প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ২০ দলীয় জোটের বৈঠক আজ

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট:  নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ২০ দলীয় জোট গুলশানে বৈঠকে বসছে। বিএনপির বৈঠকে আগামী নির্বাচনি পরিকল্পনা তৈরি করবেন দলটির নেতারা। জোটের বৈঠকে নির্বাচন, মনোনয়ন ও আগামীদিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। ঘোষণার আগে আজ শনিবার বিকাল ৫টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও সন্ধ্যায় ২০ দলীয় নেতারা এক জরুরি  বৈঠকে বসবেন। একই ইস্যুতে রাতে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেরও বৈঠক আছে।

আগামীকাল রবিবার বিএনপি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মতামত নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে পারেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।এছাড়া লন্ডনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আরেক দফা কথা বলবেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সব আলোচনা শেষে দুয়েক দিনের মধ্যেই আসবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া সংক্রান্ত ঘোষণা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে অংশ নিতে হলে জোটগতভাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন আছে। কেননা জোটগতভাবে প্রার্থী দিতে হলে তিন দিনের মধ্যে তা জানাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তাই আজকের উভয় জোটের বৈঠকে এ বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট সূত্র জানিয়েছে, ঘোষিত তফসিলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে কী কী প্রতিবন্ধকতা আছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে বিএনপির থিংক ট্যাংক বা বিশেষজ্ঞ মহলে।

উভয় জোটের পক্ষ থেকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম। তফসিল ঘোষণার পরও বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।রাজশাহীতে জনসভায় যোগ দিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো হয়েছে। ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে মহড়া দিয়েছেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এছাড়া গত কয়েক দিনে ২২ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।নেতাকর্মীরা বাসায় ঘুমানো দূরের কথা, এলাকায়ও থাকতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে গেলে প্রচার-প্রচারণা করাও সম্ভব হবে না। ফলে নির্বাচনে যাওয়াটা ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে কী করণীয়, সেসব বিশ্লেষণ শেষেই আসবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে উভয় জোটের ঘোষণা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে কোনও সিদ্ধান্ত হয় নি। বৈঠকে ভালো-মন্দ বিশ্লেষণ হয়েছে। কী করা উচিত, কী করা উচিত না- এসব নিয়ে সবাই মতামত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বৈঠকে কেউ কেউ বলেছেন, সরকার তো তার জায়গা থেকে একটুকুও সরছে না। কিন্তু নির্বাচন করতে গেলে এখন আমরা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন পাব না। নেতাকর্মী গ্রেফতার এখনও অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচনে গিয়ে সরকারকে বৈধতা দেওয়া হবে। আবার কেউ বলেছেন, নির্বাচন না করলে দলের আরও ক্ষতি হতে পারে। তবে এ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয় নি। শুধু আলোচনা হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চাইলে তিন দিনের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে। আজই দলগুলোকে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হবে। তিনি বলেন, কোনও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সদস্য যদি নিবন্ধিত কোনও দলের হয়ে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান, তাহলে সেটি সম্ভব। এ অবস্থায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ও ২০ দলীয় জোটের আজকের বৈঠকটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন উভয় জোটের নেতারা।

বৃহস্পতিবার গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে ১১টি দলের মতামত নেয়া হয়। সূত্র জানায়, এর মধ্যে ১০টি শরিক দল নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দেয়। যদিও তারা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত বলে মনে করছে। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বাকি ৯ দল তাদের মতামত জানানোর আগেই জোটের বৈঠক মুলতবি করা হয়।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension