প্রধান খবরবাংলাদেশ

বাংলাদেশে ফেসবুকে গ্রুপে করে মাদক বিক্রি, গ্রেফতার ১

ফেসবুকে খোলা হয়েছে ‘উইড লাভারস’ বা ‘গাঞ্জা প্রেমী’ নামে একটি গ্রুপ। আর এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। করোনাকালে ফেসবুক এই গ্রুপ থেকেই মাদক কেনাবেচার পসরা সাজিয়ে বসেছেন একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

কোথায় কিভাবে মাদক পাওয়া যাবে আর সেটার হোম ডেলিভারি কিভাবে নিতে হবে সবিস্তারে সেখানে বলা হয়।

এরপর টার্গেট করা ব্যক্তির মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে তার কাছে কাঙ্খিত মাদক পৌঁছে দেয় ওই সিন্ডিকেট। আর মাদকের টাকা নেওয়া হয় অনলাইন ব্যাকিংয়ের মাধ্যমে।

র‌্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাদক কেনাবেচার গ্রুপটির অ্যাডমিন পাঁচজন। তারাই এটার নিয়ন্ত্রণ করত। সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এরই মধ্যে ফাহিম নাঈম (১৯) নামে একজন অ্যাডমিনকে শনাক্ত করা হয়।

গত সোমবার রাজধানীর নাখালপাড়ার লুকাস মোড় এলাকা থেকে র‌্যাব-২ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে তেজগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। নাঈমের সহযোগী আরও ৪ জন এডমিনকে খোঁজা হচ্ছে। নাঈম গ্রেফতারের পর থেকেই তারা গা-ঢাকা দিয়েছে।

র‌্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ‘উইড লাভারস’ নামে ওই গ্রুপে বিশেষ গাঁজার কথিত উপকারিতার ব্যাপারে নানা কাল্পনিক তথ্য তুলে ধরা হতো। করোনার এমন দিনলিপিতে সহজে গাঁজা, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক কিভাবে পাওয়া যাবে তা বলা হয় সেখানে।

এছাড়া কিভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে মাদক পরিবহন করতে হবে দেওয়া ছিল সেই কৌশল। করোনার মধ্যে ওষুধের প্রেসক্রিপশন, ব্যাংকের জরুরি কাগজ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বাসা থেকে বের হতে সেখানে বলা হতো। রাস্তায় পুলিশ আটকালে যাতে ওই নথি দেখিয়ে ছাড় পাওয়া যায় সেই নির্দেশনা দেওয়া হয় মাদক ক্রেতা ও বিক্রেতাদের।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার নাঈম জানিয়েছে, ভার্চুয়াল জগতে মাদকের অর্ডার নিয়ে তা ক্রেতার কাছে মোটরসাইকেলযোগে পৌঁছে দিত সে। এরপর মাদক বিক্রির লাভের টাকা ৫ অ্যাডমিন মিলে ভাগবাটোয়ারা করে নিত তারা।

‘উইড লাভারস’ নামে ওই গ্রুপে কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়- ‘রেইন ড্রপস’ নামে একজন তার আইডি থেকে লিখে- ‘একলা বসে স্টিক বানাইয়া খাইতেছি।’

সৈকত আকমল নামে একজন ১৬ মে লিখেছেন- ‘মামা আইস্যা পড়ছি। গানজা আছে মামা।’ একজন লিখেছেন- এই মাত্র হাতে পাইলাম ভাই।

র‌্যাব-২ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জানান, সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতে মাদক কেনাবেচার এই গ্রপের সন্ধান মিলে। পরে তাদের অ্যাডমিনদের খোঁজা শুরু হয়।

একজনকে গ্রেফতারের পর অন্য চারজনকে ধরতে আভিযানিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এই গ্রুপের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

করোনার এ সময়ে তারা যেভাবে অনলাইনে মাদক কেনাবেচার হাঁট বসিয়েছিল এটা উদ্বেগজনক। মাদকসেবীর কাছে এই গ্রুপটি ভাইরাল হয়ে যাচ্ছিল।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, মিয়ানমান থেকে প্রায় প্রত্যেক দিনই ইয়াবার চালান দেশে ঢুকছে।

বড় বড় কারবারীরা ইয়াবা দেশে এনে একটি অংশ স্টক করে রাখছেন। আরেকটি অংশ লকডাউনের মধ্যে জরুরি পণ্য পরিবহনের আড়ালে দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে।

সবজি, চাল, ডাল ও অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর হচ্ছে ইয়াবা। আবার ত্রাণের প্যাকেটের আড়ালে হোম সার্ভিস ডেলিভারির আড়ালে মাদকসেবীদের কাছে খুচরা ব্যবসায়ীরা ইয়াবা বাড়ি পাঠাচ্ছে।⛘

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension