বাংলাদেশভারত

মোদির ঢাকা সফর: ভারতীয় ঋণের প্রকল্প পর্যালোচনার প্রস্তুতি

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ মাসের শেষে তার ঢাকা আসার কথা। এ উপলক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসাবে ভারতীয় ঋণের (এলওসি) প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরার প্রস্তুতি শুরু করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

সম্প্রতি এ নিয়ে পর্যালোচনা সভার সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে। সেখানে প্রকল্পগুলোর অবস্থা এবং সমস্যাসহ ঋণের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের বিপরীতে অর্থছাড়ে বিরাজ করছে ধীরগতি।

গত ১০ বছরে তিন ধাপে ৭৫০ কোটি ডলার (২০ কোটি অনুদান) বা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রতিশ্রতি রয়েছে ভারতের কাছ থেকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ছাড় হয়েছে মাত্র ৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (ছয় হাজার ১৯৫ কোটি টাকা)।

ইআরডির যুগ্ম সচিব ও এশিয়া উইংয়ের প্রধান শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী রোববার যুগান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত জানি না যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় ভারতীয় ঋণের প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হবে কি না। তবে সম্প্রতি একটি পর্যালোচনা সভা হয়েছে। যদি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তথ্য চাওয়া হয়, তাহলে সর্বশেষ অগ্রগতির তথ্য আমাদের হাতে রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলওসির প্রকল্পগুলোয় ধীরগতির তথ্য ঠিক নয়।

কেননা, এখনও অনেক প্রকল্প তৈরিই হয় নি। ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি না হলে অগ্রগতি হবে কীভাবে? তৃতীয় এলওসির অধিকাংশ প্রকল্পেরই ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে দেখবেন গতি বেড়ে যাবে।

ইআরডির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে, সেখানে ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতাভুক্ত প্রকল্পগুলোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। ফলে লিখিত কোনো নির্দেশনা না এলেও প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখতে চায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। এজন্য স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।

ইআরডির সর্বশেষ তথ্যমতে, তিনটি এলওসি মিলে উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যা ৪৬টি। এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে প্রথম এলওসির আওতায় ১৪টি প্রকল্পের। ৮টির কাজ চলমান। বাকিগুলোর দরপত্র (প্রকিউরমেন্ট) চলমান এবং ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তবে প্রকল্প প্রস্তাবে প্রাথমিক সম্মতি, পরামর্শক নিয়োগ ও নির্মাণকাজের দরপত্র দলিলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে সময় বেশি লাগার ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগছে। বাস্তবায়ন পর্যায়ে দেখা যায়, ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে গতি নেই। মন্ত্রণালয় থেকে তাগাদা দিয়েও কোনো ফল মিলছে না।

অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালকের হাতে আর্থিক ক্ষমতা থাকে না। ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক তাদের ইচ্ছামতো অর্থছাড় করে। মূলত এসব কারণেই ধীরগতি চলছে।

ইআরডির বৈদেশিক সাহায্যের বাজেট ও হিসাব শাখা (ফাবা উইং) সূত্র জানায়, প্রথম এলওসির আওতায় প্রতিশ্রুতি ছিল ১০০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে ঋণ ৮০ কোটি ডলার এবং অনুদান ২০ কোটি ডলার।

এর বিপরীতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাড় হয়েছে ৬২ কোটি ৮৯ লাখ ৮৭ হাজার ডলার বা পাঁচ হাজার ৩২১ কোটি টাকা। এ ছাড়া দ্বিতীয় এলওসির আওতায় প্রতিশ্রুতি ছিল ২০০ কোটি ডলার।

এর বিপরীতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাড় হয়েছে নয় কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার টাকা বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া তৃতীয় এলওসির আওতায় প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ৪৫০ কোটি ডলার। এর মধ্যে গত ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাড় হয়েছে ৬৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার বা প্রায় ৫৩ কোটি টাকা।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension