পাক ছক বানচাল করতে ভারতের মাটিতেই বোমা ফেললেন ইন্দিরা

রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: আকাশে সেনা বিমান৷ নিচে হতচকিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা গর্তে ঢুকতে ব্যস্ত৷ সশস্ত্র মিজো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের রুখতে সেনাবাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা৷ বোমা পড়েছিল সুন্দরী আইজল শহরের উপরে৷ বিতর্কিত ঘটনার পঞ্চাশ বছর পূর্তি হচ্ছে৷ ভারতের মাটিতে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট নাশকতা রুখে দিতে কঠোর হয়েছিলেন প্রিয়দর্শিনী৷ ১৯৬৬ সালের কথা৷

আরও পরে রাষ্ট্র সুরক্ষায় তাঁরই নির্দেশে আশির দশকে স্বর্ণ মন্দিরে হয়েছিল সেনা অভিযান৷ গুঁড়িয়ে গিয়েছিল খালসা জঙ্গি ঘাঁটি৷ পরে জীবন দিয়ে চরম মূল্য চুকিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী৷

মিজো পাহাড়ে অস্থিরতা:
ষাটের দশক৷ সদ্য ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয়েছে৷ পাঞ্জাব-রাজস্থান-গুজরাট লাগোয়া সীমান্ত এলাকায় হয়েছে প্রবল ট্যাংক সংঘর্ষ৷ দু’পক্ষের ক্ষতি হলেও সেই যুদ্ধে ভারতের বিজয় ইতিহাস৷ স্বভাবতই ক্ষুব্ধ পাকিস্তান (তখনও অখণ্ড) ধরে নিল অন্য পথ৷ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সেনা কর্তাদের কাছে নির্দেশ এসেছিল করাচি থেকে (তখনকার পাক রাজধানী)৷ ঢাকায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হল৷ আর পরিকল্পনা মাফিক উত্তর পূর্বের মিজো পাহাড়ের দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে পুঁজি করে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদে মদত করতে এগিয়ে এল পাকিস্তান৷ শুরু হল প্রায় অরক্ষিত সীমান্ত টপকে মিজো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পূর্ব পাকিস্তানে ঢোকা ও সশস্ত্র আন্দোলনের ছক তৈরি৷ অস্ত্র দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় পাক সেনা৷


পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছিল৷ সশস্ত্র সংগঠন মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ) নেতৃত্ব আগ্রাসী ভূমিকা নিচ্ছিলেন৷ শুরু হয়েছিল নাশকতার পর্ব৷ এদিকে সরকারও কড়া ভূমিকা নেয়৷ অসম রাইফেলস অভিযান চালাতে শুরু করে মিজো পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায়৷ বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ক্রমে বড় আকার নিতে শুরু করে৷ মিজো সশস্ত্র আন্দোলনের নেতা পু লালডেঙ্গার সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের সেনা অফিসারদের বৈঠকের পর থেকে হামলার বহর বাড়তে থাকে মিজো জাতি অধ্যুষিত এলাকায়৷ প্রাথমিকভাবে লালডেঙ্গা সহ কয়েকজন মিজো নেতৃত্বকে গ্রেফতার করা হতেই বিক্ষোভের রেশ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে৷ অশান্তির মূল কেন্দ্র আইজল৷

অভিযানের মুহূর্তগুলি:

১৯৬৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ দিনটি গুরুত্বপূর্ণ৷ এই সময়েই মিজো বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এমএনএফ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সশস্ত্র পথে হামলার৷ ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথক মিজো এলাকা তৈরির দাবিতে শুরু হয় নাশকতার পরবর্তী পর্ব৷ পাল্টা আক্রমণের জন্য তৈরি হয় কেন্দ্র৷ সতর্কতা জারি হয় অসমে৷ আইজলের একের পর এক সরকারি ভবনের দখল নিতে শুরু করে এমএনএফ৷ শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তৎকালীন অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিমলাপ্রসাদ চালিহা৷

৪ মার্চ পাল্টা হামলায় যায় ভারত সরকার৷ মিজো বিদ্রোহীদের দমন করতে শুরু হয় আইজলে বোমাবর্ষণ৷ বিমান বাহিনীর পাশাপাশি একইসঙ্গে স্থলসেনা অভিযান শুরু হয়৷ দু পক্ষের গুলি বিনিময়ে রক্তাক্ত হয় মিজো পাহাড়৷ হতাহতের সংখ্যা বাড়ছিল৷ আইজল তখন ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন৷ একসময় ভেঙে পড়ে এমএএফ৷ পরবর্তী অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি৷ উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র৷ এই সব অস্ত্রের বেশিরভাগই আনা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে৷ বিচ্ছিন্নতাবাদী মিজো নেতৃত্ব পালিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ঘাঁটি তৈরি করে৷

Exit mobile version