ফিরে দেখা ২০১৯: বছরজুড়ে লেনদেন ও বাজার মূলধনে পতনমুখী সূচক

 বিদায়ী ২০১৯ সালের শুরুতে লাখো বিনিয়োগকারী আশায় বুক বাঁধছিলে যে, এবার পুঁজিবাজার তার হারানো গতি ফিরে পাবে। অতিতের সব হতাশা এবার হয়ত ঘুচাবে। একইসঙ্গে ২০১০ সালের ভয়াবহ ধসে যে ক্ষতি হয়েছিল তা অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভাব হবে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের সে স্বপ্ন পূরণ হয় নি। বরং বিনিয়োগকারীদের আশা ভঙ্গের মধ্য দিয়েই কেটেছে পুরো বছর। যার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আস্থার সঙ্কট লক্ষ্য করা গেছে। এ সঙ্কট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নানামুখী উদ্যোগ নিলেও দরপতনের মধ্য দিয়ে বছরজুড়ে ডিএসই-এর সবকটি সূচকের দরপতন ঘটে৷ আর সূচকের পাশাপাশি লেনদেন, বাজার মূলধন ও বিদেশি বিনিয়োগ রেকর্ড পরিমাণ কমেছে।  ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আলোচ্য বছরে ডিএসইতে ডিএসইএক্স সূচক ১৭.৩২ শতাংশ, ডিএসই ৩০ সূচক ১৯.৫৪ শতাংশ এবং শরিয়াহ্ সূচক ডিএসইএস ১৮.৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া টাকার অংকে লেনদেন কমেছে ১৪.৮১ শতাংশ। আর বিদেশিদের বিনিয়োগ কমেছে ১৮ শতাংশ।

ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) 
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের বছরের চেয়ে ৯৩২.৭১ পয়েন্ট বা ১৭.৩২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪৪৫২.৯৩ পয়েন্টে অবনিত হয়৷ ২০১৯ সালে ডিএসইএক্স মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ৫,৯৫০.০১ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৪৪১৭.৯৫ পয়েন্ট৷ ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ৪,০৯০.৪৭ পয়েন্ট নিয়ে এ সূচকের যাএা শুরু হয়৷

ডিএসই ৩০ সূচক (ডিএস৩০) 
ডিএসই ৩০ সূচক (ডিএস৩০) ৩৬৭.৪৪ পয়েন্ট বা ১৯.৫৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৫১৩.৩৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়৷ ২০১৯ সালে ডিএস৩০ মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ২,০৪৯.০০ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ১২১৭.০৪ পয়েন্ট৷ ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ১,৪৭৩.০১ পয়েন্ট নিয়ে এ সূচকের যাএা শুরু হয়৷

ডিএসইএক্স শরীয়াহ্ সূচক (ডিএসইএস) 
একই বছর ডিএসইএক্স শরীয়াহ্ সূচক (ডিএসইএস) ২৩২.৯৯ পয়েন্ট বা ১৮.৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৯৯৯.৮৩ পয়েন্টে অবনিত হয়৷ ২০১৯ সালে (ডিএসইএস)মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ১,৩৩১.৬৩ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৯৮৬.৪৭ পয়েন্ট৷ ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি ৯৪১.২৮ পয়েন্ট নিয়ে এ সূচকের যাএা শুরু হয়৷

লেনদেন টাকা
২০১৯ সালে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৩,৮২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা৷ যা ২০১৮ সালের চেয়ে ১৯,৭৬৯ কোটি ৪৪   কোটি টাকা বা ১৪.৮১ শতাংশ কম৷ ২০১৯ সালে ২৩৭ দিন লেনদেন হয়৷ যার গড় লেনদেন ছিল ৪৮০ কোটি ২৬ লাখ টাকা৷ অপরদিকে ২০১৮ সালে ২৪২ কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমান ছিল ১৩৩,৫৯১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং গড়ে লেনদেনের পরিমান ছিল ৫৫২ কোটি ০৩ লাখ টাকা৷

বাজার মূলধন 

২০১৯ সালে ডিএসই’র বাজার মূলধন হ্রাস পেয়েছে ১৪.৮০ শতাংশ৷ ডিএসই বাজার মূলধন আগের বছরের তুলনায় ৪৭,৭৪৪ কোটি টাকা বা ১২.৩৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকায় অবনিত হয়৷ ২০১৯ সালে বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকায় উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি৷

বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেন  
২০১৯ সালে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭,৮৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা৷ যা মোট লেনদেনের ৬.৮৯ শতাংশ। ২০১৯ সালে ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৩,৬৭৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং বিক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৪,১৬৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা৷ অপরদিকে ২০১৮ সালে বৈদেশিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯,৫৮৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা৷ এর মধ্যে ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল টাকায় ৪,৪৯৬ কোটি ২৪ লাখ এবং বিক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল টাকায় ৫,০৮৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *