যুক্তরাষ্ট্র

বাইডেনের ‘সঙ্গী’ ক্যামেলা

করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামাল দিতে হিমশিম খাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে। যুক্তরাষ্ট্রের বহু জরিপে দেখা যাচ্ছে বাইডেনই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এই নির্বাচনে জো বাইডেন এমন একজনকে রানিং মেট বেছে নিয়েছেন, যিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত। শুধু তাই নয়, তিনি একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী।

৫৫ বছর বয়সী ক্যামেলা হ্যারিসই প্রথম কোনো ভারতীয় বংশোদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গ নারী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দু দলের একটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়ন পেলেন।

৩ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যদি বাইডেন জেতেন, আমেরিকাতে তা হলে প্রথম কোনও কৃষ্ণাঙ্গ নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিযুক্ত হবেন ক্যামেলা।

ক্যামেলা হ্যারিস ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর। তিনি প্রেসিডেন্ট পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০১৯ সালে মার্টিন লুথার কিংয়ের জন্মদিনে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলেরও দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামেলা হ্যারিস। কিন্তু ওই লড়াইয়ে হেরে যান ক্যামেলা। দৃঢ়চেতা সেই কমলাকে মনে ধরেছে ডেমোক্র্যাটদের, তাই তো বাইডেনের রানিং মেট হিসেবে তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

আর বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবারও রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের রানিং মেট থাকছেন।

ক্যামেলাকে সঙ্গী করে ট্রাম্পকে হারানোর স্বপ্ন বুনছেন জো বাইডেন। তিনি টুইট করে ক্যামেলা সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি একজন সাহসী যোদ্ধা এবং দেশের অন্যতম সেরা জনগণের সেবক। ক্যামেলা হ্যারিসকে রানিং মেট হিসেবে বেছে নিয়েছি। তিনি আমেরিকার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন, আমার আশা। সারাজীবন ধরে তিনি সবার জন্য লড়াই করে আসছেন। এবার হ্যারিসকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সবাই মিলে ট্রাম্পকে হারাতে চলেছি আগামী দিনে।’

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্যতম একটি জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত ক্যামেলা। তিনি এমন সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়তে যাচ্ছেন, যখন করোনার জেরে আমেরিকার অর্থনীতি বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় দেড় লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন। বাড়ছে বেকার সংখ্যা।

ক্যামেলা চেন্নাইয়ে জন্মেছিলেন। তার মা শ্যামলা গোপালন ছিলেন ক্যানসার গবেষক। ২০০৯ সালে তার মৃত্যু হয়। ক্যামেলার বাবা ডোনাল্ড হ্যারিস জ্যামাইকার। তিনি স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। খুব কম বয়সেই ক্যামেলার মা–বাবার বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। তারই মধ্যে ক্যামেলা যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তিনি হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৩ সালে হ্যারিস প্রথমবার নির্বাচনে জেতেন এবং সেন্ট ফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নির্বাচিত হন। তিনি ২০১০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন।

বিবিসি জানায়, সান ফ্রান্সিস্কোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ও ক্যালিফর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল পদে থাকাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান সমালোচক ছিলেন ক্যামেলা। গত বছর একটা সময় কমলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার লড়াইয়েও ছিলেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের পার্টির লড়াইয়ে জো বাইডেনের কাছে হেরে যান তিনি। দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের সময় একাধিক বিতর্কে বাইডেনকে তীব্র সমালোচনাও করেছেন ক্যামেলা। কিন্তু সেই বাইডেনের সঙ্গেই তিনি এবার নির্বাচনে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ক্যামেলা হ্যারিসের আগে মাত্র দুজন নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনীত হয়েছিলেন- ২০০৮ সালে সিনেটর সারাহ পোলিন এবং ১৯৮৪ সালে ডেমোক্র্যাটদের থেকে জেরালডিন ফেরারো। তাদের কেউই হোয়াইট হাউসে যেতে পারেন নি।

যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে কখনও দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের কোনওটি থেকে অশ্বেতাঙ্গ কোনও নারীকে প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে টিকিট দেওয়া হয় নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনও নারীর বিজয়ও হয় নি।

ওবামা প্রশাসনে দু দফায় ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলানো ৭৭ বছর বয়সী বাইডেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার সময় জানিয়েছিলেন তার রানিং মেট হবেন একজন নারী। অনেক কাটাছেঁড়ার পর শেষ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত তালিকায় যে পাঁচ নারীর নাম ছিল, ক্যামেলা হ্যারিস ছিলেন শীর্ষে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত হওয়ার পর ক্যামেলা হ্যারিস এক টুইটবার্তায় লিখেছেন, জো বাইডেন আমেরিকার জনগণকে একীভূত করতে পারবেন। কারণ তিনি আমাদের জন্য লড়াই করেই জীবন কাটিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি এমন একটি যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করবেন, যা নীতির ওপর চলবে।

বাইডেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও লিখেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের আমাদের দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তার সঙ্গে যোগ দিতে পেরে আমি সম্মানিত এবং তাকে আমাদের সর্বাধিনায়ক হওয়ার জন্য যা করতে হবে তা করার জন্য আমি সম্মানিত।

বাইডেন ক্যামেলা হ্যারিসের নাম ঘোষণা করার পর পরই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বিল ক্লিনটন থেকে শুরু করে গত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এবং কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। কমলার প্রতিদ্বন্দ্বীরাও তাকে অভিনন্দিত করেছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, রানিং মেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে জীবনের বেশিরভাগ সময় কৌঁসুলি হিসেবে কাটানো উদারনৈতিক ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত ক্যামেলাই ছিলেন বাইডেনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পছন্দ। ডেমোক্র্যাটিক স্টাবলিশমেন্টের একজন বিশ্বাসযোগ্য মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে।

বাইডেনের ক্যামেলাকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ভারতীয়রা উচ্ছ্বসিত হলেও খোঁচা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে লড়াইয়ে থাকা ট্রাম্প মন্তব্য করেন, বাইডেনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়া সত্ত্বেও ক্যামেলাকে নিজের ডেপুটি হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি ‘অবাক’ হয়েছেন।

৭ অক্টোবর উটাহর সল্ট লেক সিটিতে বিতর্কে মাইক পেন্সের মুখোমুখি হবেন ক্যামেলা হ্যারিস।❐

হিন্দুস্তান টাইমস

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension