আন্তর্জাতিকইউরোপকরোনাভারতযুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বে করোনার দ্বিতীয় প্রাদুর্ভাব, যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যে বেড়েছে আক্রান্ত

ইউরোপের অধিকাংশ দেশে করোনার নতুন সংক্রমণের হার কমে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে ইউরোপের বড় শহরগুলোতে বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে লক্ষাধিক মানুষ যোগ দেওয়ায় করোনায় নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও অ্যারিজোনাসহ প্রায় ছয়টি রাজ্যের হাসপাতালগুলোর বিছানা করোনা রোগীদের দিয়ে পূর্ণ হতে যাচ্ছে।

করোনার দ্বিতীয় দফায় প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বে নতুন করে লকডাউনের শঙ্কা বাড়ছে। শুক্রবার বেইজিংয়ে বৃহত্তর ছয়টি খাবারের মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভারতে লকডাউন তুলে দেওয়ায় চলতি সপ্তাহে নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড তৈরি করছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, লকডাউনে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অনেক দেশ দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে চলা ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইউনিয়ন ভুক্ত ২৭ দেশকে স্কুল-কলেজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমিশনার স্টেলা খাইরিয়াকিডস বলেন, প্রয়োজন হলে আমাদের শিথিলতায় ফিরে যেতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

চীনের বেইজিংয়ে নতুন করে দুইজন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পরে কর্তৃপক্ষ হোলসেল খাবারের মার্কেট বন্ধ করে দেয়। আক্রান্তরা ওইসব মার্কেটে ঘুরেছিল।

প্রায় ৭০ দিন পর ভারত চলতি সপ্তাহে অধিকাংশ গণপরিবহন ব্যবস্থা, অফিস ও শপিং মল খুলে দিয়েছে। তবে এর আগেই স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, এই মুহূর্তে সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ করোনার সংক্রমণকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০ হাজার ৯৫৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। একদিনে দেশটিতে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড এটি। এর মধ্যে বেশি দিল্লি, মুম্বাই ও চেন্নাই।

ইউরোপের অধিকাংশ দেশে করোনার নতুন সংক্রমণের হার কমে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে ইউরোপের বড় শহরগুলোতে বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে লক্ষাধিক মানুষ যোগ দেওয়ায় করোনায় নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও অ্যারিজোনাসহ প্রায় ছয়টি রাজ্যের হাসপাতালগুলোর বিছানা করোনা রোগীদের দিয়ে পূর্ণ হতে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে মার্কিন অর্থনীতি চালু করতে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি চলছে। বৃহস্পতিবার আলবামা, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, ওরিগন ও নেব্রাস্কাতে করোনায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

হার্ভাডস্‌ গ্লোবাল হেলফ ইনিস্টিটিউটের প্রধান আশিশ জা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত এক লাখ ১৩ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই সংখ্যাটি সেপ্টেম্বরে ২ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ⛘

সিএনএন

প্রচ্ছদের ছবি: থার্ড আই প্রোডাকশন

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension