প্রধান খবরভারত

ভারত শত শত কোটি ডলারে করোনা প্রতিরোধ সরঞ্জাম নয়, কিনছে অস্ত্র

করোনা সংক্রান্ত ত্রাণ সহায়তা, চিকিৎসা অবকাঠামো, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং করোনা নির্ণয়ের পরীক্ষা ইত্যাদিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বদলে ১৬ হাজার ৪৭৯টি নেগেভ হালকা মেশিনগান কিনছে ভারত।

ভারতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতি চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইহুদিবাদী ইসরাইল থেকে শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
 
বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ ভারতে যখন করোনাবিরোধী লড়াইয়ে স্বাস্থ্যসেবার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় মাস্ক কিংবা সুরক্ষা সরঞ্জামের যখন মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে, তখন এ অস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিলেন মোদি।
 
এক বিবৃতিতে ভারত সরকার জানিয়েছে, ভারতকে ১৬ হাজার ৪৭৯টি নেগেভ হালকা মেশিনগান সরবরাহ করবে ইহুদিবাদী ইসরাইল।
 
অস্ত্রচুক্তি শনিবার সই করা হয়েছে। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ বা ডিএসি ইসরাইল থেকে অস্ত্র কেনার এ চুক্তি অনুমোদন করেছিল।
 
ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব অস্ত্র সেনাদের আস্থা বাড়াবে এবং প্রয়োজনীয় যুদ্ধ সক্ষমতা দেবে।
 
ইহুদিবাদী ইসরাইলের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার যে চুক্তি নয়াদিল্লি করেছে তার সমালোচনায় নেমেছেন ভারতের মানবাধিকার কর্মী ও রাজনীতিবিদরাও।
 
এদিকে অস্ত্র কেনার ঘটনায় মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে।
 
করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় ভারত সরকারের লেজেগোবরে অবস্থাকে কেন্দ্র করে সমালোচনা চলছে।
 
রাজধানী দিল্লিতে একজন চিকিৎসক, তার স্ত্রী ও কন্যা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশের পরই এ দাবি তোলা হয়।
 
ভারতের প্রগেসিভ মেডিকস অ্যান্ড সায়েন্টিস ফোরামের সভাপতি হারজিত সিং ভাট্টি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পেশায় জড়িতরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
 
তিনি বলেন, এ অবস্থায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন- স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত মাস্ক, গাউন, হেড কভারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হোক।
 
মানবাধিকারকর্মী কবিতা কৃষ্ণান প্রশ্ন তোলেন, করোনা সংক্রান্ত ত্রাণ সহায়তা, চিকিৎসা অবকাঠামো, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং করোনা নির্ণয়ের পরীক্ষাসহ এ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বদলে সরকার কেনও সামরিক খাতে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করছে?
 
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক রাজনীতির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অচিন বিনায়ক ভারত সরকারের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বলেন, এটি নজিরবিহীন ও কঠোর নিন্দা যোগ্য। ♦
 
 
মিডল ইস্ট আই ও আনাদোলুর
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension