মেহেরপুরে প্রচন্ড শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি

রূপসী বাংলা আঞ্চলিক ডেস্ক রিপোর্ট: মেহেরপুরে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শৈত প্রবাহ। আজ শনিবার ভোর ৬টায় মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস। গত কয়েকদিন ধরে চলা মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এখন তীব্র হয়েছে।এর ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হচ্ছে।
 
আজ ভোর থেকেই রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য। প্রতিদিনের মতো সকালে হাঁটতে বের হওয়া মানুষের সংখ্যাও ছিল একেবারে কম। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। শ্রমজিবী মানুষ কাজের সন্ধানে এসে কাজ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। অনেকেই খড়কুটো জ্বালীয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে। শহরে যারা নিয়মিত ভোরে কাজকর্ম শুরু করেন- জরুরি প্রয়োজনের এমন মানুষ ছাড়া অন্য কারও উপস্থিতি তেমন নেই। যারা ঘর থেকে বের হচ্ছেন তারা চায়ের দোকানে বসে সময় কাটাচ্ছেন। রাস্তাঘাটের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনায় আগুন জ্বলিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ।
 
মেহেরপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকার চা দোকানী বাবু মিয়া বলেন, আমি প্রতিদিন ফজরের আজানের পর সাড়ে ৫টার দিকে দোকানে আসি। প্রচণ্ড শীতের কারণে আজ ৭টার দিকে এসেছি। কিন্তু তারপরেও চা পানের লোক পাচ্ছি না। সকাল হলেও রাস্তাঘাটে তেমন লোকজন নেই।
 
মেহেরপুর শহরের নৈশপ্রহরী আরোজ আলী বলেন, সারারাত শীতে কী কষ্ট করে যে পাহারা দিয়েছি তা আমরাই জানি। যেমনি শীত যেমনি ঠান্ডা, বাসায় থরথর করে কেঁপেছি। কয়েকটি পোষাক পরেও শীত নিবারণ হচ্ছে না। এভাবে যদি শীত পড়ে তাহলে রাতে পাহারা দেওয়া সম্ভব হবে না।
 
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে এ অঞ্চলে মৃদ থেকে মাঝারি এবং আজ শনিবার তীব্র শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আজ ভোর ৬টায় এ অঞ্চলে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ছিল ৬ দশমিক ২ এবং বৃহস্পতিবার ছিল ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
 
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছামাদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়ার এ অবস্থা আরও কয়েকদিন চলতে পারে। মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গনি বলেন, গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় আমাদের কাছে সরবরাহ অনেক কম। তাই সমাজের বিত্তবানদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের আহবান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *