প্রবাসযুক্তরাষ্ট্র

মহামারীর প্রভাবে ৮০ মিলিয়নেরও বেশী শিশু চরম দারিদ্র্যের মুখোমুখি: রাবাব ফাতিমা

নিউইয়র্কে ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের দ্বিতীয় নিয়মিত অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ইউনিসেফ নির্বাহি বোর্ডের সভাপতি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেছেন, ‘শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান এবং নিয়মিত কর্মসূচিসমূহ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব তীব্র উদ্বেগের একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এই মহামারীটিকে শিশুদের সঙ্কটে পরিণত হতে দিতে পারি না।’

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের এই নিয়মিত অধিবেশনে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বব্যাপী শিশুরা যে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হয়েছে তা তুলে ধরেন।

৮ সেপ্টেম্বরের এ অধিবেশনে রাবাব ফাতিমা বলেন, মহামারীর প্রভাবে ৮০ মিলিয়নেরও বেশী শিশু চরম দারিদ্র্যের মুখোমুখি দাড়িয়েছে। ১.৬ বিলিয়ন শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে আর ১ বছরের কম বয়সী ৮০ মিলিয়ন শিশু জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোভিডের ফলে ক্ষুধার্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ মিলিয়নে।

বিশ্বজুড়ে ইউনিসেফের কর্মীগণ অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিবেদিত সেবা প্রদানের মাধ্যমে অস্বাভাবিক এই পরিস্থিতিতে যেভাবে সাড়া দিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ জানান ইউনিসেফ নির্বাহি বোর্ডের সভাপতি। নজীরবিহীন এই সংকট মোকাবেলায় কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে ইউনিসেফকে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনশীল সমাধানে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। পাশাপাশি জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার উপর জোর দেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

চলতি অধিবেশনে ইউনিসেফের ‘কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট’ সমূহের বিষয়বস্তু ‘শিক্ষা’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনলাইন ও দূরশিক্ষণে প্রবেশাধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান নির্বাহী বোর্ড সভাপতি।

প্রতিটি স্কুলকে ইন্টারনেটের সাথে এবং প্রতিটি যুবককে তথ্যের সাথে সংযুক্ত করার প্রয়াসে গৃহীত ইউনিসেফ ও আইটিই’র যৌথ পদক্ষেপ ‘গিগা’ এর সফলতার কথা তুলে ধরে তিনি সকল অংশীদারকে মহৎ এই কাজে তাদের দক্ষতা ও আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা কোভিড-১৯-এর প্রেক্ষিতে মেয়েরা বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে মেয়েদের অগ্রগতি নিশ্চিত, মর্যাদা রক্ষা ও নিগ্রহ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নারী শিক্ষায় আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

তিনি লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা ও বৈষম্য এবং ঋতুজনিত স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সচেতনতা ও সুবিধার অভাবসহ এ জাতীয় নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা দূর করে নারী ও মেয়েদের পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের বিষয়টিতে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। বৈশ্বিকভাবে ১-১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরের মৃত্যুর ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রধান একটি কারণ এবং এ কারণে বিশ্বে প্রতিবছর ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি শিশুর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্যান্য এজেন্সি এবং এনজিওসমূহের সাথে যৌথভাবে দেশ পর্যায়ে ডুবে মৃত্যু রোধের পক্ষে জনসচেতনতা সৃষ্টির কাজ আরও জোরদার করতে ইউনিসেফের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধনী অধিবেশনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইউনিসেফের নির্বাহি পরিচালক মিজ্ হেনরিয়েটা এইচ ফোর। তিনি ইউনিসেফের বিস্তারিত কর্মকান্ড এবং প্রতিষ্ঠানটি যে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে তা তুলে ধরেন। অধিবেশনটিতে সদস্যদেশসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধি ও প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension