ভারত

ভারতে কৃষক আন্দোলন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও সরকার মুখোমুখি

ভারতে কৃষকদের দাবী বিতর্কিত তিন আইন বাতিল করা। কেন্দ্রীয় ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারের মন্ত্রীরা একাধিকবার কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনও প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাসেও কৃষকরা তাদের দাবী থেকে সরে আসেন নি।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গতকাল কেন্দ্রীয় সরকারকে বিতর্কিত তিনটি আইন স্থগিত করতে বলেছে। সরকার না পারলে আদালত ওই আইনগুলো স্থগিত করবে এমন অবস্থানও প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ‘আইনগুলো স্থগিত করতে না পারলে বলুন, আমরা করব। এখানে মর্যাদার প্রশ্ন কোথায়।’

কৃষক আন্দোলনে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।

কৃষি আইনগুলোর বিরোধিতা করে এবং দিল্লির সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে একাধিক মামলা হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি নজরে আনে। বিতর্কিত ওই আইনগুলো স্থগিত করা হবে কি না সে বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত জানাবে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট ও বিজেপিশাসিত সরকার কৃষি আইন প্রশ্নে মুখোমুখি অবস্থান করছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি এসএ বোপদে বলেন, ‘ভুল কোনও কিছু হলে আমরা প্রত্যেকেই দায়ী হব। আমাদের হাত দিয়ে কোনও রক্তপাত হোক বা কেউ আহত হোক তা আমরা চাই না। আপনারা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টিকে দেখছেন, এমন কিছু আমরা দেখছি না। আমরা আজ একটা সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। এ রক্তপাতের জন্য কে দায়ী হবে?’ অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে ভেনুগোপাল যখন নির্দেশ দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করছিলেন তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ধৈর্যের ব্যাপারে লেকচার দেবেন না। আমরা অনেক সময় দিয়েছি।’

সর্বোচ্চ আদালত মনে করছে, আইনগুলো যদি অবিলম্বে স্থগিত করা না হয়, তাহলে বিক্ষোভ চলবেই। এর আগের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, কৃষি আইন ও আন্দোলন প্রশ্নে কোনও অগ্রগতি হয় নি। তখনই কেন্দ্রীয় সরকারকে আদালত যুক্তি প্রমাণসহ আলোচনা করতে নির্দেশ দিয়েছিল। সরকার ও কৃষক ইউনিয়নগুলোর মধ্যে যাতে গঠনমূলক আলোচনা হয় তাই চাওয়া ছিল আদালতের।

আদালতে প্রধান বিচারপতি সরকারকে প্রশ্ন করে বলেন, ‘শেষ শুনানিতে আমরা যা বলেছিলাম তার কোনও উত্তর পাই নি। অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। মানুষ আত্মহত্যা করছে। কেন এ আবহাওয়ার মধ্যেও বৃদ্ধ ও নারীরা আন্দোলনের অংশ হচ্ছেন?’ সরকারের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আপনি একটি কমিটি গঠন করতে পারেন, কিন্তু আইনগুলোকে স্থগিত করবেন না।’ সাংবিধানিকভাবে পাস হওয়া আইন অসাংবিধানিকভাবে স্থগিত করা যায় না বলেও তিনি আদালতকে স্মরণ করিয়ে দেন। ভেনুগোপাল আরও বলেন, ‘মাত্র দুই থেকে তিনটি রাজ্যের কৃষকরা আন্দোলন করছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারত থেকে কোনও অংশগ্রহণ নেই।’

কৃষকদের সঙ্গে সরকারের আট দফায় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। কৃষকরা বলছেন, তারা আইন বাতিল না করা পর্যন্ত অন্য কোনও আলোচনায় আগ্রহী নন। এই আইন তাদের উপার্জনের নিশ্চয়তা দেবে না, করপোরেটদের মুনাফা হবে বলে কৃষকরা মনে করছেন। এ নিয়ে আগামী শুক্রবার ফের কৃষকদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension