‘যত বড়ই ক্ষমতাধর হোক, বিচার হবেই’

রূপসী বাংলা নিউজ ডেস্ক: ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলার রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদালত নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। যারা বর্বর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল রায়ে তাদের সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে। এই রায়ে প্রমাণিত হলো, শেখ হাসিনার সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধ পরিকর। এই সরকার বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বিচার পাওয়ার সংস্কৃতিতে জাতিকে ফিরিয়ে এনেছে। জনগণকে এই বার্তা দিতে চাই, যত বড়ই ক্ষমতাধর হোক না কেন, শেখ হাসিনার সরকার বিচার করবেই।’

শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আনিসুল হক।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর গত ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে।

সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পক্ষে নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনেও সক্রিয় ছিল মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; টানা পাঁচ দিন যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যান প্রতিবাদী এই তরুণী।

নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। তদন্ত শেষে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাসহ ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)। গত ২০ জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরুর পর গতকাল অভিযুক্ত ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জনের মধ্যে ১২ জন স্বীকারোক্তি দিয়েছে। বিচারক মনে করেছেন, সবাই সমান অপরাধী, তাই ফাঁসির রায় দিয়েছেন।’

‘আমরা আশা করবো, নিম্ন আদালতের রায় উচ্চ আদালতেও তড়িৎগতিতে সম্পন্ন হবে। জনগণকে আমরা এ বার্তা দিতে চাই, যে যত ক্ষমতাধর হোক না কেন, শেখ হাসিনার সরকার বিচার করবেই।’

সংবিধানের আলোকে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘রায়ের সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে কাগজপত্র আসবে। কাগজপত্র এলে সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন বলে আশা রাখি।’

এছাড়াও নুসরাতের পরিবারকে যতদিন প্রয়োজন, ততদিন নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কোনো কুচক্রী মহল হুমকি দিলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *