পঞ্জাবের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিলেন পোলার্ড

রূপসী বাংলা স্পোর্টস ডেস্ক : ব্যর্থ গেইল ঝড়৷ লোকেশ রাহুলের দুরন্ত শতরানও ঢাকা পড়ে গেল কায়রন পোলার্ডের অতিমানবিক ইনিংসের ছায়ায়৷ চোটের জন্য রোহিত শর্মা ছিটকে যাওয়ায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পান পোলার্ড৷ নেতৃত্বের ব্যাটন হাতে নিয়ে মহীরুহ হয়ে দেখা দেন ক্যারিবিয়ান তারকা৷ অধিনায়কোচিত দৃঢ়তায় কার্যত একক প্রচেষ্টায় মুম্বইকে ৩ উইকেটে জয় এনে দেন পোলার্ড৷

গেইলের দুরন্ত হাফসেঞ্চুরি ও লোকেশের অসাধারণ শতরানের সুবাদে করে ওয়াংখেড়েতে প্রথমে ব্যাট করে কিংস ইলেভেন পঞ্জাব নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৭ রান তোলে৷ জবাবে ব্যাট করতে নেমে শেষ বলের থ্রিলারে জয় তুলে নেয় মুম্বই৷ ইনিংসের শেষ বলে দু’রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন পোলার্ডের স্বদেশীয় আলজারি জোসেফ৷ মুম্বই ২০ ওভারে ৭ উইকেটের বিনিময়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮ রান তুলে নেয়৷ পোলার্ড আইপিএল কেরিয়ারের সর্বোচ্চ রান করে ম্যাচের একেবারে শেষবেলায় আউট হন৷

পঞ্জাবের হয়ে গেইল-রাহুলের ওপেনিং জুটি ১২.৫ ওভারে ১১৬ রান তোলে৷ ৩১ বলে হাফসেঞ্চুরি করা গেইল শেষমেশ ৩৬ বলে ৬৩ রান করে বেহরেনডর্ফের বলে ক্রুণাল পান্ডিয়ার হাতে ধরা পড়েন৷ তিনি ৩টি চার ও ৭টি ছক্কা মারেন৷ চলতি আইপিএলে এটি গেইলের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি৷ মোহালিতে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম পর্বের ম্যাচে ২৪ বলে ৪০ রান করেছিলেন তিনি৷

মোহালিতে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে সফল হয়েছিলেন রাহুলও৷ তিনি ৫৭ বলে ৭১ রান করে অপরাজিত ছিলেন৷ ওয়াংখেড়েতে কার্যত ঠিক তার পর থেকে ব্যাটিং শুরু করেন লোকেশ৷ ফিরতি অ্যাওয়ে ম্যাচে তিনি ৬৪ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন৷ গোটা ইনিংসে তিনি ৬টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন৷ আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে দু’টি সেঞ্চুরি থাকলেও আইপিএলে এটি তাঁর প্রথম শতরান৷

বাকিরা অবশ্য বিশেষ অবদান রাখতে পারেননি৷ মিলার ৮ বলে ৭ ও করুণ নায়ার ৬ বলে ৫ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার শিকার হন৷ স্যাম কারেন ৩ বলে ৮ রান করে বুমরাহকে উিকেট দেন৷ ৩ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন মনদীপ সিং৷

প্রায় দু’শো রান তাড়া করতে হলে ইনিংসের শুরুটা ঠিক যেরকম হওয়া দরকার, মুম্বইয়ের ওপেনিং জুটি তেমন একটা মঞ্চ উপহার দিতে পারেনি দলকে৷ কুইন্টন ডি’কক ২৪ ও অভিষেককারী সিদ্ধেশ ল্যাড ১৫ রান করে আউট হন৷ সূর্যকুমার যাদব ২১ রান করে সাজঘরের পথে হাঁটা লাগান৷ ইশান কিষাণ ৭ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি৷

এক প্রান্ত দিয়ে নিয়মিত অন্তরে উইকেট পড়তে থাকলেও পোলার্ড ঠাণ্ডা মাথার খুনে মেজাজে রান তুলতে থাকেন৷ একবারের জন্যও প্রয়োজনীয় রান রেট ধরাছোঁয়ার বাইরে যেতে দেননি তিনি৷ হার্দিক (১৯) ও ক্রুণাল (১) পান্ডিয়াকে একই ওভারে ফিরিয়ে পঞ্জাবকে একসময় চালকের আসনে বসিয়ে দেন মহম্মদ শামি৷ তবে পঞ্জাবের বাকি বোলাররা পোলার্ডকে আটকানোর ফর্মুলা খুঁজে বার করতে পারেননি৷

১টি চার ও ৭টি ছক্কার সাহায্যে ২২ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা পোলার্ড শেষমেশ ৩১ বলে ৮৩ রান করে ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হন৷ গোটা ইনিংসে তিনি ৩টি চার ও ১০টি ছক্কা মারেন৷ রাহুল চাহারকে (১) সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটা যথাযথভাবে সম্পন্ন করেন জোসেফ৷ তিনি অপরাজিত থাকেন ১৩ বলে ১৫ রান করে৷

মহম্মদ শামি ২১ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন বটে৷ বাকিরা রান খরচ করেন দু’হাত খুলে৷ রাজপুত, অশ্বিন ও কারেন একটি করে উইকেট পেলেও দলের হার আটকাতে পারেননি৷ সঙ্গত কারণেই পোলার্ড ছাড়া আর কাউকে ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার বেছে নেওয়া সম্ভব ছিল না৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *