মঙ্গলের কলকাতায় সংঘর্ষ নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী

রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: বিজেপি-টিএমসিপি সংঘর্ষ নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷ ঘটনার দায় চাপিয়ে তাঁর আক্রমণ তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্য সরকারকে৷ জানিয়ে দিলেন ভোটের ফলেই এই ধরণের হিংসার জবাব পাবে তৃণমূল৷

এক সর্বভারতীয় বৈদ্যুতিম মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন প্রঝানমন্ত্রী৷ তার মাঝেই এসে পৌঁছায় অমিত শাহের রোজ শোর পরই কলকাতায় বিজেপি-টিএমসিপি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে৷ পরিস্থিতি ভয়াবহ৷ এপ্রসঙ্গে মোদী সরাসরি দোষারোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ বলেন, ‘‘গত একবছর ধরে বিজেপি নেতা, কর্মীদের উপর অত্যাচার চলছে বাংলায়৷ কিন্তু অবস্থার বদল হবে দ্রুত৷ মানুষ সব দেখছে৷ ভোটেই এর যুগোপযোগী জবাব পাবে তৃণমূল৷’’

‘জনতাই জনার্দণ’৷ ভোটের মুখে প্রায় এই স্লোগান শোনা যায় প্রার্থীদের মুখে৷ বাংলা দখলে সেই জনতাতেই ভরসা রাখছেন গেরুয়া শিবিরের মোদী-শাহ জুটি৷ লোকসভায় বঙ্গবাসী যে তাদের পক্ষেই জবাব দেবে তা নিয়ে বেশ আশাবাদী বিজেপি নেতৃত্ব৷ প্রচার থেকে কর্মসূচি, পদ্ম শিবিরের উত্তাপ যত বেড়েছে, ততই সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী৷ মঙ্গলবারের ঘটনা ঘিরেও অভিযোগ, পালটা দোষারোপের পালা চলছেই৷

মোদীর পাশাপাশি মুখ খুলেছেন যার রোজ শো ঘিরে এত কাণ্ড সেই অমিত শাহ-ও৷ তিনিও তৃণমূলকে ইভিএমে জবাব দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন৷ মঙ্গলবারের ঘটনার জন্য পুলিশের ভূমিকাকেই দায়ী করেন তিনি৷ বলেন, ‘‘আমি মনে করি বাংলার এই বিশৃঙ্খলা, অরাজকতার জবাব মানুষ ভোটবাক্সে দেবেন। আগের বারের চেয়েও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবেন মোদী।’’

বিজেপির পোস্টার বয় মোদীর দাবি, ‘‘বিরোধীদের আচরণেই তাদের হতাশার ছবি ধরা পড়ছে৷ তাই ভোটের প্রথম থেকেই আমাকে ব্যক্তি আক্রমণ চলছে শেষ দফার আগেই ওরা ফলাফল আন্দাজ করে ফেলেছে৷ তাই জেনেবুঝেই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা বাদ দিয়ে গন্ডোগোলের চেষ্টা করছে৷’’ তাঁর কথায়, ‘‘বিরোধী শিবির জোট গঠনে ব্যর্থ৷ কমন এজেন্ডা তৈরি করতে পারেনি৷ তাই যেকোনও উপায় পালিয়ে বেড়ানোর ছুতো খুঁজছে ওরা৷’’

১৯শের ভোটে বাংলাই বিজোপির পাখির চোখ৷ প্রধানমন্ত্রী থেকে অমিত শাহ৷ রেকর্ড সংখ্যকবার এরাজ্যে প্রচার চালাচ্ছেন মোদী-শাহরা৷ বাংলার ভোট যে আগ্রাধিকার তা বোঝানোর চেষ্টা করছেন বিজেপির এই দুই মুখ৷ অন্যদিকে, মমতার নজরেও রাজ্যের ৪২ লোকসভা আসন৷ এই প্রক্ষাপটে লড়াই সমানে সমানে৷ তাই আক্রমণ, প্রতি আক্রমণে সরগরম রাজ্য রাজনীতি৷

মঙ্গলবারের ঘটনার জন্য ইতিমধ্যেই বিজেপিকে দায়ী করেছে রাজ্যের শাসক দল৷ বিদ্যাসাগরের ভাঙা মূর্তি দেখতে ওই দিন সন্ধ্যাতেই বিদ্যাসাগর কলেজে যান মমতা৷ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘বহিরাগতদের এনে একাজ করিয়েছে বিজেপি৷ রাজ্যে কোনও হেরিটেজের গায়ে হাত পড়লে তাঁর থেকে ভয়ঙ্কর কেউ হবে না৷’’

শেষ পর্যায়ের ভোটের আগে মূর্তি ভাঙা যে ইস্যু হয়ে উঠল তা আর বলার অপক্ষা রাখে না৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *