বিনোদনমঞ্চনাটক

প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলের দুই বাংলার নাট্যমেলা ২০১৯ শেষ হলো

রাজিয়া সুলতানা, ঢাকা থেকে: শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে ‘প্রাঙ্গণেমোর’ নাট্যদল আয়োজিত নাট্যমেলা ‘দুই বাংলার নাট্যমেলা ২০১৯’ শেষ হলো। ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপি এ নাট্যমেলায় । এতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন নাট্যদল অংশ নেয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লি থেকে ৪টি এবং বাংলাদেশের ৫টি উল্লেখযোগ্য প্রযোজনার প্রদর্শনী হয়।

নাট্যমেলার শেষ দিনে মঞ্চায়ন হয় দিল্লির গ্রীণ রুম থিয়েটারের দর্শক নন্দিত নাটক বিসমিল্লা। ‘বিসমিল্লা’ নাটকটির গল্পর বাঁধুনি এখন থেকে শতবর্ষ আগের মানুষদের আবেগ, একটু স্বার্থ সামান্য প্রেম আর অনেক অনেক আত্মত্যাগ নিয়ে। নাটকটি রচনা করেছেন সুমনা কাঞ্জিলাল এবং নির্দেশনা দিয়েছেন অঞ্জন কাঞ্জিলাল। বিসমিল্লা নামভুমিকায় অভিনয় করেছেন অনুভব কাঞ্জিলাল । এছাড়া অন্যান্য চরিত্র রূপদানকারীরা হলেন, শিঞ্জিনী ব্যানার্জি, সোমা ব্যানার্জি, দেবযানী ব্যানার্জি, রূপা কর্মকার, সুমনা কাঞ্জিলাল, মনীষ নস্কও, সুখাংশু চ্যাটার্জি, সুহান বসু, অনুসূয়া ঘোষ, উপাসনা সোমা, অয়ন ব্যানার্জি, প্রভাত সর্দার, শিব রঞ্জন ব্যানার্জি, প্রহ্লাদ সরদার দ্বিতীয়, সুদীপ বিশ্বাস, শম্পা দাস, অঞ্জন কাঞ্জিলাল।

সত্তরের দশকের একটি বিখ্যাত পত্রিকার দুই রিপোর্টার বিশ শতকের শুরুর দিকের এক বিখ্যাত অভিনয় শিল্পীর সাক্ষাৎকার নিতে যায়। পতিতা পল্লী থেকে উঠে আসা সেই অভিনেত্রী খুলে ধরে তাঁর জীবনের এক একটি অধ্যায়। সে অধ্যায়ে বেরিয়ে আসে তখনকার সমাজ, তার রক্ষিতার জীবন, তার ওপর শারীরিক মানসিক অত্যাচার আর তাঁর প্রেম-এক বেহালা বাদক বিসমিল্লা। নিরক্ষর এই অভিনয় শিল্পী তারাময়ী কি করে অন্ধকার থেকে আলো এবং প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে আবার হারিয়ে যায় সেই অন্ধকারে- এ নাটক তারই এক জলন্ত দলিল। যদিও তারাময়ী কোনও ঐতিহাসিক চরিত্র নয়, কিন্তু আজ সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম থিয়েটারের সার্থকতা নিয়ে আমরা গর্বিত হই, অহংকার করি-সেই অহংকারের ইমারত তৈরী হয়েছে কিছু অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত গণিকাদের থিয়েটারের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর আত্মত্যাগে।

এ নাটক আজ থেকে একশ’ বছর আগের থিয়েটারের মানুষদের নিয়ে। কিছু আবেগ, কিছু স্বার্থ, কিছু প্রেম আর কিছু আত্মত্যাগ- যার নাম ‘বিসমিল্লা’।

৬ ডিসেম্বর নাট্যমেলা উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও নির্দেশক আসাদুজ্জামান নূর (এমপি)। প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালেদ এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দুতাবাসের হাইকমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলি দাশ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

সম্মাননা: ১৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় ‘থিয়েটারের সংকট- দর্শক না ভালো নাটক’ শিরোনামে মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। এ বিষয়ে ধারণাপত্র পাঠ করেন হাসান শাহরিয়ার। মূখ্য আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বপন রায়, মলয় ভৌমিক, আহমেদ ইকবাল হায়দার, রতন সিদ্দিকী, মোহাম্মদ আলী হায়দার, রহমান রাজু। সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ এবং  সঞ্চালক হিসাবে ছিলেন অনন্ত হিরা। সন্ধ্যা ৬ টায় প্রদান করা হয় ‘প্রাঙ্গণেমোর নাট্যযোদ্ধা সহযোদ্ধা সম্মাননা ২০১৯।‘ । সম্মাননা প্রদান করা হয় নাট্যযোদ্ধা মামুনূর রশীদের সহধর্মিনী গওহর আরা চৌধুরী, নাট্যযোদ্ধা আতাউর রহমানের সহধর্মিনী শাহিদা রহমান এবং নাট্যযোদ্ধা লিয়াকত আলী লাকীর সহধর্মিনী কৃষ্টি হেফাজকে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension