ভোট চাইব না,মুজিববর্ষ পালন করব: তোফায়েল

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় ঢাকা শহরের প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, ওয়ার্ডে ও থানায় মুজিববর্ষ পালন করা যাবে। সেখানে আমরা সব কথা বলতে পারব, কিন্তু ভোট চাইব না। সংসদ সদস্যরাও ভোট চাইতে পারবেন না।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট তারানা হালিমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, নাট্যব্যক্তিত্ব ও সংগঠনের সহসভাপতি ড. এনামুল হক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ, অভিনয় শিল্পী মাসুম আজিজ, সংগীতশিল্পী শুভ্র দেব প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ডিএনসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১০ জানুয়ারি থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে, যার কার্যক্রম আগামী বছরের ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এ সময় গ্রামেগঞ্জে, পাড়া-মহল্লায়, থানা, জেলা ও বিভাগে মুজিববর্ষ পালন করা হবে। এ সময় নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ অনুসারী প্রবীণ এই নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা, যিনি কখনও মাথা নত করেন নি। তার মতো বিচক্ষণ নেতা বিশ্বে বিরল। তিনি মাত্র তিন বছর সাত মাসে বাংলাদেশকে স্বাভাবিক করেছিলেন। তার দুটি স্বপ্ন ছিল। প্রথম স্বপ্ন, স্বাধীনতা অর্জন করলেন। তারপর দ্বিতীয় স্বপ্ন, অর্থনীতি অর্জনের জন্য যখন বিপ্লব শুরু করলেন, তখন তাকে হত্যা করা হলো। আজ তার অনুপস্থিতিতে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কাজ করে যাচ্ছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা। আমাদের সবাইকে তার হাতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশকে সুন্দর সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

এ সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, যারা এখনও বঙ্গবন্ধুকে মেনে নিতে পারে নি, তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। তাদের অধিকার থাকতে পারে না।

ড. এনামুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এ চেতনা যদি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারি, তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে। পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রশাসনের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছিল। কিন্তু এখন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথেই প্রশাসন এ দেশ পরিচালনা করছে। মাসুম আজিজ বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে জানতে হবে, লালন করতে হবে। শুধু জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করা যাবে না। শুভ্র দেব বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির অক্সিজেন। তার আদর্শ ধারণের মধ্য দিয়ে এই অক্সিজেন সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন তুলে ধরে সভাপতির বক্তৃতায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ১০ জানুয়ারি আসবে-যাবে, বঙ্গবন্ধু আর আসবেন না। কিন্তু দিনটি বাঙালির হৃদয়ে অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *