প্রবাস

প্রবাসীরা জানে না, এ কেমন রোড শো?

তোফাজ্জল লিটন


নিউ ইয়র্ক: থেকে  যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহব্যাপী রোড শো’র আয়োজন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শেয়ার বাজারের ব্যাপ্তি ও প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই এই রোড শো’র মূল উদ্দেশ্য। প্রবাসীদের এই অনুষ্ঠানের কথা জানে না প্রবাসের অধিকা বিনিয়োগকারি কিংবা সাংবাদিক। আড়াইশো জনের অধিক মানুষ যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন তারাই ছিলেন এই রোড শো’র বক্তা এবং শ্রোতা। বাংলাদেশে থেকে আগত সবার যাতায়াত খাওংয়া এবং থাকার খরচ বহন করেছে বাংলাদেশে সরকার। একজনের এক রাত হোটেলে শুধু থাকার খরচ আট শ’ ডলার। সরকারের এত টাকা খরচ করে কী লাভ হয়েছে এই প্রশ্ন জনমনে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের অংশ হিসেবে নিউ ইয়র্কে দুই পর্বের অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নিয়ে সম্মেলন। দ্বিতীয় পর্বে ছিল বিদেশি বিনিয়োগ সম্মেলন। কিন্তু বাংলাদেশে বিনিয়োগে সক্ষমতা রয়েছে এমন প্রবাসীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে তেমন চোখে পড়ে নি প্রথম পর্বে। প্রকৃত বিনিয়োগে উৎসাহী প্রবাসীদের এ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয় নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের বিরুদ্ধেও।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন একজন অতিথি হিসাবে। এ ব্যাপারে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি। কতজন প্রবাসী বিনিয়োগকারীকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তাদের কতজন অংশ নিয়েছেন তা জানার জন্য টেক্সট মেসেজে পাঠালেও তিনি কোনো রিপ্লাই দেন নি।

প্রবাসী বিনিয়োগে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারম্যান এস.এম. সেকিল চৌধুরী সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে বেশকয়েকজন বিশেষজ্ঞ অংশ নিয়েছেন। তারা খুবই আন্তরিক। কিন্তু অনুষ্ঠানে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। কেন নেই এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আসলে বুঝতে পারছি না।’

বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেওয়া কেয়ারএক্স-এর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা সৈয়দ আল-আমীন রাসেল জানান, আয়োজনটি খুবই ভালো ছিল। কিন্তু কমিউনিকেশনে বেশ ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, ওয়াল স্ট্রিটের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই এই বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। তারা অনেক বিষয়ে জানতে চেয়েছেন, যেমন বিনিয়োগ করলে মূলধন বা লভ্যাংশ ফেরত আনতে পারবেন কিনা। নিরাপত্তার বিষয়গুলোও তারা তুলে ধরেছেন। এ ব্যাপারে তারা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আরো স্বচ্ছ ধারণা আশা করেছিলেন।

রোড শো আয়োজনের ব্যাপারে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কাউন্সেলর শাহ আলম খোকন বলেন, দূতাবাসের ইকোনমিক মিনিস্টারকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর বাইরে দূতাবাসের সেখানে আর কোনো ভূমিকা নেই। ইকোনমিক মিনিস্টার মেহেদী হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৮ জুলাই ওয়াশিংটনে যে সম্মেলন হবে সেখানে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তারা অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, ২৮ জুলাই দ্বিতীয় রোড শো হবে ওয়াশিংটন ডিসিতে। তৃতীয়টি হবে ৩০ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে। চতুর্থ রোড শো’ হবে ২ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে। এ আয়োজনের স্পন্সর বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ এবং বাংলাদেশের টেক জায়ান্ট ওয়ালটন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension