‘ভারতের ২০ কোটি মুসলিম আতঙ্কিত!’

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ বলেছে, ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’ এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ‘এনআরসি’ ইস্যুতে  দেশটির ২০ কোটি মুসলিম আতঙ্কে আছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্ট কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সাম্প্রতিক এ ইস্যুতে বলেছে, কট্টর হিন্দুত্ববাদী সরকারের ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আইনের কারণে ভারতের ২০ কোটি মুসলিম আতঙ্কিত!

সংখ্যালঘুদের আশঙ্কা, নরেন্দ্র মোদি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ গঠনের দিকে এগোচ্ছেন। গত মাসে ভারত সরকার যে আইন এনেছে, তাতে মুসলিম বাদে বাকিদের নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ করে দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ১৩০ কোটি মানুষের নাগরিকত্ব যাচাই করতে উদ্যোগ নিচ্ছে বিজেপি সরকার।

কিন্তু ২০ কোটি মুসলিমের অধিকাংশেরই নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। দেশ হারানোর পথে তারা।

যারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারবেন না, তাদের জন্য ডিটেশন ক্যাম্প তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছে সরকার।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কূটবুদ্ধি করে বিজেপি লাভবান হলেও ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ তকমায় এটি চরম আঘাত।

সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি-নিয়ম বিসর্জন দিয়ে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন মোদি, তা ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর ক্ষতিসাধন করবে। আগামী কয়েক দশক ধরে এর ফল ভুগতে হবে ভারতকে।

দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রদায়িক এসব পদক্ষেপ ভারতের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে ভেঙে দিচ্ছে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে নরেন্দ্র মোদির।

কারণ তিনি জানেন, জনসংখ্যার একটি অংশের সমর্থন রয়েছে তার কাছে। সে জন্য ‘হিন্দুত্বের হাওয়া’ আরও জোরদার করার পথে এগোচ্ছেন তিনি।

এদিকে দি ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা বিজয় চৌথাইওয়ালে বলেছেন, আমরা ভেবেছিলাম ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা চলে গেছেন।

কিন্তু দি ইকোনমিস্টের সম্পাদকরা এখনও ঔপনিবেশিক যুগেই বাস করছেন। দেশের ৬০ কোটি মানুষ মোদিকে ভোট দিয়েছেন। তাতেই গোস্বা হয়েছে তাদের।

দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে ভারতের নরেন্দ্র মোদির সরকারকে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন-হাঙ্গেরীয় ধনকুবের জর্জ সোরস।

ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় গণতন্ত্রকে মোদি ‘ধ্বংসের মুখে’ ঠেলে দিচ্ছেন বলে জর্জ সোরস মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ভারতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নরেন্দ্র মোদি সরকার কাশ্মীরে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ গঠনে উদ্যোগী। সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। এটি ভারতে সবচেয়ে বড় এবং ভয়ঙ্কর ধাক্কা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *