বিএনপির সমাবেশে পুলিশের হামলা, গ্রেপ্তারের অভিযোগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে রাজধানীতে আয়োজিত সমাবেশে পুলিশি হামলা ও গ্রেপ্তারর অভিযোগ করেছে বিএনপি।

বুধবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে দলটি। সন্ধ্যায় দলটির সহ দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে পুলিশ বিএনপির ৫০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া ৭০ নেতাকর্মীকে পুলিশ পিটিয়ে আহত করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবী করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। সকাল ১০টায় নেতা-কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে হাজির হন। পুলিশ মৎস্যভবন, তোপখানা সড়কের মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। সমাবেশ উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের চারপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সমাবেশে সরকারবিরোধী অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন আমাদেরকে এক হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আসুন এই গণতন্ত্রকে উদ্ধারের যে সংগ্রাম এই সংগ্রাম শুধু একা বিএনপির নয়। সব রাজনৈতিক দল, সব মানুষকে আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থেই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অবশ্যই একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সমাবেশে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীদের বাধা ও গ্রেপ্তারের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের খুব দুঃখ হয়, লজ্জায় হয় যখন দেখি আমাদের আজকের এই সমাবেশ আসতে বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। যখন দেখি এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে অসংখ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আর লজ্জায় হয় যখন দেখি এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে, তারা গণতন্ত্র দিয়েছেন বলেই নাকী দেশ খুব ভালো চলছে’।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। সভা পরিচালনা করেন দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম নকি। বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

ছাত্রদলের মিছিল: জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় তারা ‘ভোট ডাকাতি’র প্রতিবাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সহ সভাপতি আশরাফুল আলম লিংকন, পার্থদেব মন্ডল, মামুন খান, সাজিদ হাসান বাবু, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন রাজু, তানজিল হাসান, রিয়াদ ইকবাল, সহ সাধারণ সম্পাদক সাখওয়াত হোসাইন, সাবেক সদস্য ফয়সাল আহম্মেদ সোহেল প্রমুখ।❐

Exit mobile version