ছিল পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের সরব উপস্থিতি। নাগরিকরা মাস্ক পরছেন কিনা বা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন কিনা সেসব দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন তারা।

ফলে পিকনিক করার মতো কোনো পরিবেশ পার্কগুলোতে ছিল না। হিউডসন রিভার ও নিউজার্সির বাসিন্দারা রাজ্যে ফিরতে শুরু করেছেন।

শনিবার থেকে কাউন্টির পার্কগুলো খুলে দেওয়ায় সেখানেও ছিল মানুষের ভিড়। গত শুক্রবার নিউ জার্সির গভর্নর ফিলিপ ডি মারফি বলেন, সামাজিক দূরত্ব মানলে এবং মাস্ক পরলে কেবল তারাই পার্ক ও গলফ কোর্সগুলোতে যেতে পারবেন।

উইলিয়ামসবার্গের ডোমিনো পার্কে গিয়েছিলেন এরিক ফ্রিম্যান (২৭)। পার্কের রক্ষীদের নজর এড়িয়ে তিনি মাস্ক চিবুকের নিচে রেখে হাঁটছিলেন।

তিনি বলেন, ‘মাস্ক সত্যিই বিরক্তিকর। মাস্ক পরে আপনি কীভাবে পান করবেন?’ রালফ ভাজকুয়েজ বলেন, ‘আমি প্রতিদিনই পার্কে মাছ শিকারে যেতাম। কিন্তু এখন সেটা বন্ধ হয়ে গেছে।’

তবে নগরে আগের মতো কোলাহল থাকবে না। থাকবে না আতশবাজি উৎসব, ব্যান্ড পার্টি বা কোনো শোভাযাত্রা। গভর্নর অ্যান্ড্র– কুমো গত ২৭ এপ্রিল প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, অঞ্চলভিত্তিক কিছু অংশ শাটডাউন থেকে খুলে দেয়া হবে।

যেসব বড় বড় আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানের কারণে অন্যান্য রাজ্য থেকে নিউইয়র্ক নগরে মানুষের ঢল নামে, সেসব অনুষ্ঠান আপাতত বাদ দেয়া হবে। কারণ করোনা ছড়ানোর ঝুঁকির কারণে নিউইয়র্কের কিছু অংশ আরও কিছুদিন লকডাউনে থাকবে।◉

নিউইয়র্ক টাইমস

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension