বিএনপির প্রতিপক্ষ আ’লীগ নয়, পুলিশ: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে বিএনপির প্রতিপক্ষ এখন আর আওয়ামী লীগ নয়, প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন ক্ষসতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক হুইপ সৈয়দপুরের নেতা শওকত চৌধুরীর বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ নির্বাচন কমিশন আসলে নিরপেক্ষ কোনও সংস্থা নয়। এটি এখন সরকারের, আওয়ামী লীগের একটা লেজুড়ভিত্তিক সংগঠনে দাঁড়িয়ে গেছে। মূলত তারা তাদের একটা অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়েছে।

সিইসি কেএম নুরুল হুদার নির্বাচন কমিশন পরিচালনার কোনও যোগ্যতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, এ নির্বাচনে যা হয়েছে তা আপনারা পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন। একেবারে রক্তাক্ত, মানুষ মারা গেছে ২ জন…। বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্রে থাকতে দেওয়া হয় নি, তাদেরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হয়েছে।

‘সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, প্রত্যেকটি নির্বাচনেই প্রশাসনকে পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএনপির প্রতিপক্ষ এখন আর আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপির প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পুলিশ প্রশাসন।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিএনপি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, দলটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাস করে। আমরা কখনও ভিন্নপথে বন্দুক-পিস্তল দিয়ে জোর করে অথবা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করি না। বিএনপি জনগণের সমর্থনের মধ্য দিয়েই ক্ষমতায় যেতে চায়। সে জন্য সংগ্রাম ও লড়াই হচ্ছে।

‘অনেকে বলেন, এই নির্বাচন করার কী যুক্তি আছে? আমরা বলি এই নির্বাচন করাটা গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটা অংশ হিসেবে নিয়েছি। নির্বাচনে আমাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সম্পৃক্ত করতে পারি এবং জনগণের কাছে যেতে পারি। যেটা অন্য সময় যাওয়াটা কঠিন দুষ্কর ব্যাপার। যেতেই দেয় না, মুভ করতে দেয় না। সভা-সমিতি-মিটিং করতে দেয় না। যেটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ন্যূনতম অধিকার মানুষের জন্য। সেই ডেমোক্রেটিক স্পেসটা তারা নিয়ে নিয়েছে। সেই কারণে আমরা নির্বাচনে অংশ নেই।’

নতুন যোগদানকারী নেতা শওকত চৌধুরীকে বরণ করে নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শওকত চৌধুরী সাহেবকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি আশা করি, যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলছে, সৈয়দপুরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নেতৃত্বে দেবেন।

‘আজকে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে আরও অনেকে। বিএনপি হচ্ছে একমাত্র দল, যারা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে পারে, যারা দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারে। অতীতে বিএনপি গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে, আগামীতেও ফিরিয়ে আনবে।’

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, সৈয়দপুর বিএনপির আহবায়ক আবদুল গফুর সরকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ, সৈয়দপুর বিএনপি সদস্য সচিব শাহীন আখতার, রংপরের জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের রিয়াজ উদ্দিন নসু, শায়রুল কবির খানসহ সৈয়দপুরের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।❐

Exit mobile version