বাংলাদেশশিক্ষা

বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খোলার প্রস্তুতি

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পৃথক পৃথকভাবে খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই লক্ষে প্রত্যেক স্কুলে ‘রি ওপেনিং প্ল্যান’ চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়টি। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্ক ও করোনা প্রতিরোধক সামগ্রী কিনছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের রি-ওপেনিং চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১৪ নভেম্বরের পরে বিদ্যালয় খোলার সম্ভাবনা থাকায় আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে বিদ্যালয় ভিত্তিক ‘রি ওপেনিং প্ল্যান’ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসারের অনুমোদন নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে অধীনস্থ সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে।

এ বিষয়ে একটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কে জামান সুরুজ বলেন, বিদ্যালয় খোলার নির্দিষ্ট কোনো চিঠি না এলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কক্ষ, বাথরুম পরিষ্কার করা হচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয়ের মেশিন ও হ্যান্ড-স্যানিটাইজার কেনা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে অথবা স্লিপ ফান্ড থেকে এসব কেনার কথাও জানান তিনি।

বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য প্রাথমিকের সংক্ষিপ্ত পরিসরের সিলেবাস তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। সংক্ষিপ্ত এই সিলেবাসের আলোকেই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পর ওপরের ক্লাসে প্রমোশন দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের মৌলিক সক্ষমতা তৈরিতে ৩০ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কম সময়ের জন্য হলেও বিদ্যালয় খোলা গেলে ওই সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে তোলা হবে।

সর্বশেষ ১৪ দিন ছুটি বাড়ানোয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৯ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নতুন করে ৩০ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরির কাজ শুরু করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমি (নেপ)। শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণের সক্ষমতা তৈরিতে এ সিলেবাসটি তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হলে সেটি কার্যকর করে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে তোলা হবে।

এ বিষয়ে নেপের মহাপরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, নতুন করে আমরা ৩০ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরির কাজ শুরু করেছি। প্রাথমিকের প্রতিটি ক্লাসের সকল বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণের সক্ষমতা তৈরির লক্ষে নতুন করে এ সিলেবাস তৈরি করা হচ্ছে। নতুন সিলেবাসটি আগামী সপ্তাহে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। আর যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হয়, তবে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পদ্ধতিতে পঞ্চম শ্রেণিসহ সকল ক্লাসের সনদ বিতরণ করবে।

তবে শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যালয় খোলা হলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মৌখিক ও এর পরের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিশেষ মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হতে পারে।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে যে কদিন সময় পাওয়া যাবে সে কদিন পড়িয়ে পরবর্তী ক্লাসে নেয়া হবে। আমরা ৩০ দিনের ও ১৫ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হবে শিক্ষার্থীদের সেটি পড়িয়ে পরবর্তী ক্লাসে তোলা হবে।’ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension