প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় এটিএম শামসুজ্জামানের পরিবার

রূপসী বাংলা বিনোদন ডেস্ক: ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান বেশ কিছুদিন ধরেই রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার শারীরিক অবস্থা এখন খানিক স্থিতিশীল রয়েছে জানা গেছে। তবে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া প্রয়োজন বলে তার পরিবার মনে করছেন।

এটিএম শামসুজ্জামানকে দেখতে শুক্রবার দুপুরে আজগর আলী হাসপাতালে গিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ডা. সামন্ত লাল সেন এর আগে সুবীর নন্দীর বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টিও সমন্বয় করেছিলেন।

ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনাকে (এটিএম শামসুজ্জামান) বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু আমি হাসপাতালে যাইনি! উনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক সেই ১৯৮০ সাল থেকে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আগেও একবার গিয়েছি দেখতে। আজও গেলাম।’

পরিবার থেকে জানা গেছে উন্নততর চিকিৎসার জন্য এই বরেণ্য অভিনেতাকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে। তারই অংশ হিসেবে আপনার আজকের হাসপাতাল সফর জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে পুরো নিশ্চিত নই। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী দেশেও নেই। তবে আজ আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের লোক ছিলেন, এটা সত্যি। তারা দেখেছেন। আমিও তাদের সঙ্গে পুরো বিষয়টা নিয়ে আলাপ করেছি। প্রধানমন্ত্রী দেশে আসলে তাকে নিশ্চয়ই অবহিত করা হবে। এরপর হয়তো বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছেন এটিএম শামসুজ্জামান। কিংবদন্তি এ অভিনেতাকে ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই হাসপাতালে ২৭ এপ্রিল এই অভিনেতার শরীরে অস্ত্রোপচার হয়।

প্রসঙ্গত, পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে এটিএম শামসুজ্জামান সবার বড়। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারি পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন জলছবি চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা, এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক।

এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন তিনি। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করলেও ১৯৬৫ সালে অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন তার। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের নয়নমণি চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি।

১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত দায়ী কে? চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তিনি রেদওয়ান রনি পরিচালিত চোরাবালিতে অভিনয় করেন ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *