বিজেপি নেতাদের আক্রমণের মাঝেই মোদী লিখলেন, “তাঁর কৃতিত্বে দেশ গর্বিত”

রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একের পর এক বেলাগাম মন্তব্য করেছেলেন বিজেপির একাধিক নেতা মন্ত্রী। আর সেই আবহেই অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।

মঙ্গলবার সকালে আলাপচারিতার ছবি ট্যুইট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “তাঁর এই কৃতিত্বে দেশ গর্বিত।”

অর্থনীতিতে এই বছরই নোবেল পান অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে দেশের অর্থনীতি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বলে আফসোস করতেও শোনা গিয়েছে বাংলার এই কৃতি সন্তানকে। আর এরপরেই তাঁর নোবেল পাওয়াকে ঘিরে একের পর এক অশালীন মন্তব্য করতে শোনা যায় গেরুয়া শিবিরের নেতা-মন্ত্রীদের। রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল থেকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহাকে নানা ধরনের মন্তব্যে কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও দ্বিধা বোধ করেননি গেরুয়া শিবিরের নেতারা।

তাঁর দলের নেতাদের এমন মন্তব্যের পর অভিজিত-মোদী সাক্ষাৎ ঘিরে বেশ উৎসুক ছিলেন রাজনীতিবিদ থেকে সাধারণ মানুষ।

সাক্ষাৎ শেষে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দেশ তথা বিশ্বের মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার এই বিষয়টি আমার ভাল লেগেছে। তাঁর এই অনবদ্য কৃতিত্বে গোটা দেশ গর্বিত। আমি আশা করব ভবিষ্যতে তিনি আরও ভাল কাজ করবেন।”

কিছুদিন আগেই নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অর্থনৈতিক ভাবে বাম মনস্ক বলে তোপ দেগেছিলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল। তাঁকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও দাবি করেছিলেন বিজেপির এই হেভিওয়েট মন্ত্রী। একই ভাবে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে বসেন রাহুল সিনহা।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎবাবু জানান, “অর্থনীতি ঘিরে আমি পক্ষপাতদুষ্ট এমনটা ভাবা ভুল। আর ন্যায় যোজনা ঘিরে আমাকে দোষারোপ করে লাভ নেই। আমি শুধু তথ্য দিয়েছি মাত্র। তাছাড়া, আমি যেকোনো সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে রাজি। এর আগেও আমি গুজরাত সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী।”

গত লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে দেশের প্রত্যেক কৃষকের বার্ষিক আয়ে ৭২ হাজার টাকা করা হবে। কংগ্রেস এই যোজনার নাম দেয় ‘ন্যায়’। এই যোজনার অন্যতম পরামর্শদাতা ছিলেন অভিজিৎ বাবু। তবে নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির কারণে শেষ হয়ে যায় সেই আশ্বাসও। আর ঠিক এরপরেই গেরুয়া শিবিরের রোষানলে পড়েন এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ।

এই বছর অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন তাঁর স্ত্রী এসথার ডাফলো এবং মিশেল ক্রিমার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *