পিকনিকের ভূরিভোজে চিতাবাঘের মাংস

শীত এলেই রীতিমতো বনভোজন আয়োজনের হিড়িক পড়ে যায়। পিকনিকের আয়োজনে মেতে ওঠে বিভিন্ন সংগঠন। বিভিন্ন স্পটে গিয়ে মুখরোচক রান্না নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ভোজনরসিকরা। কিন্তু তাই বলে বাঘের মাংস দিয়ে পিকনিক! এ কাজটিই করলেন ভারতের আসামের অটল রঙঢালি এলাকার বাসিন্দারা।

একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘকে পিটিয়ে মেরে তার মাংস দিয়ে ভূরিভোজ করেছেন তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কলকাতা টাইমস জানিয়েছে, সম্প্রতি চিতাবাঘের মাংস দিয়ে পিকনিক করেছেন আসামের এই স্থানীয়রা।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, কয়েক দিন আগে আসামের অটল রঙঢালি এলাকায় পাঁচজন মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছিল একটি চিতাবাঘ। নদী পেরিয়ে অন্য গ্রামে ঢুকেও কিছু মানুষের ওপর হামলা চালায় এই হিংস্র বাঘ। এরপর গ্রামবাসী বাঘটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। প্রথমে দূর থেকে ইট, পাথর মেরে বাঘটিকে দুর্বল করে দেন তারা। তারপর লাঠি দিয়ে পিটিয়ে চিতাবাঘটিকে মেরে ফেলে। এরপরই চিতাবাঘ মারার উল্লাসে উৎসবে মেতে ওঠেন গ্রামবাসী। মৃত বাঘের মাংস দিয়েই পিকনিকের আয়োজন করেন তারা।

এদিকে এমন ঘটনায় অবাক হয়েছেন আসামের বন অধিদফতরের কর্মকর্তারা। দেশটির পশুপ্রেমীরা বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেন না।

এ ঘটনায় বন অধিদফতর গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। জড়িতদের চিহ্নিত করতে ঘটনার তদন্তে নেমেছেন তারা।

এ বিষয়ে বন অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, নদী পার হয়ে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল চিতাবাঘটি। সেই সুযোগে গ্রামবাসী একে মেরে ফেলেন। এর আগেও এই অঞ্চলে এমনটি ঘটেছিল। আসাম-নাগাল্যান্ড সীমানায় এর আগে হাতি মেরে তার মাংস খেয়েছিলেন গ্রামবাসী। এবার বাঘ মেরে খাওয়ার ঘটনা ঘটল।

তাই বিষয়টি গুরুত্ব নিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *