সম্পাদকীয়

মার্কিন যুক্ত-জাতি: করোনা ও বর্ণবৈষম্য

সৈয়দ রাইয়ান আমীর

১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি গৃহীত হওয়া ‘International Convention on the Elimination of All Forms of Racial Discrimination’ এ বেশ গোছানোভাবে বর্ণবৈষম্যের সংজ্ঞা তুলে ধরা হয়েছে। এর আলোকে বর্ণবৈষম্য হলো জাত, বর্ণ, বংশ পরিচয় বা গোত্র, জাতীয়তা অথবা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের ভিত্তিতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অথবা অন্য যে কোনও জনজীবনে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতার সমান ভিত্তিতে (কোনও বিষয়ের) স্বীকৃতি, উপভোগ বা অনুশীলনকে বাতিল বা ক্ষতিগ্রস্ত করা বা প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে যে কোনও ধরনের পৃথকীকরণ, অন্তর্ভুক্তি থেকে বিরত থাকা, বাধা দেয়া অথবা অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া।

আওতাভুক্ত রাষ্ট্রসমূহকে এর বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিদের মাঝে বর্ণবৈষম্য রোধ কল্পে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে দুই নম্বর আর্টিকেলে। তিন নম্বর আর্টিকেলে বলা হয়েছে সরকারকে পৃথকীকরণ এবং জাতিবিদ্বেষ (Apartheid) নিষিদ্ধ করতে। বর্ণবাদী প্রচারণা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে চার নম্বর আর্টিকেলে। আইনের ভিত্তিতে সমতার কথা বলা আছে আর্টিকেল নম্বর পাঁচে যা নিশ্চিত করবে সরকার। আর্টিকেল ছয়ে বর্ণবৈষম্য থেকে জনগণের নিরাপত্তার কথা বলা আছে এবং নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে সঠিক সমাধানের।

সবথেকে চমকপ্রদ হচ্ছে শিক্ষার মাধ্যমে বর্ণবৈষম্য দূর করার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এমন আরও নানা ধারা রয়েছে যেখানে বর্ণবৈষম্য দূর করা এবং তা থেকে বেঁচে থাকার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু ২০২০- এ এই করোনার সময় বর্ণবৈষম্য দেখা দিয়েছে আরেক রূপে। সংজ্ঞায় উল্লেখিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি এখানে উপস্থিত করোনা। এটা কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে তা নিয়ে আলোচনার সময় সম্ভবত এসে গেছে।

সাধারণ সামাজিক জরিপের ঐতিহাসিক তথ্য দেখায় যে অপরিবর্তিত বা অসংযুক্ত আমেরিকানরা অন্য আমেরিকানদের চেয়ে জাতিগতভাবে বেশি রক্ষণশীল বিষয়টি এরকম তা নয় তবে ব্যতিক্রম হলো রাষ্ট্রপতির জন্য একজন কাল্পনিক কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থীর পক্ষে তাদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম;…

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগটিকে তার উৎপত্তিস্থলের নামানুসারে চিহ্নিত করার ব্যাপারে অনুৎসাহিত করছে। এরপরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্চ মাসে করোনার বদলে চাইনিজ শব্দটি ব্যবহার করেন। এর ফলে বর্ণবৈষম্য এক নতুন রূপ ধারণ করবে বলে মনে করা হলেও এরকম রোগ কেন্দ্রিক বৈষম্য নতুন নয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশেও শুধুমাত্র দেখতে চীনাদের মতো হওয়ার জন্য বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে গণমাধ্যমে রিপোর্ট পাওয়া যায়।

ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণ পাওয়া যায় জনস্বাস্থের ঝুকি মোকাবেলায় জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়ানো রোধ করার জন্য অনেক সময়ই এই ধরনের ঘটনার উদ্ভব করা হয়।

১৯১৮-১৯ সালের স্প্যানিশ ফ্লু মূলত স্পেনে উৎপত্তিলাভ না করলেও মার্কিন সিনেটর চাক গ্রেস্লিসহ আরো অনেকে মনে করেন স্পেনই এর উৎপত্তিস্থল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কানসাসে এই রোগের দেখা মিলে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এই রোগ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেয়। স্পেনে এর নাম ছিল ফ্রেঞ্চ ফ্লু। এর পেছনে উত্তর ইউরোপিয় মার্কিনিদের মাঝে পূর্ব ও দক্ষিণ ইউরোপ এবং চৈনিক অভিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ একটি কারণ হয়ে থাকতে পারে। এই রোগের কিছুকাল পূর্বেই ১৯১৮ সালে মার্কিন পূর্ব উপকূলে যে পোলিও দেখা যায় তার জন্য ইটালিয়ানদের দায়ী করা হয় যদিও ইটালিতে এই রোগের বিস্তার সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র জাতিগত বিদ্বেষের কারণেই এ ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানো হয়।

শ্বেতাঙ্গ মার্কিনিরা বহুকাল পর্যন্ত তখন চীনা অভিবাসীদের বিভিন্ন রোগের আমদানিকারক হিসেবে চিহ্নিত করত। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া রিভারসাইডের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কিম ই ডিওনে বলেন রোগের ভিত্তিতে অভিবাসীদের পৃথকীকরণের ঘটনা মার্কিন ইতিহাসে বেশ পুরনো। ১৮৮২ সালে চীনা বর্জন আইন থেকে বোঝা যায় যে বহুকাল চীনাদের বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে বলির পাঠা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কলেরা এবং গুটিবসন্ত সম্পর্কে ক্যালিফোর্নিয়ায় ধারণা প্রচলিত ছিল যে এই রোগগুলো সবসময় চীনারা নিয়ে আসে। ভারতে কলেরার উদ্ভব ধরে নিয়ে একে অনেক সময় এশীয় কলেরাও বলা হত যদিও কলেরা ও গুটিবসন্ত মূলত ইউরোপিয় আগ্রাসনের ফলেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে।

২০১৫ সালের জুনে পাবলিক রিলিজিয়ন রিসার্চ ইনস্টিটিউট দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপ অনুসারে, ৬২ শতাংশ আমেরিকান পুরোপুরি একমত বা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একমত যে ঈশ্বর আমেরিকাকে মানব ইতিহাসে একটি বিশেষ ভূমিকা দিয়েছেন।…

উনবিংশ শতকের একেবারে প্রথমে সান ফ্রান্সিসকোতে যে বিউবনিক প্লেগ দেখা যায় তার উৎপত্তিস্থল হিসেবে চায়না টাউনের একটি বাসাকে চিহ্নিত করেন একজন ডাক্তার কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তিনি কোনও শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেন নি যেখানে মার্কিনিদের ওই অঞ্চলে যাতায়াত ছিল, শুধুমাত্র ওই অঞ্চলের চীনা জনগণকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়- বলেন নয়ন শাহ যিনি অধ্যাপনা করেন ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফর্নিয়া- ডরন্সিফে। সার্জন জেনারেল ওয়াল্টার ওয়াইম্যান তখন ঘোষণা দেন এটি একটি অরিয়েন্টাল অসুখ যা ভাত খাবার সাথে সম্পর্কিত। এভাবেই রোগের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে ওঠে কেননা সাধারণ মার্কিনীগণ মনে করতে থাকে অসুখ শুধুমাত্র চীনাদের আক্রান্ত করতে পারবে অপরদিকে শ্বেতাঙ্গ মার্কিনীদের মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

ডিওনের মতে এই ধরনের অবস্থা রোগের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করে কেননা সাধারণ জনগণ মনে করতে থাকে তারা ওই নির্দিষ্ট জাতির অংশ না হওয়ায় এই রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে। লক্ষণীয় যে ১৯৫৭-৫৮ এর ফ্লু চীনে প্রথম শনাক্ত হবার কারণে একে এশিয়ান ফ্লু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একইভাবে ১৯৬৮-৬৯ সালের ফ্লুকে হংকং ফ্লু নামকরণ করা হয়। কিন্তু সোয়াইন ফ্লুর বেলায় কিন্তু এমনটি ঘটে নি যেখানে আগের ঘটনাগুলোর আলোকে এর নাম হওয়া উচিত ছিল আমেরিকান ফ্লু। গণমাধ্যমগুলোর অনেক প্রচারণা এরকম লক্ষ্য করা যায় যে এই রোগের উৎপত্তি স্থল মেক্সিকো যা তখনকার অভিবাসী ইস্যুর ওপরে প্রভাব ফেলে।

এশিয়ান প্যাসিফিক পলিসি প্ল্যানিং কাউন্সিল মার্চ মাসের করোনার কারণে সৃষ্ট বর্ণবৈষম্য বিষয়ক ১ হাজার ৮০০ রিপোর্ট। পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে ৫৮ শতাংশ এশিয়ান আমেরিকান মনে করেন এই মহামারীর কারণে বর্ণবৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে যেখানে আফ্রিকান-আমেরিকানদের মধ্যে এই হার ৪৫ শতাংশ।

১৯৬৮-৬৯ সালের ফ্লুকে হংকং ফ্লু নামকরণ করা হয়। কিন্তু সোয়াইন ফ্লুর বেলায় কিন্তু এমনটি ঘটে নি যেখানে আগের ঘটনাগুলোর আলোকে এর নাম হওয়া উচিত ছিল আমেরিকান ফ্লু।…

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিতাত্ত্বিক আলোচনা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। অবশ্য বিশদ আকারে তাদের জাতীয়তা নিয়ে বিশ্লেষণ যে আবার একেবারে মুখ্য প্রাধান্য লাভ করবে সে সময় এখনো আসে নি। তবে সাধারণভাবে জাতি গঠনের দিকে তাকালে এই ধরণের সমস্যার বারবার উদ্ভব এবং তাতে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু মার্কিন নাগরিকের অরাজক আচরণের পুনঃ পুনঃ আগমনের মূল যৎসামান্য অনুধাবন করা যাবে বলে আশা করা যায়। তাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটের বর্ণনা এখানে উলেখ করা হয় নি কারণ তা মোটামুটি সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে সবারই কম বেশি জানা।

রাষ্ট্র গঠনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে জাতিতত্ত্ব যেখানে জাতি গঠনের পরের ধাপ বিবেচিত হয় রাষ্ট্র গঠন হিসেবে। রাষ্ট্র আর জাতিকে একই মনে হলেও কেন তা এক নয় এটি একটি ভিন্ন আলাপের বিষয় হতে পারে। জাতিকে বিভিন্ন উপায়ে সংজ্ঞায়িত করা গেলেও পুরোপুরি ব্যাখ্যা করার জন্য কোনও একক তত্ত্ব অবশ্য উল্লেখ করা একটু বিপদজনক কেননা জাতি বা Nation বিষয়টি এত বিস্তৃত যে কোনও একটি কাঠামোয় একে দাঁড় করানোটা মুশকিল। অনেক তাত্ত্বিক জাতি সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করেছেন তবে তারা বিভিন্ন পথে এগিয়ে যাওয়ার কারণে কোনও উল্লেখযোগ্য একক উপলব্ধ সংগ্রহ করা যায় না। তবে একটি বিষয় তারা সবাই বলেছে, জাতির কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে যা নিশ্চিত করতে পারে যে এটির পরিচয়।

কেউ কেউ ভাষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন; অন্যরা তা আবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর্নেস্ট রেনান ভেবেছিলেন যে একটি জাতি গঠনের লড়াইয়ের জন্য ভাষার ততটা গুরুত্ব নেই। অন্যদিকে জোসেফ স্ট্যালিন বলেছিলেন যে চেক বা পোলিশ জাতি গঠনে ভাষা বেশ সহায়তা করে। অটো বয়ার ভাষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন যে এটি এমন এক পথ যার মাধ্যমে শিক্ষা, অর্থনৈতিক জীবন, সংস্কৃতি এবং আরও অনেক কিছু ভাগ করা যায়। তবে তিনি এই মন্তব্যের সাথে সাথে এও বলেন যে এটি কোনও নিশ্চিত উপকরণ নয় কারণ যেখানে একটি সাধারণ লক্ষ্য থাকা উচিত যাতে একটি সাধারণ জাতীয় চরিত্র অর্জন করতে পারা যায় সেখানে ভাষা সব সময় সামগ্রিকভাবে তা অর্জন করতে সহায়ক নাও হতে পারে। একটি সাধারণ লক্ষ্য মানে একটি সাধারণ ইতিহাস।

একটি সাধারণ অঞ্চল বা ভূখণ্ড থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ কারণ একসাথে বসবাস না করলে সাধারণত একসাথে থাকার মানসিক বন্ধন বা সাধারণ ইচ্ছা তৈরি হয় না এবং এটি জোসেফ স্ট্যালিনের মতে খুব তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি একটি সাধারণ অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কেও উল্লেখ করেছিলেন। তিনি জর্জিয়ানদের উদাহরণ দিয়েছিলেন। বহু শতাব্দী ধরে তারা একে অপরের সাথে লড়াই করেছিল এবং যখন তারা একটি সাধারণ অর্থনৈতিক জীবন পেয়েছিল তখন তারা জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইংল্যান্ডে সাধারণ ভাষা এবং সংস্কৃতি কিছুটা আমদানি- রফতানি হলেও তারা একটি দেশ হিসাবে বিবেচিত হয় না কারণ তাদের একটি সাধারণ অঞ্চল নেই। উইল কিমলিকাও এই চিন্তাধারার বিশিষ্ট সমর্থক। বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসন ভেবেছিলেন যে জাতি স্বভাবতই সীমাবদ্ধ এবং সার্বভৌম হতে হবে। তাই তাদের চিন্তার মধ্যে একটি মিল দেখা যায়।

অ্যালান ওল্ফ তাঁর ‘ওয়ান নেশন আফটার অল’ ( One Nation After All) নামক গ্রন্থে লিখেছিলেন … শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক শ্রেণি খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী এবং ‘অসংযুক্ত আমেরিকান’ এর সাথে প্রায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্পর্কযুক্ত। আমেরিকান স্বপ্নের ক্ষতিতে এর সদস্যরা বিচলিত হয়ে পড়েছেন যেখানে বহিরাগতদের আগমন ও তাদের বিভিন্ন অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভবিষ্যতে তারা জাতিগত সংখ্যালঘুতে পরিণত হবার আশঙ্কায় রয়েছেন।…

জাতি গঠনে ধর্মের ভূমিকাও উল্লেখ করার মতো। ইসরাইল একটি খুব ভালো উদাহরণ। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ রয়েছে যেখানে ধর্ম জনসংখ্যার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। তবে আর্নেস্ট রেনান এই আদেশ থেকে আলাদা কিছু ভেবেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন যে ধর্ম যে কোনও সংস্কৃতির মূল কেন্দ্র থেকেই এসেছে। এথেন্সে কাউকে এথেনিয়ান হিসাবেই ধরা হতো না যদি তিনি এথেনীয় ধর্ম পালনে অস্বীকার করতেন।

যদি একদল লোক একসাথে বসবাস করে তবে তাদের মধ্যে একটি সাধারণ স্বার্থ থাকা উচিত এবং তা না থাকলে তারা সাধারণত একটি জাতিতে পরিণত হয় না। একটি সাধারণ স্বার্থ একসাথে একদল লোককে একত্রিত করে দিতে পারে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা পেয়েছিল কারণ জনগণের মধ্যে কিছু সাধারণ সমস্যা ছিল এবং সম্মিলিতভাবে তারা সমস্যার বিরোধিতা করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে তারা একক জাতি পায়।

কার্ল ওল্ফগ্যাং ডয়েশের মতে ইতিহাসও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি যাপিত বা সংহতিমুলক অথবা অংশীদারি ইতিহাস জনগণকে তাদের সমৃদ্ধ অতীতের গৌরব বোধ করতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে আগ্রাসন বা ত্যাগের কোনও দুঃখজনক ইতিহাস অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেননা এই দুঃখের স্মৃতি বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে পারে।

তবে মূল উপাদানটি মনে হয় একসাথে থাকার একটি সাধারণ ইচ্ছা। প্রাত্যহিক জীবনটাই সর্বাধিক প্রধান বিষয় কারণ মানুষের অর্থনৈতিক লেনদেন, বস্তু ও সেবা ভাগ করে নেওয়া, যোগাযোগ ব্যবস্থা সমস্ত কিছুই তাদের নিয়মিত জীবনের প্রতিচ্ছবি। সুতরাং ইচ্ছা থাকলে সেখানে একটি জাতি গঠনের উপায় থেকেই যায়। আজকাল ‘আমেরিকান জাতীয়তা’ সর্বাধিক বিশিষ্ট জাতীয়তার মধ্যে একটি। তাদের একসাথে থাকার ইচ্ছাটাই মূলত এখানকার একাত্মতার মুখ্য উপাদান। আর্নেস্ট রেনানের মতানুসারে জাতি একটি নিত্যদিনের মতামত বা বিমূর্ত গণভোট।

এই শেষ উপাদানটির জন্যই যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্বে জাতিতাত্ত্বিক আলোচনার এক মুখ্য উদাহরণ আবার কৃষ্ণাঙ্গ ও কোভিড-১৯ সময়ে এশিয়ান- আমেরিকানসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতির প্রতি কিছু আচরণ তাদের জাতীয় চরিত্রকে তেমনি প্রশ্নবিদ্ধ করে।

প্রতি ১২ জনে ১ জন আমেরিকান দাবি করে যে তারা কেবল ‘আমেরিকান’, যা ইঙ্গিত দেয় যে কোনও বিশেষ ইউরোপিয় জাতিগোষ্ঠীর সাথে তারা সংযুক্ত নয় বা সংযুক্তি প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নয় যা মূলত তাদের আদিবাসীও মনভাবের পরিচয় বহন করে। এই `অসংযুক্ত আমেরিকানগণ’ স্বতন্ত্র।

নিকট অতীতে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সবথেকে গোছানো প্রতিবাদ মনে হয় ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ করেছিল। বিএলএম একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলন যা আফ্রিকান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্ভূত- যার কাজ মূলত কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রচার চালানো। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের দ্বারা হত্যাকাণ্ডে কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএলএম মূলত আন্দোলন গড়ে তুললেও বৃহৎ ক্ষেত্রকে বিবেচনায় নিয়ে যেমন মার্কিন ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মধ্যে বর্ণবাদ, পুলিশের বর্বরতা এবং বর্ণগত পার্থক্য নিয়ে উদ্ভূত সমস্যাগুলোর প্রতিবাদও এর আওতাভুক্ত।

২০১৩ এর গ্রীষ্মে, যখন সেন্ট জর্জ জিমারম্যানের বিরুদ্ধে ট্রেইভন মার্টিনকে গুলি করে হত্যার জন্য চূড়ান্ত রায় দেয়া হয় তখন ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনটি তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের আয়োজক প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন: অ্যালিসিয়া গারজা, প্যাট্রিস কুলারস এবং ওপাল টোমেটি। আফ্রিকার-আমেরিকান নাগরিক অধিকার আন্দোলন, ব্ল্যাক পাওয়ার আন্দোলন, আশির দশকের কৃষ্ণাঙ্গ নারী স্বাধীনতা, প্যান-আফ্রিকানিজম, বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন, হিপহপ, এলজিবিটি সামাজিক আন্দোলন এবং ওয়াল স্ট্রিট অবরোধ করার আন্দোলনগুলো থেকে বিএলএম অনুপ্রেরণা লাভ করে।

যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসীদের দেশ এবং সুযোগের ভূমি হিসাবে বর্ণনা করা হয় প্রায়শই। প্রকৃতপক্ষে, যে গল্পটি প্রচলিত তা হলো আমেরিকান পরিচয় মূলত বর্ণ, জাতি বা ধর্ম নির্বিশেষে আদর্শের একটি সাধারণ মতবাদের গুচ্ছকে গ্রহণ করে। “E pluribus unum” বা অনেকে মিলে এক- এই নীতি অবলম্বনে মার্কিন জাতীয়তাবাদের ধারণাটি বিকাশ লাভ করলেও বাস্তবে তাদের পরিচয় নির্ধারণকারী নিয়ামকগুলো আদতে একত্রিতকরণের চেয়ে বরং তাদের মাঝে বিভাজন তৈরি করছে। কিথ গ্যাডি ও কারবি গোইডেলের এ সম্পর্কিত মতবাদ বেশ চমকপ্রদ।

‘অসংযুক্ত আমেরিকান’ বা আন-হাইফেনেটেড আমেরিকান (কোনও সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক আনুগত্য বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত তকমাবিহীন- ফরাসী-কানাডিয়ান, আফ্রিকান-আমেরিকান – এরকম নয়) ধারণাটি প্রথমে চলে আসে এক্ষেত্রে। কয়েক দশক ধরে, আদমশুমারি ব্যুরো আমেরিকানদের জিজ্ঞাসা করেছে ‘এই ব্যক্তিটি তার ঐতিহ্য কোন্‌ দেশ থেকে নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন?’ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে, জার্মান (১৭ শতাংশ), আইরিশ (১৬ শতাংশ) এবং ইংরেজ (১৪ শতাংশ) সবচেয়ে সাধারণ প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাওয়া যায়। প্রতি ১২ জনে ১ জন আমেরিকান দাবি করে যে তারা কেবল ‘আমেরিকান’, যা ইঙ্গিত দেয় যে কোনও বিশেষ ইউরোপিয় জাতিগোষ্ঠীর সাথে তারা সংযুক্ত নয় বা সংযুক্তি প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নয় যা মূলত তাদের আদিবাসীও মনভাবের পরিচয় বহন করে। এই `অসংযুক্ত আমেরিকানগণ’ স্বতন্ত্র। মৌলবাদী প্রোটেস্ট্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনা এদের মাঝেই বেশি। তাদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জনগণনা দক্ষিণে এবং বিশেষত বৃহত্তর অ্যাপালিয়াতে বাস করে।

আমেরিকার রাজনীতিতে সর্বাধিক দৃশ্যমান ধর্মীয় উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হলো এস্টাব্লিশমেন্ট ক্লজ এবং প্রোটেস্ট্যান্টগণ। খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদীদের মাঝে আমেরিকা সম্পর্কে চুক্তি রয়েছে…

সীমিত শিক্ষিত ও তরুণ গ্রামীণ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে ‘আমেরিকান’ পরিচয়ের সর্বাধিক হার লক্ষণীয়। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ‘অসংযুক্ত আমেরিকান’ পরিচয়যুক্ত এই ব্যক্তিগণ ক্রমবর্ধমানভাবে খুব রক্ষণশীল এবং তা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে প্রমাণিত, সাথে সাথে তারা বিদেশী প্রভাবকে একটি সাংস্কৃতিক হুমকি বলেও মনে করেন। দেশপ্রেমের কারণে তারা নিজেদেরকে জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক বা পৌত্তলিক ‘আমেরিকান’ বলে থাকেন। তারা একটি শক্তিশালী জাতীয় প্রতিরক্ষার পক্ষে। তারা সম্ভবত ভাবেন যে কোনও ব্যক্তির জীবন সম্ভাবনা তাদের বর্ণগত পরিচয়ের সাথে আবদ্ধ (মাইকেল ডওসন যাকে ‘সম্বন্ধযুক্ত ভাগ্য’ বলে থাকেন)।

সাধারণ সামাজিক জরিপের ঐতিহাসিক তথ্য দেখায় যে অপরিবর্তিত বা অসংযুক্ত আমেরিকানরা অন্য আমেরিকানদের চেয়ে জাতিগতভাবে বেশি রক্ষণশীল বিষয়টি এরকম তা নয় তবে ব্যতিক্রম হলো রাষ্ট্রপতির জন্য একজন কাল্পনিক কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থীর পক্ষে তাদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম; বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর তার হার আরও কম। তারা সাধারণভাবে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেওয়ার ব্যপারেও বেশ উদাসীন (ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এই বিষয়টি নিয়ে আরও ভাবতে সাহায্য করবে)।

তারপরে রয়েছে খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদীরা। আমেরিকার রাজনীতিতে সর্বাধিক দৃশ্যমান ধর্মীয় উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হলো এস্টাব্লিশমেন্ট ক্লজ (এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে সরকারি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি একটি ধর্মের পক্ষে অন্য ধর্মের বিপক্ষে যায় এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত রাখে) এবং প্রোটেস্ট্যান্টগণ। খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদীদের মাঝে আমেরিকা সম্পর্কে চুক্তি রয়েছে যেখানে চারটি বক্তব্যের মুখ্য যেগুলো ১. ঈশ্বরের পরিকল্পনায় আমেরিকার একটি বিশেষ স্থান রয়েছে; ২. ঈশ্বর বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমেরিকাকে বেছে নিয়েছেন; ৩. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র একটি খ্রিস্টান জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; এবং ৪. এই দেশের ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

যদি একদল লোক একসাথে বসবাস করে তবে তাদের মধ্যে একটি সাধারণ স্বার্থ থাকা উচিত এবং তা না থাকলে তারা সাধারণত একটি জাতিতে পরিণত হয় না। একটি সাধারণ স্বার্থ একসাথে একদল লোককে একত্রিত করে দিতে পারে।

২০১৫ সালের জুনে পাবলিক রিলিজিয়ন রিসার্চ ইনস্টিটিউট দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপ অনুসারে, ৬২ শতাংশ আমেরিকান পুরোপুরি একমত বা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একমত যে ঈশ্বর আমেরিকাকে মানব ইতিহাসে একটি বিশেষ ভূমিকা দিয়েছেন। ৫২ শতাংশের মতে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস এবং ৩৩ শতাংশের মতে খ্রিস্টান হওয়া প্রকৃত আমেরিকান হওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১০ সাল থেকে জনগণের অন্যান্য সমীক্ষায়ও একই রকম মতামতের হার পাওয়া গেছে। বাইবেলের প্রচারেও প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে। এই তথ্যগুলোর সাথে পূর্বের চুক্তিটি এবং শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের মধ্যে মুসলিম ও অভিবাসীবিরোধী মনোভাব পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। রাজনীতি এবং আমেরিকার গতিপথ তাই খ্রিস্টানীয়করণের দ্বারা কিঞ্চিৎ প্রশ্নবিদ্ধ। খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদীদের প্রায়শই ‘অসংযুক্ত আমেরিকানদের’ মধ্যে দেখা যায় আবার বিপরীতভাবে ‘অসংযুক্ত আমেরিকানদের’ মধ্যে খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদীদেরও দেখা যায়।

সর্বশেষ উল্লেখ্য হলো নতুন জাতীয়তাবাদীরা। নব্বইয়ের দশকে সাংবাদিক মাইকেল লিন্ডের দ্বারা নতুন জাতীয়তাবাদ ধারণাটির নামকরণ করা হয়েছিল, যিনি এটিকে একটি অভিজাত শ্বেতাঙ্গ শাসন হিসাবে বর্ণনা করেছেন। নতুন জাতীয়তাবাদের অধীনে শ্বেতাঙ্গ অভিজাতগণ (overclass) একটি বেসরকারি ব্যবস্থা তৈরি করে যেখানে- অভিজাত অঞ্চল, বেসরকারি স্কুল, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। নিম্নশ্রেণী যা গঠিত বাকি শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য বর্ণের ব্যাক্তিদের সমন্বয়ে তারা বাস করে সর্বসাধারণের জন্য গৃহীত ব্যবস্থার অধীনে। নতুন জাতীয়তাবাদ ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার এবং স্বতন্ত্র দায়িত্বের ওপর নির্মিত।

আমেরিকান জাতীয়তাবাদের এই তিনটি ধারণা বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। তারা পরিচয়ের একটি নির্দিষ্ট উপাদানের দিকে নির্দেশ করে- সম্পদ বা জাতি অথবা ধর্মীয় মতবাদ। তারা একে অপরের সাথে সমাপতিত হওয়ার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে বাইরে থেকে আগত জনগোষ্ঠী ( মূলত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, অভিবাসী, অককেশীয় নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী এবং মুসলমানরা) বৃদ্ধি পাচ্ছে তার বিপরীতে অবস্থান নেয়।

আমেরিকান জাতীয়তাবাদের প্রতিদ্বন্দ্বী রূপগুলোর এই নতুন রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিকার একটি জাতীয় ঐকমত্য যা বিজ্ঞানী অ্যালান ওল্ফ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ক্লিনটন প্রশাসনের শেষের দিকে, যখন রাজনৈতিক মেরুকরণ তুঙ্গে, তখন ওল্ফ তাঁর ওয়ান নেশন আফটার অল ( One Nation After All) নামক গ্রন্থে লিখেছিলেন যে আপাতদৃষ্টিতে বিভিন্ন আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে সহনশীল বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি বিস্তৃত ঐকমত রয়েছে। এই ঐকমতটি শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক শ্রেণির জীবনযাত্রার নিম্নগামী গতিশীলতা থেকে বেঁচে থাকতে পারবে না। শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক শ্রেণি খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী এবং ‘অসংযুক্ত আমেরিকান’ এর সাথে প্রায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্পর্কযুক্ত। আমেরিকান স্বপ্নের ক্ষতিতে এর সদস্যরা বিচলিত হয়ে পড়েছেন যেখানে বহিরাগতদের আগমন ও তাদের বিভিন্ন অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভবিষ্যতে তারা জাতিগত সংখ্যালঘুতে পরিণত হবার আশঙ্কায় রয়েছেন।

এভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আহ্বান তার অনুরণনটি খুঁজে পেয়েছে। আর তা থেকেই বর্তমান পরিস্থিতি ও মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হবার প্রয়াস। এর মাঝে করোনাকালীন মার্কিনী আচরণও চোখে পরার মতো যা মূলত এই জাতিগত সমস্যার সাথে সম্পর্কিত বললে ভুল বলা হবে না।

উল্লেখ করা তত্ত্বসমূহের সাথে তথ্যগুলো মেলালে মনে হয় জাতি গঠনের জাতীয় সমস্যার একটি ছোট ছবি পাওয়া যাবে, যা থেকে সমাধানের পথ খুঁজতে সহজ হবে বলে মনে হয় কেননা সমস্যার মূল না জেনে সমাধানের আলোচনা নতুন সমস্যার জন্ম দেবে- অন্তত এই ক্ষেত্রে তা বেশ জোর দিয়েই বলা যায়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা
বণিক বার্তা

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension