ভালো নেই এরশাদ, মন কাঁদে বিদিশার

জাকির হোসেন

ভালো নেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। সকালে বাড়িতে তো বিকেলে হাসপাতলে। এভাবেই চলছে এরশাদের দিনরাত্রি। তবে তিনি যখন বাড়িতে থাকেন তখন সময় কাটান ছেলে এরিকের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে। এখন তিনি দিনের অধিকাংশ সময় এরিকের সঙ্গে গল্প করেন এবং তার হাত ধরে বসে থাকেন। জীবনের শেষ ক’টা দিন তিনি এরিখের সঙ্গে কাটাতে চান।

এসব কথা জানিয়েছেন বিদিশা এরশাদ। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে দৈনিক জাগরণের সঙ্গে কথা হয় বিদিশা এরশাদের। বিদিশা এখনো যে এরশাদকে ভীষণ ভালবাসেন, এরশাদের জন্য যে তার মনটা এখনো কাঁদে, তিনি যে সবসময় এরশাদের সুস্থতা কামনায় দোয়া করেন, এরশাদের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ রাখেন এবং শরীর-স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন- একথাগুলো সুকৌশলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি এরশাদকে একজন উদার নৈতিক মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তার স্বভাব, চরিত্র এবং আচার-আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভগ্নস্বাস্থ্যের এই ছবিটি এরইমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল রাতে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক থেকে ছবিটি তোলেন রংপুর নগর জাতীয় পার্টির সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম ইয়াছির। এসময় জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে দেয়ার চিঠিতে স্বাক্ষর করছিলেন এরশাদ।

এরশাদের অসুস্থতার কথা বলতে গিয়ে বিদিশা ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এসময় তিনি এরশাদের বর্তমান শরীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দুঃখভারাক্রান্ত মনে বলেন, ‘এরশাদ সাহেব ভালো নেই। উনার শরীরের বর্তমান যা অবস্থা এটাকে কোনোভাবেই ভালো বলা যায় না। তিনি খুবই অসুস্থ। আজ বাড়িতে তো আগামীকাল হাসপাতালে। এভাবেই কাটছে তার দিনরাত্রি।’

বিদিশা বলেন, এরশাদ সাহেব খুবই অসুস্থ। উনি এখন প্রায় ২৪ ঘণ্টা এরিককে নিয়েই থাকেন। এরিকের সঙ্গেই উনি সময় কাটান। শেষ সময় ছেলের সান্নিধ্যে উনি থাকতে চান এবং থাকতে পছন্দ করেন। উনি এখন সব সময় এরিকের হাত ধরে থাকেন। এরিক তো আমাদেরই সন্তান। এরশাদ সাহেব এরিককে ভীষণ ভালবাসেন- এর চেয়ে বড় পাওয়া আমার আর কী হতে পারে!

তিনি বলেন, উনি (এরশাদ) উদার মানুষ। উদার মনের অনেক পরিচয় উনি দিয়েছেন। আমি উনার জন্য সব সময় দোয়া করি, সারাক্ষণ দোয়া করি। আমি কখনই কারো খারাপ চাই না। কেননা এরশাদ সাহেব আমার সন্তনের বাবা। উনি আমার উপর যে অবিচার করেছেন তা উনি বুঝতে পেরেছেন। উনি বুঝতে পেরেছ্নে আমার উপর তিনি সুবিচার করেননি।

ইদানিং এরশাদের সঙ্গে প্রায়ই কথা হয় বিদিশার! এ প্রসঙ্গ তুলতেই বিদিশা তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হেসে ওঠেন এবং বলেন, ‘এটা বলবো না’। পর মুহূর্তেই বলেন, কথা হবে না কেন! উনি তো আমার ছেলের বাবা। যদি প্রয়োজন হয় অবশ্যই কথা বলবো। উনি তো অভদ্র লোক না, অসভ্য লোক না। আমি ফোন করলে উনি কেটে দেবেন এমন মানুষ উনি নন। উনার মতো ভদ্রলোক খুব কম আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *