প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি সত্যি ক্ষমতাচ্যুত হচ্ছেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ দুটি অভিযোগ অনুমোদিত হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের জুডিশিয়ারি কমিটিতে ওই অভিযোগ অনুমোদন পেয়েছে। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ-এর মূল জুডিশিয়ারি কমিটি ট্রাম্পকে ইম্পিচমেন্ট সংক্রান্ত দুটি আর্টিক্যালের অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গেছে।

হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের জুডিশিয়ারি কমিটিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনুমোদন পাওয়া দুটি আর্টিক্যাল হলো : বিচার প্রক্রিয়ায় বাধাদান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। এর ফলে ট্রাম্পের অপসারণের পথ আরও খানিকটা প্রশস্ত হলো। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের বুধবারে এ বিষয়ে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় থেকে কি আদৌ ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন? এ নিয়ে কংগ্রেসে টানা দুদিন বির্তক চলেছে। এরপর ভোটাভুটির ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেন ডেমোক্রেটিক কমিটির চেয়্যারম্যান জেরি ন্যাডলার। আর এতে ক্ষেপে যান রিপাবলিকান সদস্যরা। এরপরই তড়িঘড়ি করে শুক্রবার হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ-এর তদন্ত কমিটিতে ভোটাভুটি হয়। কমিটিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে ২৩টি এবং পক্ষে ১৭টি ভোট পরে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ওই কমিটি ক্ষমতার অপব্যবহারের দুটি অভিযোগেই ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অপসারণ করা হবে কি না, সেই প্রস্তাবের ওপর আগামী সপ্তাহের বুধবারে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ-এ বির্তক ও ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হাউজে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে এই হাউজে সহজেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচ বা অপসারণ করার প্রস্তাব পাশ হয়ে যেতে পারে।

আইন বলছে, প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করতে ৫১ শতাংশ ভোট প্রয়োজন।এরপর সিনেট এই প্রস্তাব পাশ হওয়া জরুরী। কিন্তু সেখানে আবার রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে?
ডোনাল্ড টাম্পের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের অনেক অভিযোগ থাকলেও দুটি অভিযোগকে মেনে নিয়েছে মার্কিন হাউজের জুডিশিয়ারি কমিটি। এক- রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ তৈরি। দুই-মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তে বাধা দান। ট্রাম্প দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে বলেও অভিযোগ এনেছেন রিপাবলিকানরা। তবে  প্রথম থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করার ঘটনা বেনজির নয়। ইতিপূর্বে ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটনকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল। সর্বপ্রথম ১৮৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনের বিরুদ্ধে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় সিনেট কাউকেই দোষী সাব্যস্ত করেনি। ১৯৭৪ সালে রিচার্ড নিক্সন অভিশংসনের মুখে পড়েন। তবে নিক্সন অভিশংসিত হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। সেই হিসেবে ট্রাম্প তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট যার বিরুদ্ধে এই অভিশংসন প্রস্তাব আনা হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *